১৯ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

‘এই মুহূর্তে বাংলাদেশেই সুখে আছি’

‘এই মুহূর্তে বাংলাদেশেই সুখে আছি’
  • প্রধান কোচ চন্দিকা হাতুরাসিংহে আরও বললেন টাইগারদের কোচিং করানোই আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ ;###;রশ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড থেকে কোন আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাইনি

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দলের প্রধান কোচ হচ্ছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের প্রধান কোচ চন্দিকা হাতুরাসিংহে! এ সংবাদ যখন গত শুক্রবার ছড়িয়ে পড়ল, বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ল। দলের এমন দুর্দান্ত সময়ে হাতুরাসিংহে চলে যাবেন! সত্যিই কী তাই ঘটতে যাচ্ছে! যখন শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট বোর্ডের কর্তাব্যক্তিরাও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে হাতুরাসিংহের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানান, তখন আতঙ্ক আরও বেড়ে যায়। শেষপর্যন্ত হাতুরাসিংহে নিজেই এ নিয়ে যত গুঞ্জন, বিতর্ক বৃহস্পতিবার দূর করে দিয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে জানিয়ে দিয়েছেন, ‘এ মুহূর্তে বাংলাদেশকে কোচিং করানই গুরুত্বপূর্ণ। কোন আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাইনি।’ সঙ্গে বললেন, ‘এই মুহূর্তে এখানে (বাংলাদেশে) আমি খুবই খুশি।’

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজ শেষে অস্ট্রেলিয়ায় নিজ পরিবারের কাছে যান হাতুরাসিংহে। ছুটি কাটিয়ে এ সপ্তাহে আসার পর থেকেই তার কাছ থেকে জানতে চাওয়ার চেষ্টা করা হয়, শ্রীলঙ্কার কোচের প্রস্তাব পেয়েছেন কি না। কিন্তু হাতুরাসিংহে এতদিন চুপ ছিলেন। অবশেষে বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলন করেই মুখ খুললেন।

সংবাদ সম্মেলনে শুরুতেই ‘এ’ দলের ভারত সফর নিয়ে জানালেন, ‘টি২০ বিশ্বকাপও মাথায় রাখতে হবে আমাদের। ভারত সফরের ‘এ’ দলে আমাদের ওয়ানডে ক্রিকেটাররাই বেশি আছে। ওদের জন্য এটা ভাল সুযোগ ভারতীয় কন্ডিশনে অভ্যস্ত হওয়ার। আর ভারতের ‘এ’ দল সবসময়ই অনেক ভাল। অনেক গভীরতা আছে দলে। সেদিক থেকে আমাদের দল নিয়ে আমি খুশি।’

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সামনে ২ টেস্টের সিরিজ রয়েছে। এ সিরিজ যে কতটা চ্যালেঞ্জের হবে তা বুঝিয়ে দিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের কোচ। সঙ্গে বাংলাদেশের ভাল করার সম্ভাবনার আশাও জাগালেন ‘দলে যে-ই আসুক বা না আসুক, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলা আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ। তবে আমি সত্যিই আশাবাদী, কারণ এই কন্ডিশন ওদের চ্যালেঞ্জ জানাবে। আমরাও দল হিসেবে উন্নতি করছি। আমি আশাবাদী যে এমন কিছু আমরা করতে পারব ওদের বিপক্ষে, আগে যা কখনও করতে পারিনি। তবে এটাও বলতে হবে, অস্ট্রেলিয়াকে হালকাভাবে দেখার কিছু নেই। ক্রিকেটার বের করার সেরা সিস্টেমটা ওদের আছে। ওদের ‘এ’ দল সম্প্রতি ভারতে দারুণ খেলেছে। কাজেই এই সিরিজ চ্যালেঞ্জিং হবেই।’

কোচ ইস্যুতে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে কোন যোগাযোগ হয়েছে কি না তা জানাতে গিয়ে হাতুরাসিংহে বলেন, ‘অফিসিয়ালি আমার সঙ্গে ওদের কোন যোগাযোগ হয়নি। আমি যেহেতু পেশাদার কোচ, কোথাও চাকরির সুযোগ সৃষ্টি হলে নাম আসতেই পারে। আপাতত এটাই বলার আছে আমার।’ সঙ্গে যোগ করলেন, ‘এই মুহূর্তে আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হলো বাংলাদেশকে কোচিং করানো। যাতে আমরা পরের সিরিজটা জিততে পারি। নিজের দেশে কোচিং করাতে সবারই ভাল লাগবে। কিন্তু সেটা হতে হবে সঠিক সময়ে। এই মুহূর্তে আমি যা করছি, সেটা নিয়ে খুবই খুশি। শুধু ক্রিকেটারা বা আমার স্টাফরা নয়, বোর্ডও অনেক সহায়তা করছে আমাদের। দল হিসেবে আমরা ভাল করছি। সবকিছু ঠিকভাবেই এগোচ্ছে। এই মুহূর্তে এখানে আমি খুবই খুশি। আমি জানি না শ্রীলঙ্কার খবরটি সত্যি না কি মিথ্যা। কিছু তো হতে হবে।’

