২২ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

তিন কোটি টাকা নিয়ে ॥ উধাও আরডিপি

  • ১৬শ’ আমানতকারীর মাথায় হাত

স্টাফ রিপোর্টার, রংপুর ॥ মিঠাপুকুরের অতি দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সঞ্চয়ের প্রায় তিন কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে পালিয়ে গেছে জামায়াত-শিবির ঘরানার আরডিপি ফিন্যান্স এ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট নামীয় একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান। বাড়তি খানিকটা লাভের আশায় জীবনের সব পুঁজি এমনকি জমি বিক্রির অর্থও সেখানে জমা রেখে এখন পুরোপুরি নিঃস্ব তারা। তাদের দিন কাটছে দিনমজুরি করে খেয়ে না খেয়ে। জেলা প্রশাসনের তদন্তে বিষয়টি প্রমাণিত হবার পর সংশ্লিষ্ট সমবায় বিভাগকে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য নির্দেশনা দেয়া হলেও অজ্ঞাত কারণে তারা শুধু ওই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জনগণকে সচেতন করার জন্য লিফলেট বিলি করেই তাদের দায়িত্ব সম্পাদন করেছে।

মিঠাপুকুরের পথের ধারে বসে ইট ভাঙ্গার কাজ করেন বিধবা গোলেনুর বেগম। আশা ছিল সন্তানদের জন্য সুন্দর একটি ভবিষ্যত গড়ে তোলার। তাই মাথার ঘাম পায়ে ফেলে দিনরাত কষ্ট করে জমিয়েছিলেন কিছু অর্থ, কিনেছিলেন এক খ- জমিও। কিন্তু প্রতারক চক্রের খপ্পরে পড়ে সবকিছুই তুলে দেন তাদের হাতে। গোলেনুর জানান, প্রায় তিন বছর আগে এই প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা এসে তাকে নানাভাবে বুঝিয়ে তাদের দলে ভেরান। শুধু সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা ভেবেই তিনি সেখানে ৩ লাখ টাকার উপরে জমা করেন। এর মধ্যে তার জমি বিক্রির টাকাও রয়েছে। শুধু গোলেনুর বেগমই নয়, এমনিভাবে প্রতারিত হয়ে সর্বস্ব হারিয়েছেন একই এলাকার তারেমুন, রহিমা, ছবুর আলী, মর্জিনা বেগমসহ প্রায় ১৬শ’ মানুষ। প্রতারিত হয়েছে ওই অফিসের কর্মরত এক পিয়ন রুবেল মিয়া। রুবেল জানায়, প্রথমে তাকে ৬ হাজার টাকা বেতন দেয়ার কথা বলে পিয়ন পদে চাকরি দেয়। প্রথম কয়েক মাস নিয়মিত বেতন দিলেও পরে তা আটকে দেয়। এ অবস্থায় রুবেল লাভের আশায় বাসা থেকে এক লাখ টাকা এনে সেখানে জমা করেন। ওই টাকার বিপরীতে প্রথম দুই মাসে তাকে ১৫’শ টাকা করে লাভ দেয় তারা। এরপরও সবার টাকা নিয়ে পালিয়ে যায় তারা। এলাকার জামায়াত কর্মী মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম জানান, ওই প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি তাকে বোঝায় যে, তুমিও জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত, আমাদের এটাও জামায়াতের প্রতিষ্ঠান তোমরা যদি সদস্য না হও, তবে অন্যেরা আমাদের সহযোগিতা করবে কী করে? এভাবেই শত শত মানুষকে বুঝিয়ে তাদের অর্থ নিয়ে পালিয়ে যায় আরডিপি নামের ওই প্রতিষ্ঠানটি। দিশেহারা আমানতকারীদের এখন তাদের একটাই চাওয়াÑ বহুকষ্টে অর্জিত সঞ্চয়ের অর্থ ফিরে পাওয়া। মিঠাপুকুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন জানান, স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতের পরিচালনাধীন এই প্রতিষ্ঠানে আমানত রেখে নিঃস্ব মানুষ এখন প্রায়ই তার কাছে ধর্না দিচ্ছেন। কিন্তু তার কী করার আছে। তিনি জানান, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সমবায় বিভাগকে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলা হলেও অজ্ঞাত রহস্যে তারা জামায়াতেরই পক্ষ নিচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। আমানতকারীর আমানত নিয়ে অফিসে তালা দিয়ে পালিয়ে যাবার বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ড. এটিএম মাহবুব-উল-করীম জানান, আমানতকারীদের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় জেলা প্রশাসক বিভাগীয় সমবায় দফতরের যুগ্ম রেজিস্ট্রারকে ওই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু তারা তা করেননি। কেন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি এ বিষয়ে জানতে চাইলে সমবায় দফতরের যুগ্ম রেজিস্ট্রার আহসান কবীর ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, যেহেতু প্রতিষ্ঠানটি নারায়ণগঞ্জ থেকে রেজিস্ট্রেশন করেছে তাই আইনগত ব্যবস্থা নিলে সেখান থেকেই নিতে হবে। তারা শুধু লিফলেট বিলি করে মানুষকে সজাগ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। তবে এ বিষয়টি মানতে রাজি নন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক। তিনি জানান, রেজিস্ট্রেশন যেখানেই হোক তিনি হচ্ছেন স্থানীয় অথরিটি। তিনিই ব্যবস্থা নেবেন।