২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ভ্যাটে স্থবির জনপদ ॥ বিক্ষোভে উত্তাল বেসরকারী ভার্সিটি

ভ্যাটে স্থবির জনপদ ॥ বিক্ষোভে উত্তাল বেসরকারী ভার্সিটি
  • সারাদেশে শিক্ষাঙ্গনে অসন্তোষ;###;রাজধানীতে শিক্ষার্থী বিক্ষোভ;###;ভয়াবহ যানজটে নাকাল ঢাকাবাসী

বিভাষ বাড়ৈ ॥ ভ্যাট আরোপ ও নতুন বেতন কাঠামোকে কেন্দ্র করে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে শিক্ষাঙ্গনে। ভ্যাট আরোপের ঘটনায় বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে বিক্ষোভ। বৃহস্পতিবার দিনভর রাস্তা অবরোধ করে ব্যাপক বিক্ষোভে পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ে দেশের সকল বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়। রাজধানী ছাড়াও চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেটে বিক্ষোভ ও অবরোধে চরম ভোগান্তিতে অসহায় হয়ে পড়েন সাধারণ মানুষ। হাজার হাজার শিক্ষার্থী রাজপথ দখল করে বিক্ষোভ করায় অচল হয়ে পরে রাজধানীর রাজপথ। ভয়াবহ যানজটে চরম দুর্ভোগে দুর্বিষহ হয়ে পরে সাধারণ মানুষের জীবন। এদিকে বেতন স্কেলে মর্যাদাহানির অভিযোগে আবার রবি ও সোমবার কর্মবিরতির ডাক দিয়েছেন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। স্কেলে সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেল বাদ দেয়ার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার কর্মবিরতি পালন করেছেন সারাদেশের সরকারী কলেজ ও সংশ্লিষ্ট দফতরের শিক্ষক-কর্মকর্তারা।

এর আগে বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর আরোপিত ভ্যাট বাতিলের দাবিতে রাজধানীর রামপুরা ব্রিজে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশের হামলায় শিক্ষকসহ অন্তত বিশজন আহত হন। বুধবার দুপুরে রামপুরার আফতাবনগর এলাকায় ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের উপর এই হামলা হয়। পুলিশ হামলার সময় লাঠি চার্জের পাশাপাশি বুলেট ছুড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা। এতে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এডিশনাল রেজিস্ট্রার মাহফিকুর রহমানসহ অন্তত ছয়জন। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও পুলিশ মিলিয়ে এই ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত বিশজন। ওই ঘটনার পর পরই অস্থিরতা বেড়ে যায় সকল বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে। বুধবার রাতেই শিক্ষার্থীরা ঘোষণা দেন, ‘বৃহস্পতিবার ভ্যাট প্রত্যাহার ও ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে রাজধানীর ৪ পয়েন্টে অবরোধ ও বিক্ষোভ করা হবে। সে অনুযায়ী কর্মসচিতে সকল বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যোগ দেয়ারও আহ্বান জানানো হয়। বিষয়টি বুধবার রাতেই গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ায় বড় ধরনের প্রস্তুতি নেন শিক্ষার্থীরা।

