১৮ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বাস-মিনিবাসে আগামী মাস থেকে প্রতি কিমিতে ভাড়া বাড়ল ১০ পয়সা

  • নবেম্বর থেকে অটোরিক্সায় প্রথম দুই কিমিতে বাড়তি দিতে হবে ১৫ টাকা ॥ যাত্রী কল্যাণ সমিতির প্রত্যাখ্যান

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে বাস-মিনিবাস ও অটোরিক্সার ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করেছে সরকার। পহেলা অক্টোবর থেকে প্রতি কিলোমিটারে বাস ভাড়া এক টাকা ৭০ পয়সা ও মিনিবাসে এক টাকা ৬০ পয়সা করা হয়েছে। এক নবেম্বর থেকে অটোরিক্সায় প্রথম দুই কিলোমিটারে দিতে হবে ৪০ টাকা। মালিকদের জমা বাড়িয়ে ৬০০ টাকার স্থলে করা হয়েছে ৯০০ টাকা। তবে আন্তঃজেলা রুটে বাসের ভাড়া বাড়বে না। গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষিতে নতুন করে ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ে এক বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে ভাড়া বৃদ্ধির ঘোষণা দেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এদিকে গণপরিবহনের বর্ধিত ভাড়া প্রত্যাখ্যান করেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ভাড়া নির্ধারণ কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী ঢাকা ও চট্টগ্রামের দুই সিটিতে আগে কিলোমিটারপ্রতি বাস ভাড়া ছিল এক টাকা ৬০ পয়সা। মিনিবাসের কিলোমিটারপ্রতি ভাড়া ছিল এক টাকা ৫০ পয়সা। এখন উভয় বাসেই ১০ পয়সা করে বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া বাসে ৭ টাকা ও মিনিবাসে ৫ টাকা সর্বনিম্ন ভাড়া বহাল রাখা হয়েছে। ঢাকা ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন অথরিটির (ডিটিসিএ) আওতায় হওয়ার মানিকগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, মুন্সীগঞ্জ, নরসিংদীসহ পাঁচ জেলায় ঢাকা-চট্টগ্রামের বাস ও মিনিবাসের ভাড়া আদায় করা হবে।

সিএনজিচালিত অটোরিক্সার ক্ষেত্রে দুই সিটি কর্পোরেশনে প্রথম দুই কিলোমিটারের ভাড়া ২৫ টাকার স্থলে ৪০ টাকা করা হয়েছে। সর্বনিম্ন ভাড়াও তাই। পরবর্তী প্রতি কিলোমিটারের ভাড়া সাত টাকা ৬৪ পয়সার স্থলে ১২ টাকা করা হয়েছে। যানজট বা অন্য কোন কারণে রাস্তায় বিরতিকালে প্রতি মিনিটের ভাড়া এক টাকা ৪০ পয়সার স্থলে ২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। মন্ত্রী জানান, সরকার নির্ধারিত অটোরিক্সার ভাড়া মেনে চলতে মিটার মেরামতের জন্য পরিবহন মালিকরা সময় চেয়েছেন। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাদের এক নবেম্বর পর্যন্ত সময় দেয়া হয়েছে। এ দিন থেকেই ভাড়া কার্যকর করার কথা জানান সড়ক পরিবহনমন্ত্রী।

সরকার নির্ধারিত ভাড়া পরিবহন মালিকদের পক্ষ থেকে না মানার বিষয়ে আছে বিস্তর আলোচনা। অর্থাৎ যাত্রীদের কাছ থেকে সকল গণপরিবহন থেকে বাড়তি ভাড়া আদায় করা হয়। তাই দুই মহানগরীতে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে বাড়তি অর্থ যেন কোনভাবেই যাত্রীদের কাছ থেকে আদায় করা না হয় এ জন্য বিআরটিএ পরিচালকের (প্রশাসন) নেতৃত্বে ১১ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, অটোরিক্সা চালকদের মিটারে ভাড়া নেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে। বাস-অটোরিক্সার ভাড়া নির্ধারিত হারে নেয়া হচ্ছে কিনা মন্ত্রণালয় তা কঠোরভাবে মনিটর করবে।

যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি অর্থ আদায় করলে পরিবহন চালকদের বিরুদ্ধে করণীয় সম্পর্কে জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, কেউ বাড়তি অর্থ আদায়ের চেষ্টা করলে যাত্রীরা পুলিশকে জানাবেন। পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। এছাড়া একটি মনিটরিং কমিটি তো থাকছেই। পাশাপাশি বিআরটিএ ভ্রাম্যমাণ আদালত তো আছেই। তিনি বলেন, আমরা চেষ্টা করছি গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার। আগের চেয়ে পরিস্থিতি অনেক ভাল হওয়ারও দাবি করেন মন্ত্রী।

