২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

এই ঈদে অন্যরকম লেহাঙ্গা

  • তৌফিক অপু

প্রকৃতির পালাবদলে বইছে শরতের হাওয়া। সামনেই ঈদ-উল-আজহা। চারদিকে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। আর এ সময়টাতে চলে নিজেকে মেলে ধরার প্রস্তুতি। পোশাক আশাক সাজসজ্জায় অন্যরকম ছোঁয়া লেগে যায়। চলাফেরা সবকিছুতেই উৎসবের ছটা যেন লেগেই থাকে। ষড় ঋতুর দেশ আমাদের এই বাংলাদেশ। ছয়টি ঋতুই পরিবর্তিত হয় আপন মহিমায়। তারই হাত ধরে প্রকৃতিতে খেলা করছে শরতের মৃদুমন্দ বাতাস। এ সময়ে খাওয়া-দাওয়া থেকে শুরু করে সবকিছুতেই আবহাওয়ার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে প্রস্তুতি নেয়া হয়। পরিবর্তনের এ তালিকায় পোশাক অন্যতম। অর্থাৎ সময়োপযোগী আরামদায়ক পোশাকের দিকে নজর সবার। কারণ পোশাক যদি আরামদায়ক না হয় তাহলে আনন্দটাই মাটি হবে। সৃষ্টি হবে অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতির। অতএব আবহাওয়ার সঙ্গে তাল মিলিয়ে পোশাক না পরলে অস্বস্তিকর অবস্থার মধ্যে পড়তে হয়। যে কারণে ঋতুভিত্তিক পোশাক মানুষের এখন প্রথম পছন্দ। আর এর সঙ্গে কোন উৎসব যোগ হলে তো কথাই নেই। ফ্যাশন হাউসগুলো এ ব্যাপারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। একটা সময় ছিল যখন এদেশের মানুষ উৎসব কিংবা বড় কোন অনুষ্ঠান ছাড়া ফ্যাশন হাউসগুলোতে ভির জমাতো না। তবে প্রেক্ষাপট অনেকটাই বদলে গেছে। বাঙালী এখন ফ্যাশন সচেতন জাতি হিসেবে স্বীকৃত। ঋতুভিত্তিক পোশাক এখন ফ্যাশন ট্রেন্ডের পরিচিত রূপ। কোন ঋতুর সঙ্গে কোন পোশাকটি মানানসই তা নিয়ে রীতিমতো গবেষণা করা হয়। আর হবেই বা না কেন। বিশ্বফ্যাশন ট্রেন্ডের সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছে এদেশের ফ্যাশন জগত। আর এ পথ চলায় ফ্যাশন হাউসগুলোও অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। ফ্যাশন হাউসগুলো সবসময় সচেষ্ট থাকে ক্রেতাদের রুচি ও চাহিদা মোতাবেগ পোশাক সরবরাহ করতে। যখন যে ঋতু বা উপলক্ষ সামনে এসে দাঁড়ায় সে ঋতু কিংবা উপলক্ষ নিয়েই অগ্রিম প্রস্তুতি সেরে ফেলে তারা। যে কারণে সাধারণ মানুষদেরও নিত্যনতুন ফ্যাশন ট্রেন্ডের সঙ্গে পরিচিত হতে সময় লাগে না। ফ্যাশন হাউসের বদৌলতে ঋতুভিত্তিক পোশাকের অগ্রিম খবর পেয়ে যায়। যার ফলে ঋতুভিত্তিক পোশাকের প্রস্তুতি আগে থেকেই সেরে রাখা যায়। মজার ব্যাপার হচ্ছে এসব পোশাক শুধু গতানুগতিক ধারাতেই থাকে না বরং নিত্যনতুন ফ্যাশন যোগ করা হয়। অনেক সময় পুরনো কিছু ফ্যাশনকে নতুন রূপদান করে আরও বেশি আধুনিক করে তোলা হয়। তেমনি নতুন এবং পুরাতন ডিজাইনের সংমিশ্রণের একটি পোশাক বর্তমান তরুণীদের কাছে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। পোশাকটি হচ্ছে লেহাঙ্গা। নব্বই দশকে লেহাঙ্গা ফ্যাশনের তুঙ্গে ছিল। তবে সেই লেহাঙ্গ এই লেহাঙ্গা থেকে একটু ভিন্ন। তখনকার লেহাঙ্গা জরি কিংবা ভারি কাজের সমন্বয়ে কোমরের নিচ থেকে ঘাগড়া মতো করে বড় একটা রাউন্ড শেপ ছিল। অনেক সময় লেসফিতা দিয়ে ডিজাইন করা হতো। আলাদা করে দুটো পার্ট থাকত। ওপরের টপসের সঙ্গে সঙ্গতি রেখেই নিচের ঘাগড়ার ডিজাইন করা হতো। দীর্ঘদিন ঘাগড়া তরুণীদের পছন্দের শীর্ষে ছিল। বেশ কিছুদিন ঘাগড়া ফ্যাশন ট্রেন্ডের বাইরে থাকলেও এখন নতুন রূপে ধরা দিয়েছে তরুণীদের সামনে। ডিজাইনে এসেছে বৈচিত্র্য। এখন আলাদ পার্ট করে ঘাগড়া তৈরি হয় না। এক ছাটের পাঞ্জাবির মতোই একটা লেহাঙ্গা। এতে যোগ করা হয়েছে কালার এবং ডিজাইনের ভেরিয়েশন। করে তোলা হয়েছে অনেক বেশি আকর্ষণীয়।

