২১ আগস্ট ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কুমিল্লায় যানবাহনে অস্বাভাবিক ভাড়া

  • ১৪৮ টাকার ভাড়া ২৫০, পাঁচ টাকার জায়গায় দশ

নিজস্ব সংবাদদাতা, কুমিল্লা, ৯ সেপ্টেম্বর ॥ কুমিল্লায় যানবাহনে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় চলছে। কুমিল্লা সিটি থেকে ঢাকার ভাড়া ১৪৭.৭০ টাকার পরিবর্তে আদায় হচ্ছে ২৫০ টাকা, জেলার চৌদ্দগ্রাম থেকে ঢাকার ভাড়া ১৯২.২৫ টাকার পরিবর্তে আদায় করা হচ্ছে ৩৫০ টাকা। এছাড়া কুমিল্লা নগরীতে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ১০ টাকার ভাড়া আদায় করা হচ্ছে ১৫ টাকা। এদিকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় ৫ টাকার ভাড়া আদায় করা হচ্ছে ১০ টাকা। এসব অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জে সংশ্লিষ্টদের যোগসাজশে চলছে লাখ লাখ টাকার বিদ্যুত চুরি। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে যাত্রীভাড়া আদায়ে এ ধরনের তুঘলকি কারবারে গাড়ির শ্রমিক-মালিকদের কাছে অসহায় হয়ে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। হরতাল-অবরোধ ও গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির নামে ঢাকা-কুমিল্লা-চট্টগ্রাম পথে ও নগরীতে যানবাহনে কয়েক দফা যাত্রীভাড়া বাড়ানো হলেও এ নিয়ে বিআরটিএসহ সংশ্লিষ্টরা নির্বিকার। জানা গেছে, কুমিল্লা থেকে ১০২ কিলোমিটার দূরত্বে প্রতি কিলোমিটার ১.৩৫ টাকা ও ব্রিজ ভাড়া ১০ টাকাসহ ঢাকার বাস ভাড়া বিআরটিএ’র হিসাব অনুযায়ী জনপ্রতি ১৪৭.৭০ টাকা নির্ধারিত থাকলেও রয়েল, এশিয়া, তিশা, কর্ডোভা পরিবহনের নন-এসি বাস ২০০ টাকা ও এসি বাস ২৫০ টাকা হারে আদায় করা হচ্ছে।

বিএনপি-জামায়াত জোটের হরতাল-অবরোধের আগে এসব নন-এসিতে ১৭০ ও এসি বাসে ২০০ টাকা হারে আদায় করা হতো। পরে হরতাল-অবরোধে নামে ওইসব বাসে ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় ভাড়া বৃদ্ধি করা হলেও তা আর কমানো হয়নি। এদিকে জেলার চৌদ্দগ্রাম থেকে ১৩৫ কিলোমিটার দূরত্বে বিআরটিএ’র ধার্য্যকৃত ১৯২.২৫ টাকার পরিবর্তে ঢাকা পথে স্টার লাইন পরিবহনের বাস নন-এসিতে আদায় করা হচ্ছে ২৭০ টাকা এবং ওই পরিবহনের এসি বাসে আদায় করা হচ্ছে ৩৫০ টাকা। এছাড়া সরকারের নির্দেশনা না থাকা সত্ত্বেও গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির অজুহাতে নগরীর কান্দিরপাড় থেকে পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড পথে ১০ টাকার ভাড়া আদায় করা হচ্ছে ১৫ টাকা। কান্দিরপাড় থেকে কোটবাড়ি পর্যন্ত ২০ টাকার ভাড়া ৩০ টাকা। এছাড়া বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির অজুহাত দেখিয়ে বিদ্যুতের দ্বারা রিচার্জেবল ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় ৫ টাকার ভাড়া আদায় করা হচ্ছে ১০ টাকা। নগরীর বিভিন্ন সড়ক ও আঞ্চলিক সড়কগুলোতেও বাস-সিএনজি ও অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহনে দেড়গুণ ও দিগুণ হারে গলাকাটা যাত্রীভাড়া আদায় করা হলেও বিআরটিএসহ সংশ্লিষ্টরা রয়েছেন নির্বিকার। সূত্র জানায়, নগরীতে শতাধিক পয়েন্টে সংশ্লিষ্টদের যোগসাজশে চোরাই বৈদ্যুতিক লাইনের মাধ্যমে অটোরিকশার রিচার্জেবল ব্যাটারি রাতের বেলায় চার্জ দিয়ে সরকারের লাখ লাখ টাকার বিদ্যুত চুরি করা হলেও এর বিরুদ্ধে বিদ্যুত বিভাগ কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় লোডশেডিং ও ভুতুড়ে বিলজনিত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বৈধ গ্রাহকদের। এ নিয়ে জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির বৈঠকে একাধিকবার কথা হলেও এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। বিআরটিএ সূত্র জানায়, বিআরটিএ’র কুমিল্লায় রেজিস্ট্রিকৃত বড় যাত্রী বাস রয়েছে ১৫৫টি, মিনিবাস ১০৬টি, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ৮ হাজার ৩২৩টি, ট্রাক ১৩২টি, ভাড়ায় চালিত কোন মাইক্রোবাসের রেজিস্ট্রেশন না থাকলেও প্রাইভেট মাইক্রোবাস রয়েছে ৬৭টি।

সূত্র জানায়, বিআরটিএ উল্লেখিত গাড়ির হিসাব জানালেও জেলায় বৈধ-অবৈধ মিলিয়ে এসব গাড়ির সংখ্যা হবে কমপক্ষে ২০-২৫ গুণ বেশি। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে বিআরটিএ কুমিল্লার উপ-পরিচালক একেএম মিজানুর রশীদ জানান, আমিও এশিয়া লাইন পরিবহনের নন-এসি বাসে ঢাকা থেকে ২০০ টাকায় রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লা এসেছি। তারা অতিরিক্ত ভাড়া কিভাবে নেয় তা খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে। এছাড়া সিএনজি’র ভাড়া নির্ধারণ নেই, এটা কন্টাক্টে চলে। নসিমন, করিমন, ভটভটিও রাস্তায় চলাচল করে- এগুলোরও ভাড়া নির্ধারণ নেই। এ বিষয়ে কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মোঃ হাসানুজ্জামান কল্লোল জানান, ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়টি আমি খোঁজ নিয়ে দেখব এবং কেউ অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করলে মালিক-শ্রমিক নেতৃবৃন্দকে ডেকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।