সড়কমন্ত্রী বলেন, ভাড়া নির্ধারণের জন্য দুটি কমিটি কাজ করেছে। সবকিছু সমন্বয় করেই ভাড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলে পরিবহনের ওপর প্রভাব পড়বেই। তার মানে যাত্রীদের বাড়তি ভাড়া গুনতে হবে। আমাদেরও এ জন্য অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হয়। তাই ভাড়া বৃদ্ধির প্রক্রিয়ার দায় আমরাও এড়াতে পারি না।

ওবায়দুল কাদের বলেন, অতীতের অনেক সিদ্ধান্তই বাস্তবায়ন হয়নি। ফ্রিস্টাইলে ভাড়া বাড়ানোর ঘটনাও আমরা দেখেছি। আমরা চাই না এই অবস্থা চলতে থাক। বাসে ও অটোরিক্সায় ভাড়ার তালিকা প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

আসন্ন ঈদ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, অতি বর্ষার কারণে রাস্তার অবস্থা কোথাও কোথাও খারাপ হয়েছে। আবার কোথাও কাজের মান খারাপ হওয়ায় রাস্তা ভেঙেছে। রাস্তা ভাঙ্গার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তির আওতায় আনা হচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, মান যারা খারাপ করেছেন মন্ত্রণালয় তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে। চন্দ্রা ও বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিমপাড়ে যানজট নিয়ন্ত্রণ ও সড়ক দুর্ঘটনারোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান তিনি। রাস্তার ওপর সিটি কর্পোরেশন কোন পশুর হাট ইজারা দিতে পারবে না এ কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, মহাসড়কেও কোন পশুর হাট বসতে দেয়া হবে না। ২২ মহাসড়কে অটোরিক্সা চলাচল নিষিদ্ধ করে সড়ক দুর্ঘটনা কমার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে জেলা শহরগুলোতেও নসিমন, করিমন, ভটভটিসহ অনুমোদনহীন যানবাহন চলা বন্ধ করা হবে। আন্তঃজেলা রুটে দূরপাল্লার কোন বাসের ভাড়া না বাড়ার কথাও জানান মন্ত্রী।

সভায় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এমএএন ছিদ্দিক, বিআরটিএ’র চেয়ারম্যান মোঃ নজরুল ইসলাম, ডিটিসিএ’র নির্বাহী পরিচালক মোঃ কায়কোবাদ হোসেন, সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ, সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলীসহ ডিএমপি, সিএমপির প্রতিনিধি ছাড়াও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উর্ধতন কর্মকর্তাগণ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

বর্ধিত ভাড়া প্রত্যাখ্যান ॥ গণপরিবহনের বর্ধিত ভাড়া প্রত্যাখ্যান করেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। বর্ধিত এ ভাড়া সঠিক ব্যয় বিশ্লেষণ করা হলে বর্তমান বিদ্যমান ভাড়া আরও কমে আসত। এই ভয়ে সরকারের সংশ্লিষ্টরা যাত্রী প্রতিনিধি বাদ দিয়ে শুধু মালিক শ্রমিকদের নিয়ে বৈঠক করেছেন। যা মালিক শ্রমিকদের লাভবান করার স্বার্থ সংরক্ষণ করা হয়েছে। এতে যাত্রীস্বার্থ চরমভাবে উপেক্ষিত হয়েছে। বর্তমানে বিদ্যমান ভাড়া নৈরাজ্যকে আরও উস্কে দেয়া হয়েছে। ফলে দেশের সাধারণ জনগণের ভোগান্তি বাড়বে। তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই দাবি করে সংগঠনটি। একই দাবিতে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক প্রতীকী অনশন ও ভাড়া বাড়ানোর প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বিবৃতিতে বর্ধিত বাস ভাড়া প্রত্যাহার করে মালিক শ্রমিক যাত্রী প্রতিনিধি নিয়ে ভাড়া নির্ধারণ কমিটি পুনর্গঠন করে ভাড়া কমানোর উদ্যোগ নেয়ার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্টদের প্রতি দাবি জানায় সংগঠনটি। নেতারা অভিযোগ করে বলেন, জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির আগেই মালিক-শ্রমিকদের স্বার্থে সিএনজিচালিত অটোরিক্সার ভাড়া ৬০ ভাগ বাড়াতে বিআরটিএর প্রচেষ্টা চালায়। নামে মাত্র জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি পেলেও বাস ভাড়া কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে।

বিবৃতিতে তারা আরও বলেছেন, ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীর পুরনো লক্কড়-ঝক্কড়, মেয়াদোত্তীর্ণ বাস ও অটোরিক্সার ভাড়া নতুন গাড়ি দেখিয়ে বৃদ্ধি করা যাত্রীদের সঙ্গে প্রতারণা করার শামিল। পুরনো এবং নতুন গাড়ির আলাদা আলাদা ভাড়া নির্ধারণ করা জরুরী। যাত্রী সাধারণের প্রতিনিধির মতামত উপেক্ষা করায় মালিক-শ্রমিকদের স্বার্থ একচেটিয়াভাবে প্রাধান্য পেয়েছে। যা বর্তমান সরকারের গণমুখী নীতির পরিপন্থী।