এ প্রসঙ্গে বিউটি এক্সপার্ট এবং ফ্যাশন ডিজাইনার আফরোজা কামাল জানান, নতুনত্ব বরাবরই মানুষ কে আকৃষ্ট করে। ঘাগড়ার ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। পোশাকটি বাজারে আসার পর থেকেই তরুণীদের কাছে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়। পোশাকটি অনেকটা এক ছাঁটের পোশাকের মতোই। একটা কালার বেজ কাপড়ের ওপর ডিজাইন করা হয়ে থাকে ঘাগড়া। আর এ সময়টায় ঘাগড়া বেশ মানানসই। ডিজাইনের কোন শেষ নেই। যে যেভাকে সেটাকে রাঙিয়ে তুলতে পারে। অর্থাৎ লেস কিংবা চুমকি লাগানো অথবা অন্যান্য ডিজাইনে সমৃদ্ধ করা সম্পূর্ণটাই নিজের ব্যক্তিত্বের ওপর নির্ভর করে। আবার রেডিমেট বহু ধরনের ডিজাইনের লেহাঙ্গা পাওয়া যাচ্ছে বাজারে। আবহাওয়ার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে কাপড়। সাধারণত ব্যবহার করা হয় সিনথেটিক. জয়সিল্ক জর্জেট এবং সিল্ক ও সফট সিল্ক দারুণভাবে মানিয়ে যায়। যা পোশাটিকে করে তোলে আরামদায়ক। ডিজাইনেও রয়েছে ভিন্নতা। অর্থাৎ ক্যাজুয়াল, এক্সক্লুসিভ সবধরনের প্যাটার্নেই পাওয়া যাচ্ছে লেহাঙ্গা। যার ফলে ঘরে বাইরে সব জায়গাতেই অনায়েসেই মানিয়ে যায়। ডিজাইন এবং প্যাটার্ন ভেদে একেকটা লেহাঙ্গার দাম পড়বে ২৫০০ টাকা থেকে ৭০০০ টাকা পর্যন্ত। যদিও পোশাকটি মাত্র বাজারে আসা শুরু করেছে তার পরেও বিভিন্ন ফ্যাশন হাউসে দেখা মিলবে। তার মধ্যে আড়ং, আলমিরা, থ্রি উইসেস, ওটু, ওয়ারাহ্, গ্ল্যামগার্ল অন্যতম। নতুনকে স্বাগত জানানোর স্পৃহা সবার। যে কারণে নতুন ফরমেটের লেহাঙ্গা এই ঈদে এখন তরুণীদের প্রথম পছন্দের পোশাক। ফ্যাশন ট্রেন্ডে লেহেঙ্গা যোগ করেছে ভিন্ন মাত্রা।