১১ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সমতা ফেরানোর প্রত্যাশায় ইংলিশরা

  • অস্ট্রেলিয়ার লক্ষ্য সিরিজ জয়, চতুর্থ ওয়ানডে আজ

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ সিরিজে এখনও ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে আছে সফরকারী অস্ট্রেলিয়া। পূর্ণাঙ্গ অধিনায়ক হিসেবে এই প্রথম কোন সিরিজে দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছে স্টিভেন স্মিথ। অবশ্য ইংলিশদের বিপক্ষে সিরিজ শুরুর আগে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে একমাত্র ওয়ানডে খেলার মাধ্যমে তার নেতৃত্বের অভিষেক হয়েছে। চলতি সিরিজের প্রথম দুটিসহ টানা তিন ম্যাচ জয়ের পর ম্যানচেস্টারে সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডেতে প্রথম পরাজয় দেখেছেন স্মিথ। এ জন্য অপরিহার্য তিন ক্রিকেটারের ইনজুরির কারণে অনুপস্থিতি। ৯৩ রানের বড় জয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে ইংল্যান্ড। তবে সিরিজের চতুর্থ ওয়ানডেতে আজও জিততে হবে তাদের। কারণ হারলেই সিরিজ হাতছাড়া হয়ে যাবে। সে জন্য আজ হেডিংলিতে জিতে সমতা আনতে চায় ইংল্যান্ড। আর অস্ট্রেলিয়ার লক্ষ্য আজ জিতে আগেভাগেই ৫ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ নিশ্চিত করা। বাংলাদেশ সময় বেলা সাড়ে ৩টায় ম্যাচটি শুরু হবে।

টানা দুই ওয়ানডেতে হেরে মানসিকভাবে কিছুটা পিছিয়ে পড়েছিল স্বাগতিক ইংল্যান্ড। সাউদাম্পটনে প্রথম ওয়ানডেতে ৫৯ এবং লর্ডসে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৬৪ রানে হেরে গিয়েছিল স্বাগতিকরা। তবে সময়মতোই নিজেদের ফিরে পেয়েছে তারা। কারণ তৃতীয় ওয়ানডেতে হেরে গেলে সিরিজ হাতছাড়া হয়ে যেত। সেই ম্যাচেই দাপটের সঙ্গে জয় তুলে নিয়েছে ইংল্যান্ড। ব্যবধান কমিয়ে করেছে ২-১। তবে লড়াইটা এখনও শেষ হয়নি ইয়ন মরগান বাহিনীর। আজ চতুর্থ ওয়ানডেতেও হারলে চলবে না। জিততেই হবে। আগের ম্যাচ থেকে ইতিবাচক অনেক কিছুই পেয়েছে ইংলিশরা। হারানো আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছে। কিন্তু সিরিজে টিকে থাকার জন্য আজ জয়ের কোন বিকল্প নেই। পরাজিত হলেই এক ম্যাচ হাতে থাকতেই ৩-১ ব্যবধানে সিরিজ হাতছাড়া হয়ে যাবে তাদের।

ওয়ানডে সিরিজে জো রুটকে বিশ্রাম দিয়েছে ইংল্যান্ড। তার উপযুক্ত বিকল্প খুঁজছে ইংলিশরা। অবষশ্য তার পরিবর্তে জেমস টেইলর দারুণ খাপ খেয়ে গেছেন। ১০১ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলে নিজের যোগ্যতা ও সামর্থ্যরেও প্রমাণ দিয়েছেন তিনি। অবশ্য প্রথম দুই ম্যাচে টেইলর তেমন সুবিধা করতে পারেননি। তবে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন তার মধ্যে বড় ইনিংস খেলার সামর্থ্য আছে। তার দারুণ ব্যাটিংয়ে ইংল্যান্ড তৃতীয় ওয়ানডেতে বড় জয় পেয়েছে। রুট ওয়ানডে দলে ফেরার পর এখন আর সহজ হবে না টেইলরকে বাদ রাখা। তবে দল গঠনের ভবিষ্যত সেই চিন্তার চেয়ে বড় বিষয় সফরকারীদের বিপক্ষে জয়ের রাস্তাটা কি হতে পারে বুঝে গেছে ইংল্যান্ড। বোলিংয়েও মোটামুটি ভালই করেছে দলের বোলাররা। পেস এবং স্পিন দুটোই একসঙ্গে জ্বলে উঠেছে। দুই স্পিনার আদিল রশিদ ও মঈন আলি প্রভাব বিস্তার করতে পেরেছেন অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপে। এছাড়া আরেক নীবন ওপেনার জেমন রয়ও রান পেয়েছেন এবং অধিনায়ক মরগান নিজেও রানের মধ্যে আছেন। তবে ব্যাটিংয়ে ইংলিশদের একমাত্র দুশ্চিন্তা আরেক ওপেনার এ্যালেক্স হেলসকে নিয়ে। তিনি ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থ। আর পেসার স্টিভেন ফিন সেভাবে কার্যকর ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে পারছেন না।

অস্ট্রেলিয়া এখন সমস্যা আক্রান্ত একটি দল। অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ক সাবেক হয়ে গেছেন। তবু ভালই চলছিল স্মিথের অধীনে। কিন্তু তৃতীয় ওয়ানডেতে ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার, অভিজ্ঞ শেন ওয়াটসন এবং পেসার কুল্টার নিল ইনজুরির কারণে খেলতে পারেননি। আর ওই সুযোগে বড় জয় তুলে নিয়েছে ইংল্যান্ড। তবে এ্যারণ ফিঞ্চ ইনজুরি কাটিয়ে ফিরেছেন এবং একটি ফিফটিও হাঁকিয়েছেন। বড় রান করতে না পারলেও নবাগত জো বার্নস যেভাবে ব্যাট করছেন অচিরেই তার কাছ থেকে ভাল কিছু পাওয়ার আশা করতেই পারে অসিরা। মিডল ও লোয়ার অর্ডার দারুণ শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার। জর্জ বেইলি, মিচেল মার্শ ও ম্যাথু ওয়েড আছেন লাইনআপে। ম্যানচেস্টারের ব্যর্থতা বাদ দিলে প্রায় সবাই ফর্মে আছেন। তাই তৃতীয় ওয়ানডের স্মৃতি ভুলতে পারলেই ভাল হবে তা অসিদের জন্য। বোলিংয়ে অন্যতম পেসার মিচেল স্টার্ক অবশ্য তেমন সুবিধা করতে পারছেন না। জেমস প্যাটিনসন ও প্যাট কামিন্স দু’জনেই তেমন ভাল করতে পারেননি। এবার এ সবকে পেছনে ফেলে জিততে চায় স্মিথ বাহিনী। জিতলেই সিরিজ নিশ্চিত হয়ে যাবে।