২৪ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আগামীকাল কিশোরগঞ্জের কানকাটি গণহত্যা দিবস

নিজম্ব সংবাদদাতা, কিশোরগঞ্জ ॥ আগামীকাল কিশোরগঞ্জের কানকাটি গণহত্যা দিবস। মহান মুক্তিযুদ্ধকালে ১১ সেপ্টেম্বর সদর উপজেলার কর্শাকড়িয়াইল ইউনিয়নের কানকাটি গ্রামের একটি হিন্দু পরিবারের ৭ জনসহ ৮ নিরীহ গ্রামবাসীকে পাকিস্তানী সেনারা স্থানীয় রাজাকার, আলবদর ও আলশামস বাহিনীর সহায়তায় ধরে নিয়ে যায়। এরপর তাদের গচিহাটা ধুলদিয়া রেলওয়ে সেতুর ওপর দাঁড় করিয়ে নৃশংস কায়দায় হত্যা করে নদীর পানিতে ভাসিয়ে দেয়। কিন্তু একজন শহীদদের লাশও স্বজনরা আর খুঁজে পায়নি। আর তাই এখনও কান্না থামছে না বেঁচে থাকা সংখ্যালঘু এ পরিবারের স্বজনদের।

জানা গেছে, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকার-আলবদর বাহিনী সেদিন কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় হামলা-লুটপাট চালায়। তখন কানকাটি গ্রামের সুরেশ চন্দ্র সরকার ছিলেন এলাকার মাতব্বর। প্রগতিশীল রাজনীতিক হিসেবে তিনি দেশের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। আর এটাই কাল হয়ে দাঁড়ায় কানকাটিবাসীর জন্য। মে মাসের প্রথমদিকে হানাদার বাহিনী এ গ্রামে নির্বিচারে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে। পরবর্তীতে ১১ সেপ্টেম্বর ওই গ্রামে দুঃস্বপ্নের মতো হানা দেয় স্বাধীনতাবিরোধীরা। স্থানীয় পিডিবি নেতা মাওলানা মুসলেহ উদ্দিন ও কর্র্শাকড়িয়াইলের তৎকালীন চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ মেনু মিয়ার নেতৃত্বে ৫০-৬০ জনের হানাদার বাহিনী নৌকায় করে এসে হামলা চালিয়ে অসংখ্য গ্রামবাসীকে ধরে নিয়ে যায়। রাজাকার আল বদর বাহিনী তখন সুরেশ চন্দ্র সরকার, তার দুই ভাই জ্ঞানচন্দ্র নন্দী, জয়চন্দ্র নন্দী, ভাতিজা মধুসূদন নন্দী, দুই নাতি হর্ষবর্ধন সরকার ও বিশ্ববর্ধন সরকারকে ধুলদিয়া রেলসেতুর কাছে নিয়ে নৃশংসভাবে গুলি করে হত্যা করে। একই সাথে হত্যা করা হয় কানকাটি গ্রামের কৃষক আব্দুল জব্বারকে। নারকীয় ও বর্বরোচিত এ হত্যাকা-ের সময় অনেকে বেঁচে যান সৌভাগ্যক্রমে। তাদেরকে এখনও তাড়িত করে সেদিনের দুঃসহ ভয়াল স্মৃতি।

হত্যাকা-ের দিন ভাগ্যক্রমে বেঁচে যাওয়া শহীদের সন্তান অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সুধীর চন্দ্র সরকার গণহত্যার বিবরণ দিয়ে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পর তিনি স্বজনদের হত্যার অপরাধে তৎকালীন ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ মেনু মিয়া, মীর হোসেন মেম্বার, সামছু মেম্বার, আব্দুল হেলিম এবং আব্দুল হাইসহ কয়েকজন রাজাকারের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন। তিনি এখনো স্বজনদের হত্যাকারী যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চান। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা নয় এমনকি অনেক রাজাকারের নাম মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় উঠেছে অথচ পরিবারের এতগুলো লোক জীবনকে উৎসর্গ করে গেছেন কিন্তু বিনিময়ে কিছুই পেলাম না’।

প্রতি বছর ১১ সেপ্টেম্বর এলেই কানকাটি গ্রামে স্বজনদের মধ্যে কান্নার রোল পড়ে। সারা গ্রামে দেখা দেয় শোকাতুর পরিবেশ। এই দিনে শহীদ সুরেশ সরকারের বসত ভিটায় আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে মুক্তিযোদ্ধা, রাজনীতিবিদসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অংশ নেন। আগামীকালও বিকেলে পুরাতন বসতভিটায় এরকম কর্মসূচি পালিত হবে বলে সুধীর চন্দ্র সরকার জানিয়েছেন।