১২ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কমছে পানি, বাড়ছে ভাঙ্গন ও রোগব্যাধি ॥ কর্মহীন দুর্গতরা

জনকণ্ঠ ডেস্ক ॥ নদ নদীর পানি কমতে থাকায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও বাড়ছে ভাঙ্গন ও পানিবাহিত রোগ। খবর স্টাফ রিপোর্টার ও নিজস্ব সংবাদদাতাদের।

বগুড়ায় ভাঙ্গনের কবলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

যমুনা ও বাঙালী নদী তীরবর্তী এলাকাসহ সারিয়াকান্দির চরাঞ্চলে নদী ভাঙ্গন বাড়ছে। যমুনার পানি কমলেও বাঙালীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এতে যমুনা তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল থেকে পানি নামতে শুরু করলেও বাঙালী নদীসংলগ্ন এলাকাগুলোর বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। বন্যার সঙ্গে নদী ভাঙ্গন এসব এলাকার লোকজনকে অসহায় করে তুলেছে। ভাঙ্গনে বিলীন হচ্ছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান-জনপদ। ভাঙ্গন তীব্র আকার ধারণ করায় ইউনিয়ন স্বাস্থ্য উপকেন্দ্রও নদীতে বিলীন হতে বসেছে। ইতোমধ্যে নদী ভাঙ্গনে গত দু’সপ্তাহে ৮ শতাধিক পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে। বন্যাকবলিত সারিয়াকান্দি উপজেলার কুতুবপুরের মাছিরপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এখন শ্রেণী কক্ষ ছেড়ে গাছের নিচে পাঠ গ্রহণ করছে। স্কুলটির ৪টি শ্রেণীকক্ষের মধ্যে ৩টিই বাঙালী নদীর ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে। বাকি রয়েছে ১টি শ্রেণীকক্ষ। সেটিও এখন নদীতে বিলীন হতে বসেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড সেখানে বালুর বস্তা ফেলে তার রক্ষার চেষ্টা করছে।

কুড়িগ্রামে শত শত বাড়িঘর বিধ্বস্ত

নদ-নদীর পানি কমতে থাকায় কুড়িগ্রামের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তবে নদ-নদীর পানি বিপদসীমার কাছাকাছি থাকায় এখনও ৩ শতাধিক চরের ১ লাখ মানুষ পানিবন্দী রয়েছে।

বিভিন্ন চর এলাকায় শত শত ঘর-বাড়ি বিধ্বস্ত হয়ে পড়ে রয়েছে। হাতে কাজ না থাকায় কয়ের লাখ দিনমজুর বেকার বসে আছেন। দেখা দিয়েছে রোগব্যাধির প্রকোপ। তবে মেডিক্যাল টিমের সহায়তা না পাবার অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। চরবাসীরা জানান, অনেকেই এখনও কোন ত্রাণ সহায়তা পাননি। তবে জেলা প্রশাসন ও সরকারী দলের পক্ষ থেকে ত্রাণ তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক খান মোঃ নুরুল আমিন জানান, সব মানুষ যেন ত্রাণ পায় সে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। গত তিন দিন ধরে তিনি বিভিন্ন দুর্গত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ করেন। এছাড়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ জাফর আলী গত ৪ দিন ধরে জেলার বিভিন্ন এলাকায় নিজস্ব উদ্যোগে ৮সহস্রাধিক মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করছেন।

দুর্গত এলাকা ঘোষণার দাবিতে রংপুরে মানববন্ধন

বন্যাকবলিত অঞ্চলকে দুর্গত এলাকা ঘোষণা এবং পর্যাপ্ত ত্রাণ সরবরাহের দাবিতে বৃহস্পতিবার রংপুরে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে সমাজতান্ত্রিক ক্ষেতমজুর ও কৃষক ফ্রন্ট এবং বাসদ মাকর্সবাদী দল। দুপুর ১২টায় রংপুর প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এই মানববন্ধন ও সমাবেশ দলীয় নেতৃবৃন্দ ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ অংশ নিয়ে একাত্মতা প্রকাশ করেন। সমাবেশ থেকে বক্তারা সরকারের সমালোচনা করে বলেন, এই সরকার একটি বারও এ অঞ্চলের দুর্গতদের পাশে গিয়ে দাঁড়ায়নি।

টাঙ্গাইলে বাড়ছে পানিবাহিত রোগ

ভুঞাপুর ও গোপালপুর উপজেলায় যমুনা নদীর তীরবর্তী এলাকায় পানি কিছুটা কমেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় টাঙ্গাইল অংশে যমুনা নদীর পানি ১২ সেন্টিমিটার কমেছে। তবে এরপরও নদীর পানি বিপদসীমার ৬০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়েই প্রবাহিত হচ্ছে। পরিস্থিতি সামলে উঠতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে বলে ধারণা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এদিকে, বন্যার পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে ওইসব এলাকায় ব্যাপক আকারে পানিবাহিত রোগ দেখা দিয়েছে।