১৯ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দেশকে এগিয়ে নিতে জনপ্রতিনিধিদের সৎ হতে হবে

  • সংসদের সমাপনী অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী

সংসদ রিপোর্টার ॥ প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা দেশের চলমান উন্নয়ন ও অগ্রগতিকে এগিয়ে নিতে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য সংসদ সদস্যসহ জনপ্রতিনিধিদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, সততা-নিষ্ঠাই আমার বড় শক্তি, আর জনগণের আস্থা-বিশ্বাস ও ভালবাসা আমার সম্পদ। সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছি বলেই দেশী-বিদেশী সকল চাপ ও বাধা উপেক্ষা করেই আমরা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।

বৃহস্পতিবার রাতে ডেপুটি স্পীকার এ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বি মিয়ার সভাপতিত্বে সপ্তম জাতীয় সংসদের সমাপনী অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি সম্পর্কে বলেন, একসঙ্গে এত বেতন বৃদ্ধি অতীতে কোন সরকার করতে পারেনি। নিচের পর্যায়ে একশ’ ভাগেরও বেশি বৃদ্ধি করেছি। বাংলাদেশের ইতিহাসে আর কোনদিন এত বেতন বৃদ্ধি কখনও হয়নি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এত বেতন বৃদ্ধি করার পরও দেখছি কেউ কেউ অসন্তোষ প্রকাশ করছে। এর সমাধান কীভাবে হবে? আমরাই প্রথম বেতন-ভাতা বৃদ্ধিকে একটি সিস্টেমের মধ্যে এনেছি। এখন থেকে প্রতিবছর নির্দিষ্টহারে সবার বেতন-ভাতা বৃদ্ধি পাবে।

বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভ্যাট আরোপের প্রতিবাদে কিছু শিক্ষার্থীর আন্দোলন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ভ্যাট তো শিক্ষার্থীদের দিতে হবে না। এটা দেবে বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এটা তারা মেনেও নিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর ডেপুটি স্পীকার রাত ১০টা ৫৫ মিনিটে রাষ্ট্রপতির আদেশ পাঠ করে সপ্তম সংসদ অধিবেশনের সমাপ্তি ঘোষণা করেন। সাংবিধানিক ধারাবাহিকতায় এ সংক্ষিপ্ত অধিবেশন গত পহেলা সেপ্টেম্বর শুরু হয়েছিল। অধিবেশন হয়েছে মাত্র ৮ দিন। সমাপনী অধিবেশনে বক্তব্য রাখেন বিরোধী দলের নেতা বেগম রওশন এরশাদও।

সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, এ অধিবেশন অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত হলেও বিরোধী দলের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গঠনমূলক। এখানে অতীতের মতো কোন খিস্তিখেউর, গলাবাজি কিংবা গালিগালাজ ছিল না। এটাই হচ্ছে সত্যিকারের সংসদীয় গণতন্ত্রের নমুনা।

বিএনপি-জামায়াত জোটের দু’দফা দেশব্যাপী ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ, জ্বালাও-পোড়াও ও পুড়িয়ে মানুষ হত্যার ঘটনার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেকেই নির্বাচন নিয়ে নানা কথা বলেছে। কিন্তু এ নির্বাচন ঠেকানোর নামে বিএনপি-জামায়াত আন্দোলনের নামে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছিল। দেশে যাতে গণতন্ত্র না থাকে সেই চেষ্টাই করেছিল। দেশ আজ সবদিক থেকে এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবেই।

সংসদ নেতা বলেন, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে আমি জনকল্যাণে কাজ করি বলেই পদ্মা সেতু নিয়ে বিশ্বব্যাংকের চাপ ও মিথ্যা অপবাদ এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় কার্যকর না করতে বিশ্বের অনেক বড় নেতার ফোনও অগ্রাহ্য করতে পেরেছি।

সরকারের চলমান উন্নয়নমূলক কর্মকা- যাতে দ্রুতগতিতে সম্পন্ন হয় সেজন্য সংসদ সদস্যসহ জনপ্রতিনিধিদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের সরকারের আর ৩ বছর ৩ মাস সময় রয়েছে। তবে ৩ মাস সময় যাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে। বাকি ৩ বছরে প্রত্যেক সংসদ সদস্যকে সততা ও নিষ্ঠা নিয়ে নিজ নিজ এলাকার উন্নয়ন কাজ এগিয়ে নিতে হবে।

সম্প্রতি মার্কিন সংস্থা আইআরআইর জরিপে তাঁর নিজেরসহ আওয়ামী লীগের জনসমর্থন বৃদ্ধি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ যে সম্মান বাংলাদেশ পেয়েছে, তার কৃতিত্ব শুধু আমার নয়, এটি বাংলাদেশের জনগণের।

ঢাকার জলাবদ্ধতা সম্পর্কে বিরোধী দলের নেতার বক্তব্যের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একের পর এক সরকার এসে খাল ও লেকগুলো ভরাট করে নিজেদের লোকদের জমি দিয়েছে। জিয়া-এরশাদ-খালেদা জিয়া সব সরকারই এটা করেছে। যা সর্বনাশ হবার আগেই হয়েছে। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বড় বড় ভূমিখোকোদের বাধা ও অঢেল টাকার মালিকরা কুড়িল খাল পুনরুদ্ধারে বাধা দিচ্ছে, কেউ জমি ছাড়তে চায় না। এই খালটি পুনরুদ্ধারে যতই টাকাই লাগুক, আর যতই বাধা আসুক না কেন- কুড়িল খালটি করা হবেই। নইলে এ এলাকার জলাবদ্ধতা ঠেকানো যাবে না।

শিশু ও নারী নির্যাতন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ব্যাপক জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, যারা এসব অপকর্মের সঙ্গে জড়িত তাদের গ্রেফতার করে শাস্তির মুখোমুখি করা হচ্ছে। কিন্তু বাঙালী জাতি হুজুগে। একটা কোন ঘটনা ঘটলেই তা পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে। এর কারণ অবশ্যই আমাদের খুঁজে বের করতে হবে।

আমরা সংসদে ছায়া সরকারের দায়িত্ব পালন করছি- বিরোধী দলের নেতা ॥ সমাপনী বক্তব্যে অংশ নিয়ে বিরোধী দলের নেতা বেগম রওশন এরশাদ তাদের সমালোচকদের উদ্দেশে করে বলেন, আমরা সংসদে ছায়া সরকারের ভূমিকা পালন করছি। আমরা ছায়া সরকার। আমরা সেই ভূমিকাই পালন করতে চাই।