১৫ আগস্ট ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কিশোরগঞ্জের কানকাটি গণহত্যা দিবস আজ

নিজস্ব সংবাদদাতা, কিশোরগঞ্জ, ১০ সেপ্টেম্বর ॥ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে নৃশংসতম ‘কানকাটি গণহত্যা দিবস ১১ সেপ্টেম্বর। একাত্তরের এই দিনে পাকিস্তানী সেনারা স্থানীয় রাজাকার, আলবদর ও আলশামস বাহিনী সদরের কর্শাকড়িয়াইলের কানকাটি গ্রামে নারকীয় তা-ব চালায়। ওইদিন একটি হিন্দু পরিবারের ৭ জনসহ ৮ নিরীহ গ্রামবাসীকে ধরে নিয়ে গচিহাটা ধুলদিয়া রেলওয়ে সেতুর ওপর দাঁড় করিয়ে নৃশংস কায়দায় হত্যা করে নদীর পানিতে ভাসিয়ে দেয়। কিন্তু একজন শহীদের লাশও স্বজনরা আর খুঁজে পায়নি।

জানা গেছে, পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকার-আলবদর বাহিনী কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় হামলা-লুটপাট চালায়। তখন কানকাটি গ্রামের সুরেশ চন্দ্র সরকার ছিলেন এলাকার মাতব্বর। প্রগতিশীল রাজনীতিক হিসেবে তিনি দেশের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। আর এটাই কাল হয়ে দাঁড়ায় কানকাটিবাসীর জন্য। ১১ সেপ্টেম্বর ওই গ্রামে হানা দেয় স্বাধীনতাবিরোধীরা। স্থানীয় পিডিবি নেতা মাওলানা মুসলেহ উদ্দিন ও কর্র্শাকড়িয়াইলের তৎকালীন চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ মেনু মিয়ার নেতৃত্বে ৫০-৬০ জনের হানাদার বাহিনী নৌকায় করে এসে হামলা চালিয়ে অসংখ্য গ্রামবাসীকে ধরে নিয়ে যায়। রাজাকার আলবদর বাহিনী তখন সুরেশ চন্দ্র সরকার, তার দুই ভাই জ্ঞানচন্দ্র নন্দী, জয়চন্দ্র নন্দী, ভাতিজা মধুসূদন নন্দী, দুই নাতি হর্ষবর্ধন সরকার ও বিশ্ববর্ধন সরকারকে ধুলদিয়া রেলসেতুর কাছে নিয়ে নৃশংসভাবে গুলি করে হত্যা করে। একই সঙ্গে হত্যা করা হয় কানকাটি গ্রামের কৃষক আব্দুল জব্বারকে। নারকীয় ও বর্বরোচিত এ হত্যাকা-ের সময় অনেকে বেঁচে যান সৌভাগ্যক্রমে। তাদের এখনও তাড়িত করে সেদিনের দুঃসহ ভয়াল স্মৃতি। শহীদ সুরেশ সরকারের বসতভিটায় আজ আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে মুক্তিযোদ্ধা, রাজনীতিবিদসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অংশ নেন। বিকেলে পুরাতন বসতভিটায় স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছে।