২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কুড়িগ্রামে বই পরিবহনের ২২ লাখ টাকা লোপাট ॥ পকেট ভারি শিক্ষা কর্মকর্তার

স্টাফ রিপোর্টার, কুড়িগ্রাম ॥ সরকার জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের মাধ্যমে সারাদেশে মাধ্যমিক, ইবতেদায়ী ও দাখিল স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে বই সরবরাহ করে আসছে। উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে বিদ্যালয়ে বই পরিবহনের জন্য ব্যয় চেকের মাধ্যমে প্রদান করা হয়। কিন্তু বই পরিবহনের এ টাকা শিক্ষকদের ভাগ্যে জোটে না। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের টাকায় বই পরিবহন করলেও সরকারী বরাদ্দের সমুদয় টাকা লোপাট করে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তারা। চার বছরে এ খাতের প্রায় ২২ লাখ পকেটস্থ করেছে ৯ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা। এ নিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের মাঝে অসন্তোষ বিরাজ করছে। তারা লিখিত অভিযোগ দিয়েছে বিভিন্ন দফতরে।

সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ হাবিবুর রহমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগে জানান, বই পরিবহনের জন্য সরকারী অর্থ গত চার বছর থেকে প্রতিষ্ঠানগুলোকে দেয়া হয়নি। সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আজিজার রহমান একাই এ খাতের ২ লাখ ৪৪ হাজার ৮৭০ টাকা লোপাট করে। তথ্য মতে তিনি ২০১২ সালে চেক নং ৪৬৬৩৫৫১ মারফত ৪৭ হাজার ৪০৬ টাকা, ২০১৩ সালে চেক নং- ৪৬৬৩৫৬৪ মারফত ৫৮ হাজার ১৯ টাকা, ২০১৪ সালে চেক নং-৪৬৬৩৫৮৩ মারফত ৬৭ হাজার ৫৫৪ টাকা এবং ২০১৫ সালে চেক নং-৭৪৮৩৮১২ মারফত ৭১ হাজার ৮৯১ টাকা উত্তোলন করে সমুদয় টাকা আত্মসাত করে। জেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন ফারুক বলেন, গত ৯ বছর থেকে এই স্টেশনে চাকরি করার সুবাদে সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আজিজার রহমান লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করেছেন। শিক্ষকরা এসব অনিয়ম-দুর্নীতির প্রতিবাদ করায় এবং উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান অভিযোগ করায় রোষানল থেকে বঁাঁচতে গত ২ সেপ্টেম্বর থেকে ছুটিতে গেছেন আজিজার রহমান।

আজিজার রহমানের নম্বরে চারদিন থেকে কয়েক দফা ফোন করা হলেও তিনি তা রিসিভ করছেন না। তবে জেলা শিক্ষা অফিসার ভব শংকর রায় বলেছেন, উপজেলা পর্যায়ের এসব আর্থিক বিষয় তার দফতর দেখভাল করে না। এ ছাড়া অন্যান্য অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে। রাজারহাট উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা চঞ্চল কুমার ভৌমিক এ অভিযোগের ব্যাপারে সাফ জানিয়ে দেন এ সামান্য টাকা তাই দেয়া হয় না। এ টাকা অফিসের কর্মচারীদের পারিশ্রমিক ও অন্যান্য খাতে খরচ করা হয়। আর এ সামান্য বিষয় নিয়ে শিক্ষকদের অভিযোগ করা ঠিক হয়নি। রাজীবপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নূর ইসলাম নূরু বলেন, এসব চেক ইউএনর মাধ্যমে আসে। পরে আমরা তা ক্যাশ করে নেই। ভাগ করলে বিদ্যালয় প্রতি ১৫০-২০০ টাকা পাবে। অথচ তাদের খরচ অনেক বেশি হয়।