১৩ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

খাদ্য সঙ্কট ও ভাঙ্গনে দিশেহারা বানভাসি

জনকণ্ঠ ডেস্ক ॥ কুড়িগ্রামে বেড়েছে বানভাসিদের দুর্ভোগ। গাইবান্ধায় বাঁধ ভেঙ্গে নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া ফরিদপুর, রাজবাড়ী এবং মুন্সীগঞ্জে পদ্মার ভাঙ্গন তীব্র আকার ধারণ করেছে। খবর স্টাফ রিপোর্টার ও নিজস্ব সংবাদদাতাদের।

গাইবান্ধায় নতুন এলাকা প্লাবিত

ঘাঘট নদীর বন্যার পানির তোড়ে গোদারহাট সংলগ্ন গাইবান্ধা শহর রক্ষা সোনাইল বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধটির ভেঙে যাওয়া অংশ দিয়ে হু হু করে পানি ঢুকে আরও নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে গাইবান্ধা সদর ও ফুলছড়ি উপজেলার মানুষদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বন্যার পানিতে গাইবান্ধা-লক্ষ্মীপুর সড়কটি তলিয়ে যাওয়ায় পথচারী ও যানবাহন চলাচলে চরম দুর্ভোগে কবলে পড়তে হচ্ছে। বন্যাকবলিত ওইসব এলাকার মানুষরা বিশুদ্ধ পানি, শুকনো খাবার, টয়লেট সমস্যা, গো-খাদ্য সঙ্কটসহ নানা দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

কুড়িগ্রামে বানভাসিদের দুর্ভোগ

ব্রহ্মপুত্র, ধরলাসহ সবক’টি নদ-নদীর পানি হ্রাস পেতে শুরু করায় কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। তবে ব্রহ্মপুত্রের পানি এখনও বিপদসীমার ৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

বসতভিটা থেকে পানি ধীরগতিতে নামায় দুর্ভোগ কমেনি প্রায় ৫ লাখ বানভাসির। গবাদি পশু নিয়ে বাঁধে ও উঁচু স্থানে আশ্রয় নেয়া মানুষগুলো এখনও ঘরে ফিরতে পারেনি। বন্যাকবলিত এলাকায় দেখা দিয়েছে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সঙ্কট। ছড়িয়ে পড়ছে পানিবাহিত রোগ।

মুন্সীগঞ্জে পদ্মার পানি বিপদসীমার ওপরে

মুন্সীগঞ্জে পদ্মার পানি এখনও বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে বইছে। তাই এখনও নিম্নাঞ্চলে কিছু এলাকা জলমগ্ন রয়েছে। বুধবার সকালে ভাগ্যকূল পয়েন্টে পদ্মার পানির লেভেল ছিল ৬ দশমিক ৪০ মিটার। গত ২৪ ঘণ্টায় এখানে ৫ সেন্টিমিটার পানি হ্রাস পেয়েছে। তবে পদ্মার মাওয়া পয়েন্টে পানি ছিল বিপদসীমার ১ সেন্টিমিটার নিচে। এদিকে পদ্মা অববাহিকায় লৌহজংয়ের খড়িয়া, দক্ষিণ হলদিয়া এবং পুরনো মাওয়া ঘাটে নদী ভাঙ্গন এখনও বন্ধ হয়নি। নদীভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ এবং নিম্নাঞ্চলের পানিবন্দী মানুষ দুর্বিষহ জীবনযাপন করছে।

ফরিদপুরে খাদ্য সঙ্কট চরমে

ফরিদপুরের সদরপুরের পদ্মা ও আড়িয়াল খাঁর চরাঞ্চলের বন্যাকবলিত ৫টি ইউনিয়নে বন্যার পানি গত ৩ দিনে ৮ সেন্টিমিটার কমে বর্তমানে বিপদসীমার ৩২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বর্তমানে বন্যার পানি কমায় বানভাসি জনগণের খাদ্য ও আশ্রয় সঙ্কটে ভুগছে। ঘরবাড়িতে পানি ঢোকায় মানুষ উঁচু রাস্তায় গরু-ছাগল নিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। নলকূপ ডুবে যাওয়ায় বিশুদ্ধ পানির তীব্র সঙ্কট দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি নদী ভাঙ্গনের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ২০ দিনে পদ্মা আড়িয়াল খাঁ নদীর ভাঙ্গনে উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের প্রায় সাড়ে ৩ শতাধিক ঘরবাড়ি, মূল্যবান গাছপালা ও ৫ শতাধিক একর ফসলের মাঠ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

গোয়ালন্দে পদ্মার তীব্র ভাঙ্গন

গোয়ালন্দের কাছে দৌলতদিয়া পয়েন্টে পদ্মা নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় ৪ সেন্টিমিটার কমলেও বিপদসীমার ৩৪ সেমি উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে এ এলাকায় নদী ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে।

গত কয়েক দিনে দৌলতদিয়া ইউনিয়নের ৫শ’ পরিবারের প্রায় ১৫শ’ ঘরবাড়ি বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙ্গনের ঝুঁকিতে রয়েছে প্রায় ২ হাজার পরিবার। ইতিমধ্যেই ৫শ’ পরিবার নদী ভাঙ্গনের শিকার হয়ে বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। পানি বৃদ্ধির কারণে ক্ষতিগ্রস্তরা সরকারী সাহায্য কিছু কিছু এলাকায় সামান্য কিছুটা পেলেও নদী ভাঙ্গনে ক্ষতিস্তরা এখনো কোন সাহায্য পায়নি।