১২ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শরণার্থী সঙ্কট ॥ একমত হতে পারছে না ইউরোপ

অনলাইন ডেস্ক ॥ ইউরোপের শরণার্থী সংকট নিয়ে বিভাজন বৃহস্পতিবার আরো তীব্র হয়েছে। বলকান হয়ে হাঙ্গেরিতে রেকর্ড সংখ্যক অভিবাসীর ঢল নামার প্রেক্ষাপটে এ বিভক্তি দেখা দিয়েছে। অস্ট্রিয়া সীমান্ত পারাপারের ট্রেন সার্ভিস বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে।

জার্মানি সতর্কবাণী করেছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্য দেশগুলোর মধ্যে নতুন আগত ১ লাখ ৬০ হাজার শরণার্থী ভাগ করে নেয়ার পরিকল্পনা ‘সমুদ্রে এক বিন্দু পানির মতো’।

ইউরোপের যে সব দেশে হাজারে হাজারে শরণার্থী ঢুকছে সেগুলোসহ ইইউ’র পূর্বাঞ্চলের সদস্য দেশগুলো ইতোমধ্যে ওই পরিকল্পনার ব্যাপক বিরোধিতা করছে। ওইসব দেশ বলছে, তারা শরণার্থী নেয়ার ইইউ কোটা মানবে না।

পররাষ্ট্র মন্ত্রী ফ্রাংক-ওয়াল্টার স্টেইনমিয়ার শুক্রবার প্রাগে অনুষ্ঠেয় এক বৈঠকে ইউরোপের পূর্বাঞ্চলীয় দেশগুলোর মন জয়ের চেষ্টা করবেন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বৃহত্তম অভিবাসী সংকট কিভাবে মোকাবেলা করা হবে তা নিয়ে ইইউ দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছে। কয়েকটি দেশ সীমান্ত কঠোর করেছে। আবার কিছু দেশ দেশান্তরীদের জন্য দুয়ার খুলে দিয়েছে।

গ্রিসের লেসবোস দ্বীপে সোমবার সন্ধ্যা নাগাদ প্রায় ২২ হাজার শরণার্থী এসে পৌঁছেছে। শরণার্থীদের অনেকেই সিরিয়ার বাসিন্দা এবং তারা তুরস্ক থেকে গ্রিস এসেছে।

হাঙ্গেরি পুলিশ বলেছে, একটি কঠিন ও নতুন দেশান্তরী বিরোধী আইন কার্যকর হওয়ার আগে বৃহস্পতিবার তড়িঘড়ি করে ২৪ ঘন্টায় ৩৩২১ জন দেশটিতে ঢুকেছে। দেশটির সীমান্তে বেড়া দেয়ার কাজ সমাপ্ত হয়েছে এবং আবহাওয়ার পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়েছে।

অস্ট্রিয়ার ট্রেন পরিচালক সংস্থা বৃহস্পতিবার অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে হাঙ্গেরির সঙ্গে ট্রেন সার্ভিস বন্ধ করে দিয়েছে এবং অভিবাসীদের স্টেশনে না আনতে বিভিন্ন বাস কোম্পানি ও স্বেচ্ছাসেবীদের প্রতি আহবান জানিয়েছে।

সার্বিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলা হয়েছে, হাঙ্গেরির সঙ্গে সীমান্তবর্তী এলাকায় ৫ হাজার লোক এসে পৌঁছেছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী সতর্কবাণী করেছেন, মঙ্গলবার নতুন অভিবাসন আইন কার্যকর হলে পরিস্থিতির অবনতি ঘটবে।

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা মঙ্গলবার জানায়, কমপক্ষে ৪২ হাজার দেশান্তরী আগামী সপ্তাহ নাগাদ হাঙ্গেরিতে ঢোকার অপেক্ষায় রয়েছে। অনেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে ঢুকছে। সিরিয়া, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানে যুদ্ধবিগ্রহ ও দারিদ্র্যের কারণে ওইসব দেশ থেকে দেশান্তরীদের বেশিরভাগই পালিয়ে আসছে।

গ্রিসের সঙ্গে মেসিডোনিয়ার সীমান্তবর্তী এলাকায় বার্তা সংস্থা এএফপি’র এক সাংবাদিক রয়েছেন। তিনি দেখতে পেয়েছেন, ৫০ টি বাসে করে প্রায় ২৫০০ দেশান্তরী ও তিনটি ট্রেনে করে ৩০০০ জন গেভগিলিজা শহর ছেড়েছে।

ইউরোপে শরণার্থী সংকট মোকাবেলা ও সম্মুখসারির দেশগুলোর ওপর চাপ কিভাবে সামলানো যায় তা নিয়ে সোমবার ইইউ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরা বৈঠক করবেন।

জার্মানিতে ইতোমধ্যে সাড়ে ৪ লাখ দেশান্তরী আশ্রয় নিয়েছে। দেশটি চায়, দেশান্তরীদের জন্য ইইউ আরো কিছু করুক। এমনকি এ ক্ষেত্রে কোন কোটা বা সীমাবদ্ধতা না রাখারও আহবান জানিয়েছে দেশটি।

ডেপুটি চ্যান্সেলর সিগমার গ্যাব্রিয়েল বলেন, ‘ইউরোপের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে এক লাখ ৬০ হাজার শরণার্থী ভাগ করে নেয়া হল প্রথম পদক্ষেপ। তবে এটা তাদের জন্য নেহাতই সামান্য।

এদিকে পূর্ব ইউরোপের দেশগুলো বাধ্যতামূলকভাবে শরণার্থী নেয়ার পরিকল্পনার কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে।

রোমানিয়ার প্রেসিডেন্ট ক্লায়াস লোহানিস বলেছেন, সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে পরামর্শ ছাড়া বাধ্যতামূলক কোটা নিয়ে আলোচনা করা যথোপযুক্ত নয়। স্লোভাকিয়ার প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকোও একই সুরে কথা বলেছেন