অর্থমন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ, ভ্যাট দেবে বিশ্ববিদ্যালয়- ব্যাখ্যা এনবিআরের ॥ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের আন্দোলন নিয়ে মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি বলেছেন, ‘আমার বক্তব্যের জন্য আমি দুঃখিত।’ তবে অর্থমন্ত্রী এও বলেছেন, ‘শিক্ষকদের আন্দোলনে আমি বিস্মিত হয়েছি। কারণ তারা সরকারী সিদ্ধান্ত না জেনেই আন্দোলন করছেন।’ বৃহস্পতিবার সিলেট সার্কিট হাউসে এক জরুরী সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের শিক্ষা জগতে বেশ ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে আমারই একটি মন্তব্য নিয়ে। আমার মনে হয় এই বিষয়টির নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন। আমি বলি যে, তাদের এই আন্দোলন অকারণে শুরু হয়েছে এবং এটা আমাকে গভীরভাবে পীড়া দেয় এজন্য যে, দেশের সবচেয়ে শিক্ষিত গোষ্ঠী একটি আন্দোলন করছেন। মন্ত্রী বলেন, ‘আমার বলার কথা ছিল যে, তারা প্রকৃত সুপারিশ এবং সর্বোপরি সরকারী সিদ্ধান্ত না জেনেই আন্দোলনে নেমে গেলেন। আমার বলা উচিত ছিল যে, তাদের আন্দোলনটি তাদের অনবহিতির জন্য, তারা সঠিক তথ্য জানতেন না বলে তারা আনইনফর্মড ছিলেন। অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমি যেভাবে বক্তব্যটি দিই তাতে অবশ্যই তাদের মানহানি হয়েছে। কারণ ‘জ্ঞানের অভাব’ বলা আর ‘যথাযথ তথ্য সম্বন্ধে অনবহিত’ বলার মধ্যে অনেক তফাৎ রয়েছে। আমি আমার বক্তব্য সম্বন্ধে খুবই দুঃখিত, তবে বিস্মিত যে তারা সরকারী সিদ্ধান্ত জানার আগেই আন্দোলনে নেমে গেলেন। আমার এই বক্তব্য যেভাবে সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, তা অনভিপ্রেত ছিল এবং আমি তা প্রত্যাহার করছি। এজন্য যারা ক্ষুব্ধ হয়েছেন বা দুঃখ পেয়েছেন তাদের কাছে বিনীত অনুরোধ, ভুল বুঝাবুঝির এখানেই সমাপ্তি হোক।

বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর ভ্যাটের বোঝা চাপানো যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী। তবে একই সঙ্গে বলেন, কোনভাবেই ভ্যাট প্রত্যাহার করা হবে না, এটা শিক্ষার্থীদের উপর চাপানো যাবে না। এটা দিতে হবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে। কাজেই ভ্যাট থাকলেও টিউশন ফি বাড়তে দেয়া যাবে না।

এদিকে বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর আরোপিত ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবিতে আন্দোলনের মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বলেছে, ওই কর পরিশোধের দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের, ছাত্র-ছাত্রীদের নয়। এনবিআরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সৈয়দ এ মু’মেন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বৃহস্পতিবার এই ব্যাখ্যা দেয়া হয়। এতে বলা হয়, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করার জন্য নতুন করে ভ্যাট আরোপ করা হয়নি। বিদ্যমান টিউশন ফির মধ্যে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ভ্যাট বাবদ অর্থ পরিশোধ করার দায়িত্ব সম্পূর্ণরূপে বেসরকার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের, কোনক্রমেই শিক্ষার্থীদের নয়। বিদ্যমান টিউশন ফির মধ্যে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকায় টিউশন ফি বাড়ার কোন ‘সুযোগ নেই’ বলেও এতে উল্লেখ করা হয়। জানা গেছে, এর আগেও কয়েকবার সরকারীভাবে একই বক্তব্য দেয়া হলেও তাতে সুফল পায়নি শিক্ষার্থীরা। বরং ঠিকই ভ্যাট আরোপের সঙ্গে সঙ্গে টিউশন ফি বাড়িয়ে দিয়েছে বহু বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ফলে আবারও বেতন ফি বৃদ্ধির আশঙ্কা দিয়ে এবার আন্দোলনে নামে শিক্ষার্থীরা। আরোপিত ভ্যাটের পরিমাণ ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে সাড়ে সাত শতাংশ করা হলেও প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্যোক্তা ও শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ প্রশমিত হয়নি এবার। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা এবার ঘোষণা দেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওপর ভ্যাট বসালেও তা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেই কোন না কোনভাবে আদায় করা হবে। ফলে শিক্ষার্থীদের পেছনে অভিভাবকদের ব্যয় আরও বেড়ে যাবে। বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির পক্ষ থেকেও চেয়ারম্যান শেখ কবির হোসেন এক বিবৃতিতে সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বলেন, কর আরোপ করা হলে বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা সংকুচিত হবে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের মাঝে অসন্তোষ বাড়বে। এতে প্রতিষ্ঠানগুলোতে অচলাবস্থার সৃষ্টি হবে এবং তার অতিরিক্ত অর্থ মূলত শিক্ষার্থীদেরই বহন করতে হবে। যা শিক্ষার্থীর পরিবারের ওপর যেমন বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে, তেমনি উচ্চশিক্ষার অগ্রগতিতে বিভিন্নভাবে বাধার সৃষ্টি করবে। দাবি নিয়ে নিজেদের করণীয় নির্ধারণে এক সঙ্গে গত বকে মাসে কয়েক দফা বৈঠক করেছেন বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোক্তারা। এরপর সমিতির চেয়ারম্যান শেখ কবির হোসেন, সাধারণ সম্পাদক বেনজির আহম্মেদ, ভাইস চেয়ারস্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান চৌধুরীসহ শীর্ষ নেতারা সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে সাক্ষাত করে অবিলম্বে বাজেটে আরোপিত কর প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছিলেন।

