১২ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ভালমন্দে মেশানো আতিথেয়তা

  • ইউরোপে অভিবাসীরা পেল দুর্ব্যবহারও

হাজার হাজার স্বেচ্ছাসেবী সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইউরোপে স্রোতের মতো আসা অভিবাসন প্রত্যাশীদের সাহায্য করার ডাকে সাড়া দিয়েছে। তারা অস্ট্রিয়া ও জার্মানির ট্রেন স্টেশনগুলোতে হর্ষধ্বনি করে অভিবাসীদের স্বাগত জানিয়েছে। তারা অভিবাসীদের প্রচুর খাদ্য ও পানীয় সরবরাহ করেছে এবং শিশুদের খেলনা উপহার দিয়েছে। তবে মহাদেশটি যখন হাজার হাজার শরণার্থীর ঢলের মোকাবেলায় হিমশিম খাচ্ছে সে সময় ভয়, ভুল বোঝাবুঝি কিংবা জাতিবিদ্বেষ মাথাচাড়া দিয়ে অতিথিপরায়ন দেশগুলোতে উত্তেজনার লক্ষণ ফুটে তুলছে। খবর নিউইয়র্ক টাইমসের।

মঙ্গলবার হাঙ্গেরির এক নারী সাংবাদিককে পুলিশ এড়াতে একটি মাঠের মধ্য দিয়ে শিশু কোলে ছুটে যাওয়ার সময় একজন অভিবাসীকে ইচ্ছাকৃতভাবে ল্যাং মেরে ফেলে দিতে দেখা যায়। বুধবার জার্মানির কর্তৃপক্ষ একটি শরণার্থী আশ্রয় কেন্দ্রে আরেকটি সন্দেহজনক অগ্নিসংযোগের ঘটনার কথা জানায় এবং ডেনমার্ক অতিক্রম করে যাওয়ার চেষ্টার সময় অভিবাসীরা জানিয়েছে তাদের শারীরিকভাবে বলপ্রয়োগ করে বাসে উঠতে বাধ্য করা হয়। এ বছর ডেনমার্কে একটি মধ্য ডানপন্থী সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর দেশটি শরণার্থীদের সাহায্য ভাতা অর্ধেক করে দিয়েছে।

ড্যানিশ সরকার লেবাননের একটি সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রকৃত তথ্য তুলে ধরে বিষয়টি পরিষ্কার করতে চেয়েছে। লেবাননে লাখ লাখ সিরীয় শরণার্থী পালিয়ে গেছে। ফলে কিছু অভিবাসনকামী যারা জার্মানিতে আশ্রয়ের প্রার্থনা করতে অস্বীকার করেছে, তারা ডেনমার্কের ভূখ- অতিক্রম করে আরও উত্তরে সুইডেন অথবা নরওয়ে অভিমুখে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে।

সুদানের দারফুরের দু’টি কিশোর আলী ঈসা (১৬) এবং তার বন্ধু আহমদ আদম (১৫) ছিল প্রায় ২শ’ অভিবাসীর দলটির অন্তর্ভুক্ত।

তারা ড্যানিশ শহর প্যাডবর্গের একটি সাবেক স্কুলে অবস্থিত এক অভিবাসী অভ্যর্থনা কেন্দ্র থেকে ক্ষুব্ধ হয়ে বেরিয়ে যায়। তারপর সুইডেনের মালমোগামী একটি ট্রেনে আরোহন করলেও তাদের জোর করে নামিয়ে দিয়ে আশ্রয় প্রার্থনার জন্য আবেদন জানাতে কিংবা জার্মানি ফিরে যেতে বলা হলে তারা সুইডেন পর্যন্ত ৩শ’ মাইল পথ হেঁটে যাওয়ার প্রতিজ্ঞা করে। আলী জানায়, ‘আমরা সুইডেন যাচ্ছি।’ যখন তাকে বলা হয়, সেটা অনেক দূরের পথ তখন আলীর জবাব, ‘সমস্যা নেই, আমরা যেতে পারব।’ আলী বলেছে, যে ড্যানিশ পুলিশের দুর্ব্যবহারে স্তম্ভিত হয়ে গেছে। জার্মানির কর্মকর্তারা বহু লোককে ডেনমার্ক ছেড়ে আসার অনুমতি দিলেও তারা সারিবদ্ধ হয়ে বাসে ওঠার সময় অনেক পুলিশ তাদের ধাক্কা দেয়। সাউথ জাটল্যান্ড অঞ্চলের পুলিশের একজন নারী মুখপাত্র হেল্লে লুন্ডবার্গ বলেন, পুলিশ কর্মকর্তারা একটি ‘নিরাপদ অবস্থানস্থল’ বলবত করতে গেলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। তিনি বলেন, তারা বৈধ ভ্রমণসংক্রান্ত কাগজপত্র ছাড়া কাউকে দেশত্যাগ না করতে দেয়ার ড্যানিশও ইউরোপীয় আইন কার্যকর করছিল। ওই আইনে বলা আছে, ভ্রমণের কাগজপত্র ছাড়া তারা যেখান থেকে এসেছে সেখানে তাদের ফিরে যেতে হবে। অভিবাসন প্রত্যাশীরা ওই স্থান ত্যাগ করতে অস্বীকার করলে বুধবার পুলিশ উত্তর থেকে জার্মান সীমান্তমুখী প্রধান মহাসড়ক বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়।পুলিশ জানায়, সাংবাদিকদের মহাসড়কে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয় এবং সেখানকার আকাশপথে উড্ডয়ন নিষিদ্ধ অঞ্চল বলবত করা হয়। কারণ সেখানে হেলিকপ্টার ও নিচু দিয়ে ওড়া বিমান ‘মিছিলকারীদের আতঙ্কিত’ করবে। ডেনমার্কের জাতীয় রেলওয়ে ডিএসবি জানিয়েছে, পুলিশের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানোর পর ডেনমার্ক ও জার্মানির মধ্যে ট্রেনে সবরকম ভ্রমণ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

মিস লুন্ডবার্গ বলেন, রেলস্টেশনে প্রতিবন্ধকতা আরোপকারীদের যাতে কোন ক্ষতি না হয় সেজন্য এ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিতে হয়েছে। জার্মান চ্যান্সেলর এ্যাঞ্জেলা মেরকেল বুধবার পার্লামেন্টে প্রদত্ত এক ভাষণে পুনরায় অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কট্টর ডানপন্থীদের সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছেন। এদিকে পুলিশ ওই রাতে অভিবাসীদের লক্ষ্য করে আরেকটি সন্দেহজনক অগ্নিসংযোগের ঘটনার কথা জানায়।