২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বাসের টিকেটের জন্য যুদ্ধ শুরু, প্রথম দিনেই নানা অভিযোগ

বাসের টিকেটের জন্য যুদ্ধ শুরু, প্রথম দিনেই নানা অভিযোগ
  • ঈদে ঘরে ফেরা

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ঈদ-উল-আযহা সামনে রেখে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার বাসের আগাম টিকেট বিক্রি শুরু করেছে পরিবহন সংস্থাগুলো। বরাবরের মতোই রাজধানীর বিভিন্ন বাস কাউন্টারে দেখা গেছে টিকেট প্রত্যাশীদের দীর্ঘ লাইন। প্রথম দিনে বাড়তি দাম, কালোবাজারে টিকেট বিক্রি হওয়াসহ নানা ভোগান্তির অভিযোগ করেছেন অনেকে।

পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ২২Ñ২৪ সেপ্টেম্বরের বাসের টিকেটের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। বিলাসবহুল বাসের টিকেট পেতে রীতিমতো যুদ্ধ করতে হচ্ছে সবাইকে। ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে বিআরটিসি বাসের টিকেট বিক্রি হবে।

শুক্রবার সকাল থেকে বিভিন্ন পরিবহন কাউন্টারে ১৭Ñ২৪ সেপ্টেম্বরের টিকেট বিক্রি শুরু হয়। ভোর থেকে কাউন্টারের সামনে টিকেট প্রত্যাশীদের দীর্ঘ লাইন চোখে পড়ে। গাবতলী বাস টার্মিনাল এবং কল্যাণপুর, শ্যামলী ও মিরপুর মাজার রোডের বাস কাউন্টার থেকে ঈদের আগাম টিকেট বিক্রি শুরু হয় সকাল নয়টার পর।

সকাল থেকে দীর্ঘ অপেক্ষার পর যারা টিকেট পেয়েছেন, তারা বাড়ি ফিরছেন স্বস্তি আর আনন্দ নিয়ে। দেখিয়েছেন ভি চিহ্ন। সকাল ৬টা থেকে টিকেট বিক্রির কথা থাকলেও বেশিরভাগ কাউন্টার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ৮টার পরে খুলেছে বলে লাইনে দাঁড়ানো যাত্রীরা অভিযোগ করেছেন। কল্যাণপুর বাস টার্মিনালে টিকেটের অপেক্ষায় থাকা দিনাজপুরের আহসান বলেন, ভোর থেকেই কাউন্টারের সামনে মানুষের দীর্ঘ লাইন চোখে পড়ে। সকাল ৬টার আগেই কাউন্টারে এসেছি। লাইনে দাঁড়িয়ে আছি তিন ঘণ্টা। টিকেট পাব কি না জানি না। অনেকে লাইনে না দাঁড়িয়েও টিকেট ‘ম্যানেজ’ করে ফেলছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

শ্যামলী পরিবহনের কাউন্টার থেকে রংপুরের টিকেট নিতে আসা আজাদ জানান, সকাল ৬টায় লাইনে দাঁড়িয়ে তিনি টিকেট পেয়েছেন দুপুরে। অন্য সময় ঢাকা থেকে রংপুরের টিকেট ৫০০ টাকা হলেও এখন টিকেটের দাম ৬০০ টাকা নেয়ার অভিযোগ করেন তিনি। একই অভিযোগ করেন একই পরিবহনের টিকেট পাওয়া যাত্রী মান্নান মিয়া। কল্যাণপুরে টিআর পরিবহনের কাউন্টার ম্যানেজার শাহেদুর রহমান মুক্ত জানান, চাহিদা মেটাতে গিয়ে তারা হিমশিম খাচ্ছেন। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে টিকেট কিনতে ভোগান্তির কথা স্বীকার করেই তিনি বলেন, এই ভোগান্তি আনন্দেরই অংশ। আমরা চেষ্টা করছি যেন টিকেট কাটতে যাত্রীদের ভোগান্তি কম হয়। কিন্তু জায়গা স্বল্পতার কারণে স্বস্তিতে টিকেট সংগ্রহের ব্যবস্থা করা যাচ্ছে না বলে জানান তিনি।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ২৫ সেপ্টেম্বর হতে পারে কোরবানির ঈদ। তবে বাংলাদেশ এ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটি বলছে ২৪ তারিখে ঈদ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করছে সবকিছু। কিন্তু অনেকেই বলছেন, ২৫ সেপ্টেম্বর ঈদ হওয়ার কথা। তবে পরিবহন সংস্থাগুলো ২৫ সেপ্টেম্বর ঈদ ধরেই টিকেট বিক্রি শুরু করেছে।