সর্বশেষ বৃহস্পতিবার শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করে বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় মালিক সমিতি। সমিতির সভাপতি শেখ কবির হোসেন বলেন, আমরা শিক্ষার ওপর ভ্যাট আরোপ না করার অনুরোধ করেছিলাম। ছাত্ররা রাজপথে নামুক তা আমরা চাইনি। এ জন্য তাদের রাস্তায় নামার আগে আমরা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। কিন্তু তারা তা শোনেননি। তিনি আরও বলেন, আমরা অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছিলাম, শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গেও কথা হয়েছে। তিনি একমত হয়েছিলেন যে শিক্ষার ওপর ভ্যাট আরোপ ভ্যাট ঠিক নয়, তা উঠিয়ে নেয়া হবে। তারপরও চলতি বাজেটের সাড়ে ৭ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে। এর বিরুদ্ধে ছাত্ররা যে আন্দোলন করছে তারা যেন তা শান্তিপূর্ণভাবে করে। তিনি জানান, সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ভ্যাট দিচ্ছে না। সরকারের শিক্ষানীতি হচ্ছে- শিক্ষার ওপর ভ্যাট নয়। তারপরও বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর ভ্যাট আরোপ যুক্তিসঙ্গত নয়। তবে কোন পক্ষের আহ্বানেই যে ভরসা পাচ্ছিলেন না শিক্ষার্থীরা তা বোঝা গেল বৃহস্পতিবারের বিক্ষোভ আন্দোলনে।

বিক্ষোভে অচল ঢাকায় চরম ভোগান্তি, দুর্ভোগ অন্য শহরেও ॥ ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি ও আন্দোলনরত ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ঘোষণা দিয়েই বৃহস্পতিবার রাজপথে নামে শিক্ষার্থীরা। সকাল থেকেই গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো অবরোধ করে বিভিন্ন সড়কে হাজার হাজার শিক্ষার্থী বিক্ষোভ করায় রাজধানীর সড়কগুলোতে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র যানজট। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামপুরা, ধানম-ি, গুলশান ও বসুন্ধরার ফটকে বিক্ষোভ শুরু হলে নগরজুড়ে ভোগান্তির সূচনা হয়। বেলা ২টার দিকে মহাখালী থেকে পুরো বিমানবন্দর সড়ক যানজটে স্থবির হয়ে থাকতে দেখা যায়। কোথাও সংঘর্ষ বা ভাংচুরের খবর পাওয়া না গেলেও যানজটের কারণে অবর্ণনীয় দুর্ভোগে পড়তে হয় নগরবাসীকে। বহু মানুষকে ভরদুপুরে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে হয় পায়ে হেঁটে। বুধবার রামপুরায় ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কর্মসূচীর মধ্যে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হলে এর প্রতিবাদে এবং ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবিতে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই রাস্তায় নামে সেখানকার আন্দোলনকারীরা।

