১৮ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বাংলা ও জার্মান কবিতার যুগলবন্দী আবৃত্তিসন্ধ্যা

বাংলা ও জার্মান কবিতার যুগলবন্দী আবৃত্তিসন্ধ্যা
  • সংস্কৃতি সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ আয়োজনটি ছিল কবিতাকেন্দ্রিক। শরতের সন্ধ্যায় কবিকণ্ঠে উচ্চারিত হলো কবিতার শিল্পিত শব্দগাঁথা। ভিন্ন আঙ্গিকের এ কবিতাসন্ধ্যায় একসঙ্গে পাঠ করা হয় জার্মান ও বাংলা ভাষার কবিতা। কাব্যনুরাগীরা ভাষার সীমারেখা পেরিয়ে আবিষ্ট হলেন দুই ভাষার কবিতার মোহময় শব্দজালে। বাংলাদেশের দুই কবি পাঠ করলেন জার্মানির এক কবির কবিতার বাংলা অনুবাদ। আর জার্মানির ওই কবি জার্মান ভাষায় পাঠ করলেন বাংলাদেশের দুই কবির কবিতা। মঙ্গলবার ঝিরিঝিরি বৃষ্টিঝরা সন্ধ্যায় দুই দেশের কবিতার এমন যুগলবন্দী আবৃত্তিসন্ধ্যার আয়োজন করে ধানম-ির জার্মান সাংস্কৃতিক কেন্দ্র গ্যোয়টে ইনস্টিটিউট।

কবিতাপাঠের এ আসরে বাংলাদেশের পক্ষে অংশ নেন দুই বিশিষ্ট কবি শাহানাজ মুন্নী ও সাজ্জাদ শরিফ। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন জার্মানির প্রখ্যাত কবি হেনড্রিক জ্যাকসন। এক ঘণ্টা ব্যাপ্তির আয়োজনে শাহানাজ মুন্নী ও সাজ্জাদ শরিফের কবিতার অনূদিত জার্মান ভাষায় আবৃত্তি করেন হেনড্রিক জ্যাকসন। অন্যদিকে হেনড্রিক জ্যাকসনের কবিতা বাংলা ভাষায় পাঠ করেন শাহানাজ ও সাজ্জাদ। এভাবেই দুই ভাষার কবিতার মেলবন্ধন ঘটে যায় এক আয়োজনে।

বার্লিনের লিটেরাটুর্ভা কস্টাট নামক প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় গ্যোয়টে ইনস্টিটিউটের ‘ভার্সস্মুগেল সুইডআসিয়েন’ শীর্ষক প্রকল্পের অংশ হিসেবে এই আবৃত্তিসন্ধ্যা অনুষ্ঠিত হয়। এশিয়া ও ইউরোপ এই দুই মহাদেশের ১৮ ভাষার ৪৮ কবি অংশ নিচ্ছেন এই প্রকল্পে। এ কর্মসূচীতে জার্মানভাষী কবিগণ মুখোমুখি হবেন তাদের প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার কবিদের সঙ্গে। যৌথ কর্মশালার মাধ্যমে তাঁরা তাঁদের নির্বাচিত কিছু কবিতা একে-অপরের ভাষায় অনুবাদ করবেন। এই প্রকল্পে দুইজন অনুবাদক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তাঁদের একজন গ্যোয়টে ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের জার্মান ভাষা শিক্ষক সরফুদ্দীন আহমেদ এবং অন্যজন গ্যোয়টে ইনস্টিটিউট কলকাতার প্রধান গ্রন্থাগারিক পার্থপ্রতিম চট্টোপাধ্যায়।

অনন্যা শীর্ষদশ সম্মাননা প্রদান কাল ॥ পথচলার ২৭ বছর অতিক্রম করছে পাক্ষিক অনন্যা । সেই সঙ্গে ‘অনন্যা শীর্ষদশ সম্মাননা’ প্রদান পার করছে দুই দশক। কাল শনিবার ২০১৪ সালের অনন্যা শীর্ষদশ সম্মাননা প্রদান করা হবে। এ পর্যন্ত যাঁরা অনন্যা শীর্ষদশ পেয়েছেন তাঁদের অনেকেই এই উদ্যাপনে শামিল হবেন। সেই সঙ্গে শীর্ষদশ সম্মাননাপ্রাপ্ত ২০০ নারীর অর্জন ও জীবনসংগ্রাম নিয়ে প্রকাশিত হবে একটি কফি টেবিল বুক। শনিবার সকাল ১১টায় কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ বছর পুরস্কারপ্রাপ্ত দশজনের হাতে পুরস্কার তুলে দেয়া হবে। সেই সঙ্গে অনন্যার আজকের এই অবস্থানে আসার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার জন্য বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হবে অনন্যার সাবেক নির্বাহী সম্পাদকÑসাংবাদিক ও নারী অধিকারকর্মী দিল মনোয়ারা মনুকে। সব শেষে ইতোপূর্বে অনন্যা শীর্ষদশ সম্মাননাপ্রাপ্ত নারীদের উপস্থিতিতে কেক কেটে অনন্যার ২৭ বছর পূূর্তি উদ্যাপন করা হবে।

