১৬ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে আ.লীগ

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে আ.লীগ

অনলাইন রির্পোটার ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমরা যখনই সরকার গঠন করেছি, দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছি। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উন্নয়নে কাজ করেছি।’

আওয়ামী লীগ সরকার সব সময় আধুনিক পুলিশ বাহিনী আধুনিকায়নে গুরুত্ব দিয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ১১টায় রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে ৩৩তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের শিক্ষানবিস সহকারী পুলিশ সুপারদের শিক্ষা সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠান তিনি এ কথা বলেন।

প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারী নবীন কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ আপনাদের পেশাগত জীবনের একটি গৌরবোজ্জ্বল দিন। কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হতে চলেছে আপনাদের কঠোর মৌলিক প্রশিক্ষণ। এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পেশাগত জ্ঞান ও শৃঙ্খলার প্রতি যে আনুগত্যবোধ আপনারা অর্জন করেছেন, তা জনগণের শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় কাজে লাগাবেন, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

এ শুভক্ষণে তিনি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মরণ করেন। সেই সঙ্গে তিনি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদদের; যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন। এ ছাড়াও তিনি জাতীয় চার নেতাকে স্মরণ করেন। সেই সঙ্গে সমবেদনা জানান মুক্তিযুদ্ধে নির্যাতিত মা-বোন ও অগণিত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার প্রতি।

মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ ও যুদ্ধপরবর্তী সময়ে পুলিশ বাহিনীর অবদান অনস্বীকার্য। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী সর্বপ্রথম আক্রমণ চালায় রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে। এ সময় পুলিশের বীর সদস্যরা সামান্য ৩০৩ রাইফেল নিয়ে স্বাধীনতার প্রথম প্রহরে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।

তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের সঙ্গে লড়েছেন প্রায় ১৪ হাজার পুলিশ সদস্য। এ সময় শহীদ হয়েছেন সহস্রাধিক পুলিশ সদস্য।

তিনি বলেন, এই পুলিশ একাডেমির প্রিন্সিপ্যালসহ ২৪ জন শহীদ শায়িত আছেন পদ্মাতীরে। দেশমাতৃকার প্রতি এই মহান আত্মত্যাগের স্বীকৃতি স্বরূপ আমাদের সরকার ২০১১ সালে বাংলাদেশ পুলিশকে ‘স্বাধীনতা পদকে’ ভূষিত করে।

তিনি আরো বলেন, আমাদের লক্ষ্য একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় একটি যুগোপযোগী আধুনিক পুলিশ বাহিনী গড়ে তোলা। এজন্য আমরা বিভিন্ন বাস্তবমুখী ও জনবান্ধব কর্মসূচি গ্রহণ করেছি। বাংলাদেশ পুলিশের সাংগঠনিক কাঠামোতে ৭৩৩টি ক্যাডার পদসহ ৩২ হাজার ৩১টি পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। তথাপিও দেশের জনসংখ্যার অনুপাতে পুলিশের জনবল যথেষ্ট নয়।

তিনি বলেন, সে বিবেচনায় আমরা বাংলাদেশ পুলিশে আরো ৫০ হাজার নতুন পদ সৃষ্টির সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ইতোমধ্যে, ১০ হাজার পুলিশ সদস্যের নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি জনবলের নিয়োগ কার্যক্রম অচিরেই সম্পন্ন হবে।

তিনি বলেন, রংপুর ও গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ গঠনের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। বর্ধিত জনবলের সঙ্গে প্রয়োজনীয় যানবাহন ও অন্যান্য সরঞ্জামাদি সরবরাহের বিষয়টিও আমাদের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রী বিমান বাহিনীর একটি বিশেষ হেলিকপ্টারে করে রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে পৌঁছান।

সেখান থেকে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির নবনির্মিত অতিথি ভবন ‘তরুণিমা’ এবং প্যারেড গ্রাউন্ডের নবনির্মিত গ্যালারির উদ্বোধন করেন।

পরে ৩৩তম বিসিএস ব্যাচের শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তাদের অভিবাদন গ্রহণ করেন।

প্যারেড পরিদর্শন শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের মধ্যে পদক বিতরণ করেন। পদক বিতরণ শেষে তাদের উদ্দেশে প্রধান অতিথির ভাষণ দেন।

বিকেলে ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা দেওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী পদ্মানদীর তীরে নবনির্মিত অতিথি ভবন ‘ঊর্মি’ উদ্বোধন করবেন। এরপর শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের সঙ্গে আলোকচিত্র গ্রহণে অংশও নেবেন বলে জানা গেছে।