শিক্ষার্থীরা একে একে উত্তরা, প্রগতি সরণির বসুন্ধরা আবাসিক গেট ও রামপুরা এলাকা, মহাখালীর ওয়্যারলেস গেট এবং ধানম-ি-২৭ নম্বর এলাকা ও আশুলিয়ায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। উত্তরার হাউজ বিল্ডিং এলাকায় শিক্ষার্থীদের অবরোধের কারণে বিমানবন্দরমুখী যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। একই অবস্থা চলে বাড্ডামুখী প্রগতি সরণিতে। এতে এসব অংশে যানজটের সৃষ্টি হয়; অন্যদিকে উত্তরা থেকে ফার্মগেটমুখী সড়কে দেখা দেয় যানবাহন সঙ্কট। বেলা ১১টার পর মহাখালীর ওয়্যারলেস গেট এলাকায় ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অবরোধের কারণে গুলশান-১ নম্বর থেকে আমতলী মোড়ের দিকে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে বাড্ডা থেকে গুলশানমুখী সড়কে, গুলশান-২ থেকে গুলশান-১ এর আশপাশের সড়কে এবং মহাখালীর আমতলী ও রেলগেট এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। রামপুরার আফতাবনগরে ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অবরোধের কারণে প্রগতি সরণির মেরুল বাড্ডা এবং রামপুরা ডিআইটি রোডে যানজট দেখা যায় দিনভর। ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কে আটকে থেকে যাত্রী ও পথচারীদের ভোগান্তি চরমে ওঠে। এ সময় বিমানবন্দর সড়কের খিলক্ষেত, কুড়িল বিশ্বরোড, এমইএস ও কাকলীতে শত শত মানুষকে গাড়ির প্রতীক্ষায় থাকতে দেখা যায়। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধের কারণে মহাখালীমুখী যানবাহন বন্ধ করে দেয়ায় গুলশান-১ নম্বর থেকে হেঁটেই রওনা হন অনেকে। গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের ছাত্রী রাকা নিউ মার্কেট থেকে উত্তরার উদ্দেশে বের হলেও বসে থাকেন ফুটপাথে। তিনি দুপুর ১২টার দিকে বলেন, সোবহানবাগে ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের কারণে মিরপুর রোডে তীব্র যানজট দেখা দিয়েছে। গাড়ি নাকি যাচ্ছে না তাই দুই ঘণ্টা ধরে অপেক্ষায় আছি। তীব্র যানজটের বিষয়ে ট্রাফিক পুলিশের এক সিনিয়র সহকারী কমিশনার দুপুরে আসাদ গেটে দাঁড়িয়ে বলছিলেন, আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চেষ্টা করছি। যানজট নিরসনের জন্য বিকল্প রাস্তা দিয়ে (রং সাইড) যানবাহন চলাচলের অনুমতি দিয়েছি। পুলিশ রাস্তায় হেঁটে হেঁটে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছে। দুপুর ১২টা থেকে উত্তরায় রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ নামে রাজধানীতে অবস্থিত প্রায় প্রতিটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। উত্তরা ইউনিভার্সিটি, বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি, সান্তা মারিয়াম ইউনিভার্সিটি, নর্দান ইউনিভার্সিটি ও এশিয়ান ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশসহ অনেক প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা নামেন রাজপথে। এ এলাকায় বিক্ষোভে এয়ারপোর্ট থেকে আবদুল্লাহপুর পর্যন্ত যান চলাচল বন্ধ থাকে দিনভর।

