২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

একমাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি দাখিলের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

  • ডিসেম্বরেই আ’লীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলন

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ যত সমস্যাই হোক, আগামী ডিসেম্বরেই আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিল অনুষ্ঠানের নির্দেশ দিয়েছেন দলটির সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে দ্রুত মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা-মহানগর কমিটির সম্মেলন অনুষ্ঠান এবং সম্মেলন হওয়া জেলা-মহানগর কমিটির পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা আগামী এক মাসের মধ্যে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জমা দেয়ার নির্দেশও দেন তিনি। শুক্রবার রাতে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সাংগঠনিক বিষয়ে আলোচনার সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতাদের এমন নির্দেশ দেন বলে বৈঠকে উপস্থিত একাধিক নেতার সঙ্গে আলোচনা করে জানা গেছে। বৈঠকে সাংগঠনিক বিষয় ছাড়াও দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সম্প্রতি কিছু নেতার অতিকথন, আসন্ন পৌর ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনসহ নানা বিষয়ে কেন্দ্রীয় নেতারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে খোলামেলা কথা বলেন।

বৈঠক সূত্র জানায়, আগামী ডিসেম্বরেই দলের কেন্দ্রীয় ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের ব্যাপারে দৃঢ় অবস্থান নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, কোন রাজনৈতিক দলই গণতান্ত্রিক নিয়মে নির্ধারিত সময়ে কেন্দ্রীয় কাউন্সিল করতে পারেনি। একমাত্র আওয়ামী লীগই নির্ধারিত সময়ে কেন্দ্রীয় কাউন্সিল করেছে, আগামীতেও করবে। তিনি দ্রুত মেয়াদোত্তীর্ণ তৃণমূলের সব কমিটির সম্মেলন শেষ করার নির্দেশ দিয়ে বলেন, জেলা কমিটিসহ তৃণমূলের যেসব কমিটির সম্মেলন ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে তাদের আগামী এক মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা কেন্দ্রীয় দফতরে জমা দিতে হবে।

জানা গেছে, বৈঠকে সম্মেলন সম্পন্ন হওয়া শাখাগুলোকে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের জন্য সময়সীমা বেঁধে দেয়ার প্রস্তাব করেন আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আর দেরি করা যাবে না, আগামী এক মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে কেন্দ্রীয় দফতরে জমা দিতে হবে। তবে কমিটি গঠনের আগে সংশ্লিষ্ট এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে নিতে হবে। এ সময় তিনি গোলাপগঞ্জ, কিশোরগঞ্জসহ যেসব জেলায় দীর্ঘদিন ধরে সম্মেলন হয় না সেগুলোতে দ্রুত সম্মেলন করার তাগিদ দেন।

বৈঠক সূত্র জানায়, বৈঠকে দু’জন কেন্দ্রীয় নেতা সম্প্রতি ১৪ দলের শরিক একটি দলের বিরুদ্ধে কিছু নেতার বক্তব্য এবং পাল্টা বক্তব্যকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা যাদের নিয়ে সরকার গঠন করেছি তাদের সম্পর্কে কোন কথা না বলাই ভাল। এর বেশি কোন কথা বলেননি তিনি।

আসন্ন সারাদেশে পৌর ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন প্রসঙ্গ উত্থাপিত হলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন থেকেই এ ব্যাপারে প্রস্তুতি নিতে হবে। এখন থেকে প্রতিটি পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদে দলের পক্ষ থেকে একক প্রার্থী নিশ্চিত করা যায় সেজন্য কেন্দ্রীয় নেতাদের কাজ করতে হবে। প্রয়োজন হলে প্রতিটি এলাকার সংসদ সদস্য ও জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে একক প্রার্থী নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যানের অযাচিত নানা বক্তব্যে সম্পর্কে একজন কেন্দ্রীয় নেতা ক্ষোভ জানালেও এ ব্যাপারে কোনই মন্তব্য করেননি প্রধানমন্ত্রী।

বৈঠকে কুমিল্লা উত্তর ও দক্ষিণ দলের সাংগঠনিক কমিটি নিয়ে বিদ্যমান সমস্যার বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী সবার সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য দলের সভাপতিম-লীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিমের নেতৃত্বে ৪ সদস্যদের একটি কমিটি গঠন করে দেন।

বঙ্গবন্ধু কোন একক দল বা গোষ্ঠীর নয়, তিনি সর্বজনীন ॥ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কোন একক দল বা গোষ্ঠীর নয়, বঙ্গবন্ধু দেশের সকল মানুষের। বঙ্গবন্ধু সর্বজনীন। ‘৭৫-এর পর বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারকে নিয়ে দীর্ঘদিন নানা অপপ্রচার চালানো হয়েছে। কিন্তু এখন দেশের জনগণ সত্য সবকিছু উপলব্ধি করছে। আগামীতে বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের কোন সদস্যকে নিয়ে কেউ অপপ্রচার করলে দেশের জনগণ তা আর সহ্য করবে না।

শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে সূচনা বক্তব্য রাখতে গিয়ে সৈয়দ আশরাফ এবার দেশব্যাপী জাতীয় শোক দিবসে অবিশ্বাস্য মানুষের ঢল এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে জাতি বঙ্গবন্ধুকে স্মরণের কথা উল্লেখ করে বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আওয়ামী লীগেরও নন, তিনি জাতির পিতা। আমরা চাই বঙ্গবন্ধুকে সর্বজনীন করতে।

তিনি বলেন, ভারতের মহাত্মা গান্ধী, পাকিস্তানের মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, আফ্রিকার নেলসন ম্যান্ডেলা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জর্জ ওয়াশিংটনকে নিয়ে কোন দ্বিধাদ্বন্দ্ব বা বিতর্ক নেই, তবে বাংলাদেশে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কেন দ্বিধাদ্বন্দ্ব বা বিতর্ক থাকবে? বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কোন বিতর্ক থাকতে পারে না। বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতাপ্রিয় দেশের প্রতিটি জনগণের হৃদয়ের মণিকোঠায় রয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী ও দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে অতীতের মতো সূচনায় আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর বক্তব্য দেয়ার কথা থাকলেও তিনি বক্তব্য না দিয়ে সৈয়দ আশরাফের হাতে মাইক তুলে দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, গতকাল (বৃহস্পতিবার রাতে) সংসদে বক্তব্য দিয়েছি, আগামীকাল (শনিবার) সকালে আবার বক্তব্য দেব। তাই আজ আমি কিছু বলব না, যা বলবে সৈয়দ আশরাফই বলবে।

সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের সূচনা বক্তব্যের পর বৈঠকে শোক প্রস্তাব পাঠ করেন কেন্দ্রীয় দফতর সম্পাদক এ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান খান এমপি। এরপর বৈঠকে সাংগঠনিক ও দেশের সর্বশেষ রাজনৈতিক বিষয় ছাড়াও জাতির জনকের কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেলের জন্মদিন, ৩ নবেম্বর জাতীয় জেলহত্যা দিবসের কর্মসূচী চূড়ান্ত করা হয়। বৈঠকে বেগম মতিয়া চৌধুরী, মোহাম্মদ নাসিম, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, ওবায়দুল কাদের, কাজী জাফর উল্লাহ, এ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, সতিশ চন্দ্র রায়, আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ, মাহবুবউল আলম হানিফসহ কেন্দ্রীয় প্রায় সকল নেতাই উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে সৈয়দ আশরাফ দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, অতীতের যে কোন সময়ের তুলনায় এবার জাতীয় শোক দিবস ব্যাপকভাবে পালিত হয়েছে। আগের তুলনায় দ্বিগুণ-তিনগুণ মানুষের ঢল ছিল শোক দিবসের অনুষ্ঠানে। ৪০ দিনব্যাপী কর্মসূচীর প্রতিটিতেই স্বতঃস্ফূর্ত মানুষের উপস্থিতি ছিল উল্লেখ করার মতো। লাখ লাখ মানুষ শোক দিবসের কর্মসূচীতে অংশ নিয়ে জানিয়ে দিয়েছে তারা কি ভীষণভাবে বঙ্গবন্ধুকে ভালবাসেন।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুসহ তাঁর পারিবারকে নিয়ে দীর্ঘদিন যে অপপ্রচার চালানো হয়েছিল তা আস্তে আস্তে কেটে যাচ্ছে। স্বাধীনতার পর পরিকল্পিতভাবে বঙ্গবন্ধু পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা করা হয়েছিল। সব বাধা উপেক্ষা করে বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা দেশে ফেরার পর থেকে শেখ হাসিনা সকল অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে দেশকে আজ এ পর্যন্ত নিয়ে এসেছেন। গোটা জাতি আজ উপলব্ধি করতে পারছে কেন বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। কেন তাঁর পরিবারকে নিয়ে অপপ্রচার চালানো হয়েছে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বঙ্গবন্ধু আজ স্বমহিমায় উদ্ভাসিত। বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারকে নিয়ে আর কোন কুৎসা বা কালিমালেপনের চেষ্টা দেশের জনগণ সহ্য করবে না। দেশের মানুষ স্বউদ্যোগেই বঙ্গবন্ধু যে স্থানে বা উচ্চতায় ছিল সেই স্থানে নিয়ে যাচ্ছেন। বঙ্গবন্ধু আস্তে আস্তে সব বিতর্কের উর্ধে উঠে সর্বজনীন হচ্ছেন। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, আগামী ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস থেকে দেশের সব পেশার মানুষ একাকার হয়ে পালন করবে।