১৩ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

চারশ’ কোটিতেই লেনদেন ঘুরপাক খাচ্ছে

  • সূচকের মিশ্রাবস্থা

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ সূচকের সামান্য ইতিবাচক প্রবণতায় দিন পারলেও দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) লেনদেন ৪০০ কোটি টাকার ঘরে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার সপ্তাহের শেষ লেনদেন দিবসে লেনদেন হয়েছে ৪৪৮ কোটি ২৯ লাখ টাকা। বুধবারের তুলনায় ৩২ কোটি ৫৬ লাখ টাকা লেনদেন বাড়লেও ৪০০ কোটি টাকার বৃত্ত থেকে বের হতে পারেনি ডিএসই। এই নিয়ে টানা ছয় কার্যদিবসে ডিএসইতে ৪০০ কোটি টাকার ঘরে লেনদেন হয়েছে।

বিনিয়োগকারীদের মুনাফা তোলার প্রবণতা বেড়ে যাওয়া এবং গত এক মাসের ব্যবধানে প্রাথমিক বাজারে (প্রাইমারী মার্কেট) দুই দুটি কোম্পানির আবেদন চলার কারণে কিছুটা মন্থর হয়ে পড়েছে পুুঁজিবাজার। একই সঙ্গে জুুন ক্লোজিং কোম্পানিগুলোর লভ্যাংশ এবং সদ্যসমাপ্ত প্রান্তিকের প্রতিবেদন নিয়ে কিছুটা সিদ্ধান্তহীনতাকেই দায়ী করেছে বাজারসংশ্লিষ্টরা। এছাড়া আগামী জুন মাসে তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোর পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ সীমা সংক্রান্ত কোন নির্দেশনা এখনও না আসাকেও কারণ হিসেবে দেখছেন অনেকেই। তাদের মতে, সরকারের পক্ষ থেকে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা সংক্রান্ত জটিলতা দ্রুত নিরসন জরুরী।

এদিকে বৃহস্পতিবারের বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সকালে ইতিবাচক প্রবণতা দিয়ে শুরুর পরে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্সের সামান্য বৃদ্ধি দিয়ে শেষ হয়েছে দিনের লেনদেন। বুধবারের তুলনায় ১.৭০ পয়েন্ট বেড়ে দিন শেষে সূচক গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৭৬০.১৪ পয়েন্টে। বুধবার সূচক কমেছিল ২৬.০২ পয়েন্ট। ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেয়া ৩২০টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দিন শেষে দর বেড়েছে ১৫৬টির, কমেছে ১১৭টির ও অপরিবর্তিত রয়েছে ৪৭টির দর। সিমেন্ট ও প্রকৌশল খাতের অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দর বাড়লেও অন্যান্য খাতে মিশ্রাবস্থায় শেষ হয়েছে দিনের লেনদেন।

দিনটিতে লেনদেনের শীর্ষে রয়েছে বিএসআরএম লিমিটেড। দিন শেষে কোম্পানিটির ১৬ কোটি ৮৫ লাখ ৩ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা স্কয়ার ফার্মার লেনদেন হয়েছে ১৩ কোটি ৪৩ লাখ ১৭ হাজার টাকা। ১২ কোটি ২০ লাখ ৫৯ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেনে তৃতীয় স্থানে রয়েছে এসিআই। এই তালিকায় অন্য কোম্পানিগুলো লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট, আমান ফিড, গ্রামীণফোন, হাইডেলবার্গ সিমেন্ট, আলহাজ টেক্সটাইল, লিন্ডে বাংলাদেশ, ইবনেসিনা।

দরবৃদ্ধির সেরা কোম্পানিগুলো হলো : আইসিবি এমপ্লয়ীজ ১ম মিউচুয়াল ফান্ড, মিরাকল ইন্ড্রাস্টিজ, আলহাজ টেক্সটাইল, বিএসআরএম লিমিটেড, নর্দার্ন জুটস, ইসলামী ইন্স্যুরেন্স, ইবনে সিনা, আরামিট, স্টাইল ক্রাফট ও প্রাইম লাইফ। দর হারানোর সেরা কোম্পানিগুলো হলো : এ্যাপেক্স ট্যানারি, ঝিল বাংলা, জাহিন টেক্সটাইল, জেমিনি সী ফুড, রহিম টেক্সটাইল, এশিয়া ইন্স্যুরেন্স, অলিম্পিক এক্সেসরিজ, ফনিক্স ফাইন্যান্স, খুলনা পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড এবং লঙ্কা বাংলা ফাইন্যান্স। একইভাবে দেশের অপর বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও সব সূচকের মিশ্রাবস্থা দেখা গেছে। সকালে ইতিবাচক প্রবণতা দিয়ে শুরুর পরে দেশের অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সিএসসিএক্স ৪.৫৪ পয়েন্ট বেড়ে দিন শেষে ৮ হাজার ৮৬৯.৮৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৩১ কোটি টাকা। লেনদেনে অংশ নেয়া কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৯৬টির, কমেছে ১১৮টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৪২টির দর। সিএসইর লেনদেনের সেরা কোম্পানিগুলো হলো : লিন্ডে বিডি, বিএসআরএম লিমিটেড, লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট, আরামিট সিমেন্ট, আমান ফিড, ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন এ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড, বিডি ওয়েল্ডিং, বিচ হ্যাচারী ও অলিম্পিক এক্সেসরিজ।