ধানম-িতে রাস্তার একপাশে বসে বিক্ষোভ করছেন স্টামফোর্ড, ড্যাফোডিল ও ল্যাবএইড ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা। এ কারণে নিউমার্কেট থেকে ধানম-ি ২৭ পর্যন্ত দেখা দেয় স্থবিরতা। শ্যামলী মোড়ে আশা ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করায় মিরপুর ও গাবতলী যাওয়ার রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। বারিধারার নর্দ্দা-নতুনবাজার-কুড়িল এলাকা অবরোধ করে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি ও ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা বলেন, আমাদের সবার পরিচয় আমরা শিক্ষার্থী। আমরা সবাই এখানে শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ করছি। আমাদের একটাই দাবি, শিক্ষার ওপর ৭ দশমিক ৫ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহার। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব। এনবিআরের ঘোষণা সম্পর্কে বিকেলে শিক্ষার্থীরা বলেন, এসব বলে লাভ নেই। যাই বলুক টাকাটা আমাদের ঘাড়েই বর্তাবে। ইতোমধ্যেই কয়েকটি প্রতিষ্ঠান টাকা বাড়িয়ে দিয়েছে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ফরুক আহমাদ আরিফ বলেন, ‘নো ভ্যাট অন এডুকেশন’-এর ব্যানারে ঢাকার ছয়টি পয়েন্টে বিক্ষোভ কর্মসূচী পালন করা হচ্ছে। ধানম-ি ২৭ নম্বরে চক্ষু হাসপাতালের সামনে, ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার প্রধান ফটকের সামনে, বনানী, মহাখালী ও উত্তরা হাউস বিল্ডিংয়ের সামনে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করবেন। এর মধ্যে ধানম-ি ২৭ নম্বর, রাপা প্লাজা, ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার প্রধান ফটকের সামনে ও চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি মোড়সহ বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ চলছে।

ফারুক আহমাদ আরও বলেন, রাজধানী ছাড়াও সাভারে গণবিশ্ববিদ্যালয়, শিকদার মেডিকেল কলেজ ও এনাম মেডিকেল কলেজ এই বিক্ষোভ কর্মসূচীতে অংশ নিয়েছে। চট্টগ্রাম রাজশাহী ও সিলেটেও এই বিক্ষোভ কর্মসূচী পালন হচ্ছে। তিনি বলেন, সারাদেশে বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় ৮৩টি, মেডিক্যাল কলেজ ৬৪টি ও প্রকৌশল কলেজ ১৭টি।

আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেটে ॥ ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি ও ঢাকায় শিক্ষার্থীদের হামলার প্রতিবাদে বন্দরনগরী চট্টগ্রামেও বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে।

নগরীর গুরুত্বপূর্ণ জিইসি মোড়সহ আশপাশের এলাকায় দীর্ঘ সময় যান চলাচল বন্ধ থাকায় ব্যাপক ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে নগরবাসীকে। খুলশী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুকান্ত চক্রবর্তী জানান, বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ১২টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী জিইসির মোড় অবরোধ করে রাখে। প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়, সাউদার্ন বিশ্ববিদ্যালয়, বিজিসি ট্রাস্ট বিশ্ববিদ্যালয়, ইস্ট ডেল্টা বিশ্ববিদ্যালয় এবং চিটাগং ইনডিপেনডেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এই অবরোধে অংশ নেয়। এ সময় বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর আরোপিত ভ্যাট প্রত্যাহারসহ বিভিন্ন সেøাগান দেন তারা। শিক্ষার্থীদের বেতনের ওপর ভ্যাপ আরোপের বিষয়টিকে ‘এক দেশে দুই নীতি’ উল্লেখ করে শিক্ষার্থীরা বলেছেন, সরকার দেশে প্রয়োজনীয় সংখ্যক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলতে না পারায় আমরা বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছি। তাই এক দেশে দুই নীতি মেনে নেয়া যায় না। প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএর শিক্ষার্থী জয়ন্ত সরকার বলেন, শিক্ষার মতো মৌলিক অধিকার খাতে রাষ্ট্রীয় বরাদ্দ কমিয়ে সরকার ক্রমাগত শিক্ষাকে বেসরকারী খাতে ছেড়ে দিচ্ছে। মন্ত্রী আমলারা যদি ভ্যাট ছাড়া দামী গাড়ি আমদানি করতে পারেন তবে আমরা কেন ভ্যাট দিয়ে পড়ালেখা করব।