টার্মিনাল ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ কাউন্টারেই পুরুষ ও নারীদের জন্য আলাদা লাইনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিটি কাউন্টারের প্রবেশমুখে মোতায়েন রয়েছেন একজন করে পুলিশ সদস্য। এরপরও অনেকে লাইন ভেঙে সামনে গিয়ে টিকেট কাটার চেষ্টা করছেন, যা নিয়ে হৈ চৈ হচ্ছে। হচ্ছে কথা কাটাকাটি। তবে নারীদের দাবি তাদের জন্য টিকেটের বুথ বাড়ানোর।

পঞ্চগড়ের টিকেট কাটতে গাবতলীতে আসা সোহেল রানা বলেন, লাইনে দাঁড়িয়ে বলতে পারছি না টিকেট কাউন্টারের ভেতরে কি হচ্ছে। টিকেট পাব কি না জানি না। হানিফ এন্টারপ্রাইজের বিপণন এক্সিকিউটিভ ইকবাল হোসেন জানান, প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত টিকেট বিক্রি করবেন তারা। গাবতলীতে এ পরিবহনের কাউন্টারে সকাল থেকেই দেখা যায় দীর্ঘ লাইন। বিভিন্ন বাস কোম্পানি অনলাইনে টিকেট কেনার সুযোগ রাখার ঘোষণা দিলেও ঈদের আগাম টিকেট অনলাইনে পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন বেশ কয়েকজন।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েতুল্লাহ জানান, মহাখালী ও সায়েদাবাদ থেকে বৃহত্তর ময়মনসিংহ ও সিলেট অঞ্চলের বাসের কোন অগ্রিম টিকেট দেয়া হবে না। এর বাইরে অন্যান্য জেলার অগ্রিম টিকেট বিক্রি শুরু হবে আজ ১২ সেপ্টেম্বর সকাল থেকে। বিআরটিসির আগাম টিকেট পাওয়া যাবে আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে। মতিঝিল, কল্যাণপুর, জোয়ারসাহারা, গুলিস্তান এই চারটি ডিপো থেকে একযোগে টিকেট বিক্রি শুরু হবে।

এদিকে গাবতলীর হানিফ এন্টারপ্রাইজের কাউন্টারেই ভিড় সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। হানিফ পরিবহনের গাবতলী বালুরমাঠ কাউন্টার থেকে বিক্রি হচ্ছে রাজশাহী, দিনাজপুর, নাটোর, রংপুর, সিরাজগঞ্জ, কক্সবাজারসহ বিভিন্ন রুটের টিকেট। কল্যাণপুরে ডিপজল পরিবহনের কাউন্টারের সামনে দেখা যায় কয়েক শ’ টিকেট প্রত্যাশী যাত্রী কড়া রোদের মধ্যে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। রোদ থেকে বাঁচতে কেউ কেউ মাথার ওপর পেপার ধরে রেখেছেন। তবে দুপুর দুইটার পর হঠাৎ বৃষ্টি হওয়ায় বিপাকে পড়েন টিকেট নিতে আসা মানুষ। সব মিলিয়ে রোদ বৃষ্টি উপেক্ষা করে সোনার হরিণ টিকেট সংগ্রহে সাধ্যমতো যুদ্ধ চালিয়ে গেছেন সবাই। হানিফ এন্টারপ্রাইজের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মোঃ মোশাররেফ হুসাইন বলেন, ২২ ও ২৩ বাদে আমাদের টিকেট আছে। অন্য দিনের টিকেট এখনও ৫০ শতাংশ অবিক্রিত।

নির্বাচিত সংবাদ