২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সুস্থ ধারার ছবি নির্মাণ করব

  • এফ আই মানিক

এখন কী নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন?

আল্লাহর রহমতে ভাল আছি। আমি চেয়েছিলাম আর বাণিজ্যিক ধারার ছবির কাজ করব না। এজন্য তিন বছর সিনেমা বানাইনি। তারপরও অনেকের অনুরোধে কয়েকটি বাণিজ্যিক ছবি নির্মাণ করছি। এছাড়াও ‘সেভেন হিরোস অফ দি ন্যাশন’, ‘হাজর বছরের শেষ্ঠ বাঙালি’সহ বেশকিছু সিনেমার কাজ শুরু করছি।

আপনার সিনেমার ভাল লাগা পেছনের গল্পটা শুনতে চাইÑ

১৯৭৪ সালে আমি ধানম-ি বয়েজ স্কুলে পড়ি। তখন শেখ কামাল সাহেব বটতলার একটা মিটিংয়ে আমাকে নিয়ে আসেন। তখন ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন ও ১৯৬৯ সালে গনঅভ্যুত্থানের বিষয়গুলো মনে দাগ কাটে। গণঅভ্যুত্থানের পর জহির রায়হান একটা ছবি নির্মাণ করলেন ‘জীবন থেকে নেয়া’। এ ছবিটা একটা শো চলার পর শো বন্ধ করে দেয়া হলো। তখন ঢাকা কলেজ ও ঢাকা ভার্সিটির ছাত্ররা বলাকার সামনে তুমুল আন্দোলন করলেন। একটি শো বন্ধ থাকার পর ম্যাটিনি শো থেকে সিনেমা শো চলা শুরু হলো। এসব আন্দোলন ও ‘জীবন থেকে নেয়া’ আমার ছবি বানানোর প্রতি বিশেষ অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে। পররবর্তী সময়ে নাটক লেখা শুরু করি। তারপর মহিউদ্দিন ফরুক সাহেব একদিন বললেন, তুমি যে ধরনের কাজ করো তাতে সিনেমায় কাজ করতে পারো। তারপর মহিউদ্দিন ফারুক সাহেব মহিলা সমিতিতে নিয়ে যান। তখন ছটকু আহমেদের লেখা ‘আলোকিত অন্ধকার’ নাটকের কাজ চলছিল। সেখানে সবার সঙ্গে পরিচয় হলো। আমার চলচ্চিত্রে শুরু এ জে মিন্টু সাহেবের হাত ধরে।

আপনি একক পরিচালক হিসেবে কাজ শুরু করেন কোন সালে?

১৯৮৬ সালে আমার একক পরিচালনায় প্রথম ছবি রিলিজ হয়। আমার সর্বশেষ রিলিজ হওয়া ছবি ‘দুই পৃথবী’সহ মোট ছবি রিলিজ হয়েছে ৫১টি। এসব ছবির মধ্যে অসংখ্য ছবি সুপার-ডুপার হিট হয়েছে।

৭০-৮০ দশকের মতো সিনেমা ও সিনেমার গান কী কারণে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে বলে আপনি মনে করেন?

আমার যেটা মনে হয় তখন সাদামাটা গল্প হলেও তখন শিল্পীরা যে অভিনয় করত, তখন অভিনয় দেখে মনেই হত না যে তারা অভিনয় করছে। একটা সিনেমার গল্প নিয়ে মাসের পর মাস বসা হতো। সিনেমায় জড়িত সকলেই একসঙ্গে এক হয়ে কাজ করত। মূল গল্প ছিল। গানগুলো অনেক সময় নিয়ে তৈরি করা হতো। পরবর্তী সময়ে ও এখন কপি গল্প ও গান করা হয়। আগের মতো কোনকিছুতেই সময় দেয়া হয় না। সবকিছুতেই কেমন জানি একটা তাড়া।

সিনেমার সোনালী দিন ফিরিয়ে আনতে কী করা উচিত বলে আপনি মনে করেন?

আমার মনে হয় উত্তরণের জন্য প্রত্যেক জেলায় সরকারী খাসজমিতে ব্যক্তি মালিকানায় একটা করে বৃহৎ শপিংমল করতে হবে, যেখানে আধুনিক দু থেকে তিনটি সিনেমা হল থাকবে। আধুনিক দোকানপাট ও ছেলেমেয়েদের জন্য আলাদা খেলাধুলার ব্যবস্থা থাকবে, ভাল ফুড কোর্ট থাকবে। পাশাপাশি এফডিসিকে উন্নত করতে হবে, নতুন প্রযুক্তি আনতে হবে এবং অনুদানের ছবিগুলোর বাজেট বাড়াতে হবে। যে টাকা দেয় তাতে ভাল ছবি হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই।

আমাদের সিনেমা উন্নয়নের জন্য অনেক পদক্ষেপ নেয়া হয় কিন্তু বাস্তবায়ন হয় না আপনি কী বলবেন?

আমার যেটা মনে হয় স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীকে উদ্যোগ নিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী জানেন, আমাদের দেশের ১৪০০ হল থেকে এখন মাত্র ৩০০ সিনেমা হল আছে। আর এখন ১৫০টিতে নিয়মিত সিনেমা চলে। অনেক জেলা আছে যেখানে ভাল সিনেমা হল নেই। আমাদের সিনেমার সঙ্গে জড়িত সকলকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তাহলে আমরা পারব আবার আমাদের সিনেমা ও গান হিট করাতে। আমাদের টেকনিশিয়ান যারা আছে তাদের কাজে লাগাতে হবে। আমাদের দেশের সিনেমা হলগুলো অনেক পুরনো। এসব হলের পরিবেশ উন্নত করতে হবে।