রাশিয়ায় বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক উৎসব ॥ ১৯৭২ সাল থেকে রাশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক চুক্তি বিদ্যমান রয়েছে। এ চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে ২০১৩ সালে ২০১৩-২০১৫ মেয়াদে একটি যৌথ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এ সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী ২০১৪ সালে বাংলাদেশে ‘রাশিয়ান সাংস্কৃতিক উৎসব’ ও ২০১৫ সালে রাশিয়ায় ‘বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক উৎসব আয়োজনের নীতিগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সেই সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার থেকে রাশিয়ায় শুরু হলো বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক উৎসব। রাশিয়ার মস্কো ও সেন্ট পিটার্সবার্গ শহরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এ উৎসব। শনিবার উৎসবে যোগ দেবেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। কণ্ঠশিল্পী, নৃত্যশিল্পী, যন্ত্রশিল্পীসহ বাংলাদেশের ৬০ সদস্যের সাংস্কৃতিক প্রতিনিধিদল অংশ নিচ্ছেন উৎসবে। এতে অংশ নেয়া কণ্ঠশিল্পীরা হলেন মমতাজ বেগম, প্রিয়াংকা গোপ ও এএসএম শফি ম-ল। নৃত্য পরিচালকদের মধ্যে রয়েছেন শামীম আরা নীপা ও শিবলী মোহাম্মদ। উৎসবের অনুষ্ঠানমালার মধ্যে ১৩ সেপ্টেম্বর থাকছে মস্কোর সোকোলিংকি পার্ক মুক্তমঞ্চে বাংলাদেশের শিল্পীদের পরিবেশনা। ১৪ সেপ্টেম্বর মস্কোর ম্যালি থিয়েটার লবিতে আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও বাংলাদেশের শিল্পীদের পরিবেশনা। এছাড়া ১৬ সেপ্টেম্বর পিটর্সবাগ শহরেও একই ধরনের আয়োজন থাকবে।

গঙ্গা-যমুনা উৎসবে কোকিলারা ও ম্যাকবেথ ॥ নানা প্রতিকূলতার ভেতর এগিয়ে চলে গ্রামের সহজ-সরল নারী কোকিলার জীবনসংগ্রাম। ভালবাসার ফাঁদে পা দিয়ে এই নারীকে চোর সাব্যস্ত হয়ে জেলে যেতে হয়। একপর্যায়ে জীবনে নেমে আসে চরম মর্মান্তিক পরিণতি। প্রয়াত নাট্যকার আবদুল্লাহ আল মামুন রচিত একক চরিত্রের নাটক কোকিলারার কাহিনী এমনই মর্মস্পর্শী। থিয়েটার (বেইলি রোড) প্রযোজিত নাটকটিতে অভিনয় করেছেন বরেণ্য অভিনয়শিল্পী ফেরদৌসী মজুমদার। গঙ্গা-যমুনা নাট্য ও সাংস্কৃতিক উৎসবের সপ্তম দিন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে মঞ্চস্থ হয় জনপ্রিয় প্রযোজনাটি। অন্যদিকে একই সময় নাট্যশালার প্রধান মিলনায়তনে পদাতিক নাট্য সংসদ পরিবেশন করে ম্যাকবেথ।

বিকেলে নাট্যশালার বহিরাঙ্গনে উন্মুক্ত মঞ্চের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে পথনাটক ‘খেয়া পাড়ের মাঝি’ পরিবেশন করে রঙ্গপীঠ। বৃন্দ আবৃত্তি পরিবেশন করে কণ্ঠশীলন। দলীয় সঙ্গীত পরিবেশন করে আনন্দন। সমবেত নৃত্য পরিবেশনায় অংশ নেয় বহ্নিশিখা। উৎসবের অষ্টম দিন আজ শুক্রবার জাতীয় নাট্যশালার প্রধান মিলনায়তনে নাগরিক নাট্য সম্প্রদায় পরিবেশন করবে ‘দেওয়ান গাজীর কিস্সা’ ও প্রাঙ্গণে মোর ‘শেষের কবিতা’। এর আগে উন্মুক্ত মঞ্চে ‘এই দিন এই দিন’ শিরোনামে পথনাটক পরিবেশন করবে মৈত্রী থিয়েটার। বৃন্দ আবৃত্তি পরিবেশন করবে মুক্তধারা আবৃত্তি চর্চা কেন্দ্র ও শ্রুতিঘর। দলীয় সঙ্গীত পরিবেশন করবে সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠী ও সুরতাল। দলীয় নৃত্য পরিবেশন করবে সুকন্যা। কাল শনিবার শেষ হবে ৯ দিনের এই উৎসব।