বিসিবির কৃতজ্ঞতাও হাতুরাসিংহের কণ্ঠে ঝরেছে, ‘এটা আত্মবিশ্বাসের বিষয়। চাকরিজীবী হিসেবে বসরা যখন বলে আমাকে নিয়ে খুশি ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা আছে, সেটা আমাকে অনেক বেশি নিরাপত্তা দেয়। আমি এ জন্য খুবই কৃতজ্ঞ।’

সামনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ। তাই মনোযোগ সব টেস্ট ঘিরেই জানালেন বাংলাদেশ কোচ, ‘অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলা কখনই সহজ নয়। ওরা বিশ্বের এক নম্বর দল। ওয়ানডে নেই বলে আমরা শুধুই টেস্ট ক্রিকেট মনোযোগ দিতে পারি। প্রস্তুতিতে মন দিতে পারি।’

ফিটনেস নিয়েই যত চিন্তা কোচের, ‘আমার প্রথম লক্ষ্য ছিল ফিটনেস ভাল করা। ব্যস্ত মৌসুমের পর ফিটনেস নিয়ে কাজ করার মতো প্রথম ভাল সময় পেলাম। এই সময়টায় ক্রিকেটারদের স্ট্রেংথ, মানসিকতা, আগের পর্যায়ে ফিরিয়ে আনার প্রয়োজন ছিল। ফুরফুরে, চনমনে করে তোলার প্রয়োজন ছিল। মারিওর (ট্রেইনার মারিও ভিল্লাভারায়েন) সঙ্গে কথা হয়েছে আমার। ক্রিকেটারদের নিবেদন নিয়ে সে খুবই খুশি। সে বলেছে, ক্রিকেটারদের নিয়ে কাজ করে সে খুবই খুশি। আমি সেই কমপ্লিমেন্ট ক্রিকেটারদের জানিয়েছি। খুব ভাল মানসিকতা এটা ক্রিকেটারদের। শুধু ফাস্ট বোলারদের নয়, ব্যাটসম্যানদেরও ফিটনেস খুব ভাল হওয়া দরকার। নইলে লম্বা ইনিংস খেলতে পারবে না। মনযোগে ঘাটতি দেখা যাবে। আর ব্যাটসম্যানদের উইকেট হারাতে সেকেন্ডের ব্যবধানের অমনোযোগিতাই যথেষ্ট। ফাস্ট বোলার আমাদের বেশি নেই, এ জন্য ভালভাবে নজর রাখতে হচ্ছে। আমি তো চাইব তিন পজিশনের জন্য যেন অন্তত দশ ফাস্ট বোলার লড়াইয়ে থাকে। এই মুহূর্তে সেটা দেখা যাচ্ছে না। এ জন্যই যখনই সুযোগ পাই, ফিটনেস নিয়ে কাজ করা জরুরী।’

জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা জাতীয় ক্রিকেট লীগের (এনসিএল) প্রথম রাউন্ডে খেলবে বলেও জানান কোচ, ‘জাতীয় ক্রিকেটাররা এনসিএলের প্রথম রাউন্ডে খেলবে। আমি বলেছি ওরা খেলছে!’

মাঠে অন্য ক্রিকেটারদের চেয়ে তামিমের সঙ্গে বেশি সময় কাটানোর ব্যাখ্যাও দেন হাতুরাসিংহে, ‘এমন নয় যে তামিমের সঙ্গেই আমি বেশি সময় কাটাচ্ছি। আপনারা ওর সঙ্গে বেশি দেখেন কারণ হয়ত ও ইংলিশটা ভাল বলে। কিন্তু অন্যদের সঙ্গেও সময় কাটাই। আরেকটা বিষয় হলো, ড. ফিল আসার পর বলেছিলাম যে ক্রিকেটারদের মানসিকতা উন্নত করতে। তামিম যোগাযোগটা হরহামেশা করে। একেকজন ক্রিকেটার আসলে শেখে একেকভাবে। আরেকটা বিষয় হলো, সে আমাদের সেরা ক্রিকেটারদের একজন। আর ওপেনাররা ভাল করলে অর্ধেক জয় ওখানেই হয়ে যায়। তামিম এবং ইমরুল টেস্টে সেই কাজ ভালভাবে করছে। যে ক্রিকেটারেরই প্রয়োজন, আমি তাদের নিয়ে কাজ করছি।’ হাতুরাসিংহে যত যা নিয়েই কথা বলুন না কেন, এ মুহূর্তে সবার আগে স্বস্তির বিষয় একটিই, তিনি যে বলেছেন, ‘এ মুহূর্তে বাংলাদেশে আমি খুবই খুশি।’