১১ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

অভিজিত ও অনন্ত হত্যায় গ্রেফতার আরও ৩

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বহুল আলোচিত বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক মুক্তমনা ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা, লেখক, প্রকৌশলী ড. অভিজিত রায় ও সিলেটে মুক্তমনা ব্লগার অনন্ত বিজয় দাশ হত্যায় জড়িত সন্দেহে আরও ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে নিষিদ্ধ জঙ্গী সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের আধ্যাত্মিক নেতা কারাবন্দী মুফতি জসীমুদ্দীন রাহমানীর ভাই জঙ্গী সংগঠনটির বর্তমান প্রধানও রয়েছেন। এ নিয়ে দুটি হত্যাকা-ে ৭ জন করে গ্রেফতার হলো। বুধবার ভোর ৫টায় রাজধানীর ফকিরাপুল থেকে র‌্যাব-৩ এর একটি দল নিষিদ্ধ জঙ্গী সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের আধ্যাত্মিক নেতা কারাবন্দী মুফতি জসীমুদ্দীন রাহমানীর ছোটভাই এবং জঙ্গী সংগঠনটির বর্তমান প্রধান মোঃ আবুল বাশার, প্রচার শাখার জুলহাস বিশ্বাস ও জাফরান আল হাসানকে গ্রেফতার করে।

গ্রেফতারকৃতদের বরাত দিয়ে র‌্যাবের লিগ্যাল এ্যান্ড মিডিয়া বিভাগের পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান জানান, রমজান ও নাঈম অভিজিত রায় ও অনন্ত বিজয় দাশ হত্যাকা-ে সরাসরি জড়িত। তারা আল কায়েদা ও আইএস সম্পর্কে আলোচনার জন্য মাঝে মধ্যেই ইতোপূর্বে গ্রেফতারকৃত সাদেক আলী মিঠুর বাসায় যাতায়াত করত। সাদেক আলী মিঠু ওরফে সাদিক তাদের জিহাদী বই দিত এবং আইএস কর্তৃক বিভিন্ন দেশ দখল, মুসলমানদের নির্যাতন ও জিহাদী ভিডিও দেখাত। রমজান ওরফে সিয়াম ও নাঈমকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে অভিজিত রায়কে এবং গত ১২ মে সিলেটের সুবিদবাজারে অনন্ত বিজয় দাশকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়।

অভিজিত হত্যা মামলাটি তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। তদন্তকারী সংস্থাকে সহায়তা করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও তদন্তকারী সংস্থা।

আসামিদের গ্রেফতারে চলমান অভিযানে গত ১৭ আগস্ট র‌্যাব রাজধানী থেকে অভিজিত রায় ও অনন্ত বিজয় দাশ হত্যায় জড়িত সন্দেহে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের অর্থায়ক তৌহিদুর রহমান, জসীমুদ্দীন রাহমানীর সহযোগী সাদেক আলী মিঠু ওরফে সাদিক ও জঙ্গী সংগঠনটির সদস্যদের বিদেশ পালাতে সহায়তাকারী সংগঠনের সক্রিয়কর্মী পাসপোর্ট দালাল আমিনুল মল্লিককে গ্রেফতার করে।

র‌্যাব জানায়, ব্লগার হত্যা থেকে শুরু করে সংগঠনটির সার্বিক কর্মকা- কারাবন্দী জসীমুদ্দীন রাহমানীর নির্দেশে পরিচালিত হচ্ছিল। এসব নির্দেশ গ্রেফতারকৃত রাহমানীর ছোটভাই আবুল বাশারের মাধ্যমে দলের কাছে আসত। নির্দেশ মোতাবেক গ্রেফতারকৃত জুলহাস বিশ্বাস ও জাফরান আল হাসান আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের মিডিয়া শাখার হয়ে কাজের তদারকি করত। আনসারুল্লাহ বাংলা টিম কর্তৃক কোন হত্যাকা- পরিচালিত হলে জুলহাস ও জাফরান বিভিন্ন নামে ওই সব হত্যাকা-ের দায় স্বীকার করে বিবৃতি পাঠাত। আবুল বাশার, জাফরান ও জুলহাস দেশত্যাগের পরিকল্পনা করছিল।