২৪ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মঞ্চে নিয়মিত হতে চাই-আবুল হায়াত

অভিনেতা, নাট্যকার ও নির্দেশক আবুল হায়াত। সম্প্রতি ৭২-এ পা রেখেছেন। দীর্ঘ এক যুগ পর মঞ্চে অভিনয়ে ফিরছেন কিংবদন্তি এই শিল্পী। সর্বশেষ মঞ্চে যে নাটকে অভিনয় করেছিলেন, সেই একই নাটকে একই চরিত্রে আবার অভিনয়ের মধ্য দিয়ে মঞ্চাভিনয়ে ফিরছেন তিনি। শিল্পকলা একাডেমিতে চলমান গঙ্গা যমুনা নাট্যোৎসবের অষ্টম দিন আগামীকাল সন্ধ্যা ৭টায় মঞ্চায়ন হবে নাটক ‘দেওয়ান গাজীর কিস্সা’। জার্মানির ব্রের্টল্ড ব্রেখটের গল্প থেকে নাটকটি রূপান্তর ও নির্দেশনা দিয়েছেন আসাদুজ্জামান নূর। নাগরিক নাট্যসম্প্রদায় প্রযোজিত নাটকটিতে তিনি মাখনের চরিত্রে অভিনয় করবেন। এ প্রসঙ্গে গুণী এই অভিনয়শিল্পীর সঙ্গে কথা হয় ।

দীর্ঘদিন পর মঞ্চে অভিনয় করতে যাচ্ছেন, কেমন লাগছে?

আবুল হায়াত : আমাকে খুব উত্তেজিত মনে হচ্ছে। কারণ, আমি তো মঞ্চেরই মানুষ। প্রায় ৩৫ বছর ধরে অভিনয় জীবনের শুরুটা হয়েছিল মঞ্চ দিয়ে। বিভিন্ন টিভি চ্যানেলের নাটক নিয়ে ব্যস্ত থাকার কারণে মঞ্চে সময় দিতে পারিনি। প্রায় এক যুগ পূর্বে বেইলী রোডের মহিলা সমিতি মিলনায়তনে ‘দেওয়ান গাজীর কিস্সা’ নাটকে মাখন চরিত্রে আমার শেষ অভিনয় ছিল। কাকতালীয় হলেও দীর্ঘদিন পর আবার সেই একই নাটকে, একই চরিত্র নিয়ে মঞ্চে হাজির হচ্ছি, এটা সত্যিই খুব আনন্দের।

নাটকে মাখনের চরিত্রটি নিয়ে আপনার কোন স্মৃতি আছে কি?

আবুল হায়াত : হ্যঁ একটা ছোট-খাটো স্মৃতি আছে বৈকি। আমি এ নাটকটির প্রায় সাড়ে তিনশ’ শো করেছি। আমি ১৯৭৮ সালে এতে অভিনয় করে সেরা পুরস্কার পেয়েছিলাম। তখন মঞ্চে কাজ করাটা ছিল নেশার মতো। আমার এখনও মঞ্চের প্রতি দুর্বলতা রয়েছে।

মঞ্চে আবার নিয়মিত হতে চান?

আবুল হায়াত : অনেক সংগঠন থেকে আমাকে ডাকা হয়। কিন্তু ওই যে বললাম টিভি নাটকের কারণে সময় দিতে পারি না। ২০০৩ সাল থেকে মঞ্চে আর সময় দিতে পারিনি। এখন আমি মঞ্চে নিয়মিত হতে চাই। মঞ্চকে ছাড়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়। আবার মঞ্চে অভিনয় করব ভাবলেই তাই শিহরিত হয়ে উঠছি।

অনেক ঘাত-প্রতিঘাতে জীবনের একাত্তরটি বছর পার করলেন, অনুভূতি কি?

আবুল হায়াত : দীর্ঘ এই পথ চলায় আমার এখনও ক্লান্তি আসে নাই। আমি যা চেয়েছি, তার চেয়ে পেয়েছি অনেক বেশি। মা-বাবা, স্ত্রী-কন্যা সবার কথা মনে পড়ে। আমার জীবনের দীর্ঘ এই সময়ে এদের অনেককে কখনও কখনও বঞ্চিত করেছি। কিন্তু তাদের থেকে কখনও ভালবাসার ঘাটতি অনুভব করিনি।

দীর্ঘ এই পথচলায় আপনার সাফল্য ও ব্যর্থতার কথা বলুন...

আবুল হায়াত : অভিনেতা হব প্রথম জীবনে কখনও ভাবিনি কিন্তু হয়েছি। সাফল্যের কথা যদি বলেন, তাহলে আগের কথার পুনরাবৃত্তিই করতে হয়। যা চেয়েছি তার চেয়ে পেয়েছি অনেক বেশি। ব্যর্থতার প্রসঙ্গে বলা যায়, অভিনয় জগতে আসার কারণে আমার প্রকৌশলী পেশায় কিছুটা হলেও অবহেলা করেছি। যতটুকু সময় দেয়া উচিত ছিল ততটুকু দিতে পারিনি এটাই আমার ব্যর্থতা।

আপনার কি মনে হয় কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছতে পেরেছেন?

আবুল হায়াত : আমার মনে হয়, কাক্সিক্ষত লক্ষ্যের অনেক বেশি দূরে পৌঁছে গেছি। এখন সমাজ সেবামূলক কিছু করতে চাই।

নতুনদের প্রতি আপনাদের উপদেশ কি?

আবুল হায়াত : নতুনদের সব সময় আমি পছন্দ করি। তাদের প্রতি আমার বক্তব্য, কখনও পুরনোদের প্রতি অবহেলা করবে না, কারণ তাঁরাই তোমাদের উপরে ওঠার সিঁড়ি।

আপনার বর্তমান ব্যস্ততা নিয়ে বলুন...

আবুল হায়াত : আসছে ঈদ উপলক্ষে দুটি নাটক নির্মাণ করছি। এর একটি হলো রাবেয়া খাতুনের গল্প অবলম্বনে ‘অন্তঃস্রোত’ এবং অন্যটি আমার নিজের লেখা নাটক ‘আগমন’। দুটি নাটকেই অভিনয় করবেন শাহেদ ও স্বাগতা। ‘অন্তঃস্রোত’ প্রচার হবে চ্যানেল আইতে এবং ‘আগমন’ একুশে টিভিতে প্রচারের সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া ১৭টি ধারাবাহিকে অভিনয় করছি। -গৌতম পাণ্ডে