১৮ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বন্ধু হিসেবে গণমানুষের আস্থা অর্জন করুন

বন্ধু হিসেবে গণমানুষের আস্থা অর্জন করুন
  • সারদায় শিক্ষানবিস এএসপিদের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজে প্রধানমন্ত্রী

মামুন-অর-রশিদ, রাজশাহী থেকে ॥ পুলিশকে জনগণের পরম বন্ধুর পরিচয় দিতে আইনী সেবা দিয়ে গণমানুষের আস্থা অর্জন করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘পুলিশের সকল সদস্যকে ঔপনিবেশিক ধ্যান-ধারণা থেকে বেরিয়ে এসে মানুষের সেবায় নিয়োজিত করতে হবে। জনগণের দোরগোড়ায় পুলিশী সেবা পৌঁছে দেয়ার জন্য সরকার পুলিশ ফোর্সকে সার্ভিসে রূপান্তরের লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ১১টায় রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে ৩৩তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের শিক্ষানবিস সহকারী পুলিশ সুপারদের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথির ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম পর্যায়ে ৩২ হাজার এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে ৫০ হাজার জনবল নিয়োগের পরিকল্পনা গ্রহণ করি। রাজস্ব ও উন্নয়ন বাজেটের অর্থায়নে ২৭ নতুন ব্যারাক, ৬২ ফাঁড়ি, ৭৩ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র, ৩৮ মহিলা ব্যারাক, আবাসিক কোয়ার্টার নির্মাণ, ১৭১ নতুন থানা ভবন নির্মাণ, ৪৫ জেলায় পুলিশ সুপারদের অফিস ভবন উর্ধমুখী সম্প্রসারণ করে সিআইডির ৪৫ নতুন অফিস স্থাপন, ৫০ হাইওয়ে আউট পোস্ট, ১২ র‌্যাব কমপ্লেক্স, একটি র‌্যাব ট্রেনিং স্কুল কমপ্লেক্স, পুলিশ রিফর্ম প্রোগ্রাম (২য় পর্যায়) প্রকল্পের আওতায় ২১ থানাকে মডেল থানায় রূপান্তর এবং ছয়টি ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার নির্মাণসহ অন্যান্য অত্যাবশ্যকীয় স্থাপনা নির্মাণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এছাড়া সাইবার ক্রাইম তদন্তে দক্ষতা বাড়াতে বিশেষ প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ পুলিশকে একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় একটি যুগোপযোগী আধুনিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য বিভিন্ন বাস্তবমুখী ও জনবান্ধব কর্মসূচী বাস্তবায়ন করেছি। দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী পুলিশ পরিদর্শক পদকে দ্বিতীয় শ্রেণীর গেজেটেড পদ থেকে প্রথম শ্রেণীর (নন-ক্যাডার) গেজেটেড পদে এবং উপপরিদর্শক ও সার্জেন্ট পদকে তৃতীয় শ্রেণীর পদ থেকে দ্বিতীয় শ্রেণীর গেজেটেড পদে উন্নীত করেছি। আমাদের সময়েই ১২ হাজার ৯৩৩ পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যদের পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। রেশন ৬০ ভাগ থেকে শতভাগে উন্নীত করেছি।

তিনি বলেন, বিশ্বায়নের এই যুগে অপরাধ তদন্তে যুগোপযোগী ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে অপরাধ দমন ও উদ্ঘাটন সম্ভব নয়। তাই সাইবার ক্রাইম, মানি লন্ডারিং, আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক জঙ্গীবাদ এবং সন্ত্রাসী কর্মকা- প্রতিরোধে আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগ ঘটাতে হবে। সেই লক্ষ্যে পুলিশ বাহিনীকে উন্নত প্রশিক্ষণ ও তথ্য প্রযুক্তির প্রয়োগকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছি। অপরাধ ও অপরাধী শনাক্তকরণে পুলিশের আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিতকরণে আমরা বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রকে আধুনিক ও যথাযথ মানসম্পন্ন করার জন্য জনবল বৃদ্ধিসহ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন সাধন করে চলেছি।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ও গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরিয়ে এনেছি। এদেশে সংবিধানকে সমুন্নত করার পাশাপাশি গণতন্ত্রকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছি। আমরা জঙ্গীবাদ শক্ত হাতে দমনের মাধ্যমে এ দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা বিনাশের সকল অপচেষ্টা প্রতিহত করতে শতভাগ সমর্থ হয়েছি। পুলিশের আন্তরিক সহযোগিতার মাধ্যমে চরমপন্থীদের আইনের আওতায় আনতে পেরেছি। স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি দমনেও আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা ছিল জনগণের কাছে আমাদের অন্যতম অঙ্গীকার। ইতোমধ্যে কিছু রায় কার্যকর হতে শুরু হয়েছে। ইনশাআল্লাহ্ একে একে সকল যুদ্ধাপরাধীর বিচার এদেশের মাটিতে সম্পন্ন করা হবে।

শিক্ষানবিস সহকারী পুলিশ সুপারদের উদ্দেশ্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা দেশে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে চাই। খাদ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, বিদ্যুত, আইন-শৃঙ্খলার মতো জনগুরুত্ব সম্পন্ন প্রতিটি ক্ষেত্রেই আমরা ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। এই পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আপনাদের সেবার মান কাক্সিক্ষত পর্যায়ে উন্নীত করতে হবে। মৌলিক ও মানবাধিকারকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে।

সমাজের নারী, শিশু ও প্রবীণদের প্রতি সংবেদনশীল আচরণ করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আসুন, আমরা সবাই মিলে নতুন প্রজন্মের কাছে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ উপহার দেয়ার প্রত্যয়ী হই।

বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির অধ্যক্ষ নাঈম আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক, ফজলে হোসেন বাদশা এমপি, রাজশাহীর সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন ও পুলিশ মহাপরিদর্শক একেএম শহীদুল হকসহ পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

৩৩তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের শিক্ষানবিস সহকারী পুলিশ সুপারদের সমাপনী কুচকাওয়াজে ২৬ নারীসহ মোট ১৬১ প্রশিক্ষণার্থী অংশ নেন। এর মধ্যে অশ্বারহণে এএসপি ফারুক হোসেন এবং সর্ব বিষয়ে রেজওয়ানা চৌধুরী এবং পঙ্কজ বড়ুয়াকে পুরস্কৃত করা হয়।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী সকাল সাড়ে ১০টায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে পৌঁছান। প্রথমেই তিনি বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে নবনির্মিত অতিথি ভবন ‘তরুণিমা’ এবং প্যারেড গ্রাউন্ডের নবনির্মিত গ্যালারি উদ্বোধন করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৩৩তম বিসিএস ব্যাচের শিক্ষানবিস সহকারী পুলিশ সুপারদের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে অভিবাদন গ্রহণ করেন। এছাড়া প্র্রধান অতিথির ভাষণ শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মা তীরে নবনির্মিত অতিথি ভবন ‘ঊর্মি’ উদ্বোধন শেষে শিক্ষানবিস সহকারী পুলিশ সুপারদের সঙ্গে আলোকচিত্র গ্রহণে অংশ নেন।