২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

যুদ্ধাপরাধী বিচার ॥ সাকার আইনজীবীর কোর্ট অবমাননার পরবর্তী শুনানি ২ অক্টোবর

  • প্রসিকিউটরবৃন্দ অনুপস্থিত থাকায় শোকজ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ একাত্তরে যুদ্ধাপরাধের দায়ে মৃত্যুদ-প্রাপ্ত বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর আইনজীবী ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলামের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগের শুনানিতে প্রসিকিউশন পক্ষের প্রসিকিউটরবৃন্দ অনুপস্থিত থাকায় শোকজ নোটিস দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রসিকিউটর বরাবর এই নোটিস প্রেরণ করা হয়। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে উক্ত নোটিসের জবাব দেয়ার জন্য বলা হয়েছে। আগামী ২ অক্টোবর এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বে তিন সদস্য বিশিষ্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ বৃহস্পতিবার এই আদেশ প্রদান করেছেন। ট্রাইব্যুনালে অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি আনোয়ারুল হক।

এদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ভারপ্রাপ্ত চীফ প্রসিকিউটর সৈয়দ হায়দার আলী বলেছেন, আমরা উপস্থিত হতে পারিনি। বিষয়টি দেখছি। একজন প্রসিকিউটরকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল তিনি কেন এজলাসে যাননি, সেটা তদন্ত করে দেখা হবে। অন্যদিকে প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম বলেছেন, অসতর্কতার কারণে ক্লার্ক ডায়েরিতে উল্লেখ করেনি ভুল করে।

ব্যারিস্টার ফখরুলের পক্ষে ট্রাইব্যুনালে সময় আবেদন করেন আইনজীবী হুজ্জাতুল ইসলাম আল ফেসানী। আবেদনে ব্যারিস্টার ফখরুলের আইনজীবী হুজ্জাতুল ইসলাম আল ফেসানী বলেন, কারাগারে থাকা অবস্থায় তিনি (ব্যারিস্টার ফখরুল) অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পেতে পারেন এবং নিজে ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হয়ে আদালত অবমাননার যাবতীয় ব্যাখ্যা উপস্থাপন করার চেষ্টা করবেন বলে দুই মাসের সময় চাওয়া হয়। ট্রাইব্যুনাল আবেদনটি বিবেচনা করে মামলাটির আদেশের জন্য আগামী ২ অক্টোবর দিন নির্ধারণ করেন। এই নিয়ে আট বারের মতো তার আদেশের দিন পেছানো হলো।

সাকা চৌধুরীর মামলার রায়ের খসড়া ফাঁস করার অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় ২০১৩ সালের ২০ নবেম্বর গ্রেফতার করা হয় ব্যারিস্টার ফখরুলকে। ওই মামলায় এখনও কারাগারে আছেন তিনি। এর আগে ওই বছরের ১৪ জানুয়ারি ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিচারিক বিষয়ে হস্তক্ষেপ এবং আদালত অবমাননার প্রশ্নে কারণদর্শাতে (শোকজ) নোটিশ জারি করেছিল ট্রাইব্যুনাল। গত ২৯ জুলাই মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত করে সাকা চৌধুরীর বিরুদ্ধে চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেছে ট্রাইব্যুনাল। রায়ে সুপ্রীমকোর্টের আপীল বিভাগ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেয়া ফাঁসির রায় বহাল রেখেছে।

উল্লেখ্য, এর আগে ফখরুলের বিষয়ে আট বার তারিখ পেছানো হয়। এর আগে ৭ মার্চ ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলাম ট্রাইব্যুনালের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করলে প্রথমে নির্ধারিত দিনে ৮ এপ্রিল আদেশ দেয়া হবে জানিয়ে দেয়া আদালত। ট্রাইব্যুনালের সাবেক চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক নাসিমের স্কাইপি সংলাপ নিয়ে বিচারিক বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার অভিযোগে সালাহ উদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর অইনজীবী ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলামের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননায় শোকজ নোটিস জারি করে ট্রাইব্যুনাল-১।

একই সঙ্গে ওই দিন তার বিরুদ্ধে রুলও জারি করা হয়। রুলে ট্রাইব্যুনালের বিচারিক বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার অভিযোগে কেন তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না সে মর্মে জানতে চাওয়া হয়। ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলাম একটি আবেদনে ট্রাইব্যুনাল-১ এর সাবেক চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হকের সঙ্গে অন্য সব বিচারপতিরা যুক্ত আছেন কিনা তা জানতে চেয়েছিলেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে তাকে শোকজ করে নোটিশ দেন ট্রাইব্যুনাল। প্রবাসী আইন বিশেষজ্ঞ জিয়াউদ্দিনের সঙ্গে ট্রাইব্যুনালের তৎকালীন চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হকের স্কাইপি কথোপকথন দৈনিক আমার দেশ পত্রিকাসহ বেশকিছু পত্রিকায় প্রকাশ হয়ে যাওয়ায় তিনি ট্রাইব্যুনাল থেকে পদত্যাগ করেন। এরপর বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীরকে নিয়োগ দিয়ে ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়।