১৬ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মিয়ানমার থেকে আমদানি হচ্ছে শত শত টন পেঁয়াজ

  • কমে গেছে পেঁয়াজের দাম ॥ খুশি ক্রেতারা

এইচএম এরশাদ, কক্সবাজার ॥ মিয়ানমার থেকে শত শত টন পেঁয়াজ আমদানির ফলে স্থানীয় খোলাবাজারে পেঁয়াজের দাম কমে গেছে। ভোক্তা সাধারণের নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য হিসেবে পেঁয়াজের দাম বেশি হওয়ায় ইতোপূর্বে অনেকে অর্থনৈতিক টানাপোড়েনে পড়লেও বর্তমানে ওই অবস্থা আর নেই। ভোক্তা সাধারণ আগের তুলনায় কম মূল্যে পেঁয়াজ কিনতে পেরে অত্যন্ত খুশি। টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে মিয়ানমার থেকে টেকনাফ-মংডু সীমান্ত বাণিজ্যের আওতায় চলতি সেপ্টেম্বর মাসের ৯ দিনে ১,৩৪০.৮৬৪ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। তাছাড়া ওই ৯ দিনে ৭৯.৩০০ টন হলুদ এবং ১১৬.৬২০ টন আদা এসেছে। তাছাড়া আগস্ট মাসে ১৮৬.১০০ টন পেঁয়াজ, ১১২.৭১৬ টন হলুদ এবং ১,০৮৪.০৬৩ টন আদা আমদানি করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। আমদানিকারকগণ জানান, কোরবানি ঈদের আগে আরও অন্তত কয়েক হাজার টন পেঁয়াজ আমদানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে পরিদর্শনকালে দেখা গেছে, মিয়ানমার থেকে টেকনাফ-মংডু সীমান্ত বাণিজ্যের আওতায় আমদানিকৃত বন্দরে স্তূপ হয়ে রয়েছে পেঁয়াজ হলুদ ও আদা। নিয়োজিত শ্রমিকগণ জাহাজ থেকে সরাসরি পেঁয়াজ ট্রাকবোঝাই করে চলছে। ব্যবসায়ীগণ ট্রাকে ট্রাকে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাচ্ছেন পেঁয়াজের গাড়ি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মিয়ানমার থেকে টেকনাফ-মংডু সীমান্ত বাণিজ্যের আওতায় প্রচুর পরিমাণে পেঁয়াজ আমদানি হওয়ায় স্থানীয় খোলাবাজারে পেঁয়াজের দাম কমে গেছে। ভোক্তা সাধারণ আগের তুলনায় কম মূল্যে পেঁয়াজ কিনতে পেরে অত্যন্ত খুশি হচ্ছে।

একাধিক সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে টেকনাফ স্থলবন্দরের ব্যবসায়ীরা মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু করেন, ফলে খোলাবাজারে দর কমতে শুরু করে পেঁয়াজের। এতে বাজারে কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টিকারী মুনাফালোভী মহল বিপাকে পড়ে গেছে। তারা তড়িঘড়ি করে গোদামজাত করা পেঁয়াজ বাজারে ছেড়ে দেয়। টেকনাফ স্থলবন্দরের আমদানিকারকগণ বলেন, খোলাবাজারে পেঁয়াজের দাম বাড়তে থাকায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে আমরা পবিত্র কোরবানিকে সামনে রেখে পেঁয়াজ, আদা ও মসলা জাতীয় দ্রব্য আমদানি করতে দেখে গুদামজাতকারী সিন্ডিকেট তড়িত পেঁয়াজ বাজারে ছেড়ে দিয়েছে। মিয়ানমারের ব্যবসায়ীদের আমরা অগ্রিম টাকা দিয়ে প্রচুর পেঁয়াজের স্টক করিয়েছি। যা বর্তমানে আমদানি হয়ে আসতে শুরু করেছে। এ পেঁয়াজ যখন প্রতিদিন শত শত টন টেকনাফ স্থলবন্দর হয়ে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে গিয়ে জমা হচ্ছে, তখন কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টিকারী সুবিধাভোগী মহল তাদের গোদামজাত করা ভারত ও দেশের উৎপাদিত পেঁয়াজ বাজারে ছেড়ে সয়লাব করে দেয়। ফলে আমাদের আমদানি করা পেঁয়াজের দাম অর্ধেকে নেমে যায়।