আন্দোলনে যোগ দিলেন রাজশাহীতে অধ্যয়নরত বিভিন্ন বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও। দুপুরে রাজশাহী প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন তারা। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রাজশাহীর বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এএইচএম জুয়েল খান। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সেখানে উপস্থিত থেকে ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবিতে একাত্মতা প্রকাশ করেন। সংবাদ সম্মেলনে রাজশাহীর বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালগুলোর শিক্ষার্থীরা বলেন, টিউশন ফির ওপর সরকার যে সাড়ে ৭ শতাংশ কর ধার্য করেছে, তাতে শিক্ষাব্যয় আরও বেড়ে যাবে। এখন বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে কেবল উচ্চবিত্ত ঘরের সন্তানরা পড়েন না। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আসন সীমিত হওয়ায় অনেক মধ্যবিত্ত এমনকি নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তানরাও কষ্ট করে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন। এ অবস্থায় আবার কর ধার্য করা হলে অনেকেরই লেখাপড়া মাঝপথে থেমে যেতে পারে। সংবাদ সম্মেলনে চার দফা দাবি উত্থাপন করেন শিক্ষার্থীরা। দাবিগুলো হচ্ছে- কর প্রত্যাহার, সব বিশ্ববিদ্যালয়ে টিউশন ফির ক্ষেত্রে অভিন্ন নীতিমালা প্রণয়ন, ছাত্র সংসদ গঠন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে যে কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় শিক্ষার্থী প্রতিনিধির মতামত গ্রহণ। ১৫ দিনের মধ্যে দাবি মানা না হলে কঠোর আন্দোলনের হুমকিও দেন শিক্ষার্থীরা।

সিলেটেও ভ্যাটবিরোধী আন্দোলনে নেমেছেন বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। টিউশন ফির ওপর ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবিতে দিনভর সেøাগানে সেøাগানে মুখরিত ছিল নগরীর রাজপথ। ঢাকায় ভ্যাটবিরোধী আন্দোলন চলাকালে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় জড়িতদের বিচার দাবিও করা হয় সিলেটের কর্মসূচীতে। দুপুরে সিলেট নগরীর চারটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কয়েকশ’ শিক্ষার্থী মিছিল বের করেন। মিছিলটি নগরীর কোর্ট পয়েন্ট, চৌহাট্টা, সুরমা পয়েন্টে গিয়ে সমাবেশ করে। এ সময় সুরমা পয়েন্ট থেকে তালতলা সড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। সমাবেশের পর নগরীর সুরমা টাওয়ারের লিডিং ইউনিভার্সিটির সামনে থেকে আবারও মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি কোর্ট পয়েন্টে এসে শেষ হয়।

রবিবার ধর্মঘট ডেকেছে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন ॥ ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবিতে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রবিবার ধর্মঘট ডেকেছে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন। বৃহস্পতিবার সংগঠনটির সভাপতি সৈকত মল্লিক খবরটি নিশ্চিত করেন। সংগঠনটির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, দেশের বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিক্যাল এবং ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে শিক্ষার্থীদের টিউশন ফির ওপর সাড়ে ৭ শতাংশ হারে ভ্যাট প্রত্যাহার করাই এই ধর্মঘটের মূল উদ্দেশ্য। কর্তৃপক্ষ তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না করলে এরপর ২৪ ঘণ্টা হরতালের আহ্বান করা হবে। এদিকে আন্দোলনের মুখে টিউশন ফির সঙ্গে মূল্য সংযোজন করের (ভ্যাট) নামে নেয়া অর্থ ফেরত দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে ভ্যাটের বিষয়ে বৃহস্পতিবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রেস বিজ্ঞপ্তির পর এ ঘোষণা দেয়া হয়েছে। ভ্যাটের নামে নেয়া অর্থ ফেরত এবং সামনে আর কোন ভ্যাট নেয়া হবে না বলে ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষের ঘোষণার পর আন্দোলনরত ব্র্যাকের শিক্ষার্থীরা তাদের অবরোধও তুলে নিয়েছে।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আবার কর্মবিরতি ॥ বেতন কাঠামো পুনর্নির্ধারণের দাবিতে আগামী রবি ও সোমবার পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করবেন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা। তবে শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে ওই দিন তারা পরীক্ষা নেবেন।

বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সূর্যসেন হলে প্রভোস্টের কার্যালয়ে আন্দোলনরত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির জোট বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন বৈঠক করেছে। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বৈঠক চলে। ফেডারেশনের মহাসচিব ও সূর্যসেন হলের প্রভোস্ট এ এস এম মাকসুদ কামাল বৈঠকের পর বলেন, রবি সোমবারের কর্মসূচীর সিদ্ধান্ত শিক্ষকেরা আগেই নিয়েছিলেন। কর্মসূচীর মধ্যেও পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

মাকসুদ কামাল বলেন, এর মধ্যে সরকার যদি আলোচনার প্রস্তাব দেন, তাহলে শিক্ষকেরা অবশ্যই সে আলোচনায় যোগ দেবেন। সে ক্ষেত্রে কর্মসূচী নিয়ে তারা নতুন করে ভাববেন। এর আগেও একই দাবিতে কর্মবিরতিসহ বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করেছেন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। দেশে বর্তমানে ৩৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় আছে।

আগামী রবিবার ও বৃহস্পতিবার ফের পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করবেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষকরা। তবে পরীক্ষা এ কর্মসূচীর আওতামুক্ত থাকবে। চবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. আবুল মনছুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, শিক্ষকদের প্রায় চার মাসের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন এবং ন্যায্য দাবিসমূহের প্রতি কোন গুরুত্ব না দিয়ে ৮ম জাতীয় বেতন কাঠামো ঘোষণা করায় শিক্ষক সমাজ হতাশ ও ক্ষুব্ধ হয়েছে। তাই যতদিন আমাদের ন্যায্য দাবি-দাওয়া পূরণ হবে না ততদিন এ আন্দোলন চলবে। আর তারই কর্মসূচী হিসেবে আগামী রবিবার ও বৃহস্পতিবার শিক্ষকরা পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করবেন।

সরকারী ৩০৫ কলেজে কর্মবিরতি ॥ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আন্দোলন কর্মসূচীর পাশাপাশি এবার পূর্ণ দিবস কর্মবিরতি পালন করেছেন সরকারী কলেজের শিক্ষকরা। বৃহস্পতিবার সারাদেশের সরকারী কলেজগুলো এবং সমগ্র শিক্ষা দফতর ও অধিদফতরে পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করছেন শিক্ষকরা। সরকারের ঘোষিত ৮ম পে-স্কেলের অসন্তোষ প্রকাশ করে আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন সরকারী কলেজের শিক্ষক এবং বিভিন্ন শিক্ষা দফতরের কর্মকর্তারা। শিক্ষা সমিতির মহাসচিব আইকে সেলিম উল্লাহ খোন্দকার বলেন, ২৭০টি সরকারী কলেজ, তিনটি আলিয়া মাদ্রাসা, ১৪টি শিক্ষক প্রশিক্ষণ কলেজ ও ১৬টি কমার্শিয়াল কলেজে এ কর্মবিরতি চলেছে। কর্মবিরতির কারণে সরকারী কলেজগুলোতো ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ ছিল। করা হবে। বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির মহাসচিব আইকে সেলিম উল্লাহ খোন্দকার এ কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বর্তমানে কলেজের অধ্যাপকরা (সর্বোচ্চ পদ) চতুর্থ গ্রেডের কর্মকর্তা। সিলেকশন গ্রেড থাকায় এতদিন আংশিক অধ্যাপক গ্রেড-৩-এ যেতে পারতেন। কিন্তু সিলেকশন গ্রেড বাদ দেয়ায় এখন এই পথ বন্ধ হয়ে গেল। তিনি বলেন, বর্তমানে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা গ্রেড-৫ থেকে পদোন্নতি পেয়ে সরাসরি গ্রেড-৩ এ উন্নীত হন। অথচ শিক্ষকদের বেলায় গ্রেড-৫ থেকে পদোন্নতি হওয়ার পর গ্রেড-৪ এ উন্নীত করা হয়। এই বৈষম্য নিরসনেরও দাবি করে আসছেন তারা। কিন্তু সেটা নিরসন না করে উল্টো সিলেকশন গ্রেড বাতিল করায় শিক্ষকেরা আরও বৈষম্যের শিকার হবেন।

