১৬ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ছাদ ধসে পড়ার আতঙ্কে স্কুলে আসে না শিক্ষার্থী

  • বার্থী তারা হাইস্কুল

খোকন আহম্মেদ হীরা, বরিশাল ॥ ‘স্কুলে ক্লাস করতে ভয় লাগে, তাই প্রায়ই স্কুলে আসি না। একটু বৃষ্টি হলেই ছাদ দিয়ে পানি ঢুকে ক্লাস রুমে পানি জমে যায়। তাই পায়ের নিচে ইট দিয়ে ক্লাস করতে হয়। এছাড়াও কখন যে ছাঁদের পলেস্তারা খসে মাথায় পড়ে আহত হতে হয়, সেই দুশ্চিন্তায়ও থাকতে হচ্ছে। খেলার মাঠে হাঁটু পানি। তাই দীর্ঘদিন থেকে সমাবেশ বন্ধ রয়েছে।’

এভাবেই আক্ষেপ করে কথাগুলো বলছিল, জেলার ১১০ বছরের পুরনো গৌরনদী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বার্থী তারা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র আবিদুর রহমান। একথা শুধু রহমানের একারই নয়; প্রায় একই সুরে বলছিল, ওই বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণীর অসংখ্য শিক্ষার্থী।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৯০৫ সালের ৮ জানুয়ারি স্থানীয়দের সহযোগিতায় তিন একর ৬২ শতক জমির ওপর প্রয়াত ভূপতি বকলা বার্থী তারা মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯০৭ সালে এ বিদ্যাপিঠটি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্বীকৃতি লাভ করে। প্রতিষ্ঠার ১১০ বছর পর আজ শ্রেণী কক্ষ সঙ্কট, পুরনো ভবনের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ায় প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ওই বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত প্রায় আটশ’ শিক্ষার্থীকে ক্লাস করতে হচ্ছে। নবম শ্রেণীর ছাত্রী জান্নাতুল ফেরদাউস জানায়, বিদ্যালয়ের পুরনো ভবন ও নতুন ভবনের দোতলার বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই ওই ফাটল দিয়ে বৃষ্টির পানি প্রবেশ করে শ্রেণী কক্ষে পানি জমে যায়। সম্প্রতি ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে সপ্তম শ্রেণীর তিন ছাত্র আহত হয়। এ ঘটনার পর থেকে স্কুলের অন্যান্য ক্লাসের শিক্ষার্থীরা আতঙ্কের মধ্যে ক্লাস করছে।

স্কুলের শরীরচর্চা শিক্ষক গোবিন্দ চন্দ্র নাগ বলেন, স্কুলের বিশাল মাঠ থাকা সত্ত্বেও সামান্য একটু বৃষ্টিতেই মাঠে হাঁটু সমান পানি জমে যায়। ফলে শিক্ষার্থীরা সমাবেশসহ খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সহকারী প্রধান শিক্ষক বি.এম ইদ্রিস আলী বলেন, বিদ্যালয়ে উল্লিখিত সমস্যা সমাধানের জন্য একাধিকবার স্থানীয় জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কর্মকর্তাদের লিখিতভাবে জানানো সত্ত্বেও কোন সমাধান হয়নি।

প্রাচীন এ স্কুলের নানা সমস্যার সত্যতা স্বীকার করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুদ হাসান পাটোয়ারী বলেন, ইতোমধ্যে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে স্কুল পরিদর্শনে পাঠিয়ে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। বিষয়টি উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। বরাদ্দ পেলে সমস্যাগুলোর সমাধান করা হবে।