বেসরকারী শিক্ষকদের আনন্দ মিছিল ॥ এমপিওভুক্ত বেসরকারী শিক্ষক কর্মচারীদের পে-স্কেলে অন্তর্ভুক্ত করায় স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদ (স্বাশিপ) দেশব্যাপী আনন্দ সমাবেশ ও র‌্যালির আয়োজন করে। এরই অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আনন্দ সমাবেশ ও র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়। স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ শাহজাহান আলম সাজু’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন অধ্যক্ষ এমএ আউয়াল সিদ্দিকী, প্রফেসর সাজিদুল ইসলাম, অধ্যক্ষ শাহাদাৎ হোসেন রানা, উপাধ্যক্ষ মোশারফ হোসেন, উপাধ্যক্ষ হরিচাঁদ ম-ল সুমন, অধ্যাপক ফজলুর রহমান, অধ্যক্ষ সামসুল আলম, অধ্যক্ষ আঃ রহমান, বিলকিস জামান, অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান, অধ্যক্ষ মোকছেদুর রহমান, অধ্যক্ষ দেলোয়ারা ইসলাম, অধ্যক্ষ গোলাম মুর্তজা, সাইদুর রহমান পান্না প্রমুখ।

তীব্র যানজটের ঢেউ গাজীপুরেও ॥ নিজস্ব সংবাদদাতা গাজীপুর থেকে জানান, ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবিতে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবরোধ করে বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের কারণে সড়ক-মহাসড়কে সৃষ্ট যানজটের প্রভাব গাজীপুরেও পড়েছে। তীব্র যানজটে আটকা পড়ে গাজীপুরসহ উত্তরাঞ্চলের শত শত যানবাহন ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কসহ গাজীপুরের বিভিন্ন সড়কে দুপুর থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত স্থবির হয়ে আছে। যানজট এড়াতে গাজীপুরসহ দূরপাল্লার অনেক গাড়ির চালক ও শ্রমিকরা ওইসব পথে চলাচল থেকে বিরত রয়েছে। ফলে ভোগান্তিতে পড়েছে যাত্রীরা। পথে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকা পড়ে এবং গন্তব্যে যাওয়ার জন্য গাড়ি না পেয়ে অতিষ্ঠ যাত্রীদের অনেকেই হেঁটে গন্তব্যে রওনা হন। এতে প্রচ- গরমের মাঝে নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।

গাজীপুর ট্রাফিক বিভাগের সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন জানান, উত্তরাসহ রাজধানীতে বিভিন্ন বেসরকারী বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের কারণেই ওই যানজটের সৃষ্টি হয়। এর প্রভাব পড়ে উত্তরা থেকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুর সিটির বোর্ডবাজার এবং ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কসহ কামারপাড়া সড়কে। দুপুর ১২টার পর থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত ওই পথে যানজটে আটকে পড়ে শত শত যানবাহন ও হাজার হাজার যাত্রী। মহাসড়কে যানজটে আটকা পড়ে গাড়ি চলাচল অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়ার খবর পেয়ে চালকরা গাজীপুরসহ দেশের উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থান থেকে ওই মহাসড়কে চলাচলকারী বাস-ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন না ছেড়ে টার্মিনাল ও গ্যারেজগুলোতেই অবস্থান করে। এ ছাড়াও যানজট এড়াতে অনেক গাড়ি বিকল্প পথে গন্তব্যের উদ্দেশে যাওয়ার জন্য জেলার বিভিন্ন আঞ্চলিক সড়কে প্রবেশ করায় সে সব সড়কেও দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। ফলে রাজধানীমুখী গাজীপুরের প্রায় সব ক’টি সড়ক-মহাসড়ক যানজটের কবলে পড়ে। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার পর হতে গাড়ি থেমে থেমে চলাচল করতে শুরু করলেও যানজটের লম্বা টেইল ছিল।