১৫ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আন্দোলন নিয়ে শিক্ষার্থীরা পরস্পরবিরোধী অবস্থান নিয়েছে

  • এক দলের কর্মসূচী প্রত্যাহার অন্যদের চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ভ্যাটের অর্থ শিক্ষার্থীদের পরিশোধ করতে হবে না বলে প্রধানমন্ত্রী ও এনবিআরের দেয়া ঘোষণার পর বিভক্ত হয়ে পড়েছে বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন। ঘোষণায় আশ্বস্ত হয়ে কর্মসূচী প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে আন্দোলনরতদের সংগঠন বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রকল্যাণ ফাউন্ডেশন। এর পর কেউ আন্দোলন করলে তা প্রতিহতের হুমকি দিয়েছেন সংগঠনের নেতারা। তবে আরেকটি অংশ এনবিআরের বক্তব্যকে চাতুরতা অভিহিত করে ভ্যাট প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত স্ব স্ব ক্যাম্পাসে ধর্মঘট ও অবস্থান কর্মসূচীর ঘোষণা দিয়েছে। আন্দোলনকারীদের আরেক প্লাটফর্ম ‘নো ভ্যাট অন এডুকেশন’ থেকে ঘোষণা দেয়া হয়েছে তিন দিনের ছাত্র ধর্মঘটের। এদিকে আরোপিত ভ্যাট ও ট্যাক্সের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোক্তারা।

এর আগে বৃহস্পতিবার বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ব্যাপক বিক্ষোভের মধ্যেই জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ঘোষণা দেয়, ওই কর পরিশোধের দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের, ছাত্রছাত্রীদের নয়। এনবিআরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সৈয়দ এ মু’মেন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করার জন্য নতুন করে ভ্যাট আরোপ করা হয়নি। বিদ্যমান টিউশন ফির মধ্যে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত। ভ্যাট বাবদ অর্থ পরিশোধ করার দায়িত্ব সম্পূর্ণরূপে বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের, কোনক্রমেই শিক্ষার্থীদের নয়। বিদ্যমান টিউশন ফির মধ্যে ভ্যাট ‘অন্তর্ভুক্ত থাকায় টিউশন ফি বাড়ার কোন ‘সুযোগ নেই’ বলেও এতে উল্লেখ করা হয়। এর পর রাতে সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বলেন, এই ভ্যাট তো ছাত্রদের দিতে হবে না। এটা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে দিতে হবে। এটা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ স্বীকার করেছে। এ ঘোষণায় আশ্বস্ত হয়ে বৃহস্পতিবার রাতেই ধানম-িতে অবস্থান নেয়া একটি পক্ষ আন্দোলন না করার জন্য অন্যান্য পক্ষকে আহ্বান জানায়। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। এর পর এই পক্ষ বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রকল্যাণ ফাউন্ডেশনের ব্যানারে শুক্রবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলন করে ঘোষণা দেয়, বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর আরোপিত ‘ভ্যাট শিক্ষার্থী নয়, বিশ্ববিদ্যালয়কে দিতে হবে’ এ অবস্থানে আশ্বস্ত হয়ে আন্দোলন প্রত্যাহার করা হচ্ছে। সংগঠনের সভাপতি আসাদুজ্জামান রনো এ ঘোষণা দিয়ে একই সঙ্গে বলেন, এর পর কেউ আন্দোলন করলে বা আন্দোলনের উস্কানি দিলে তা প্রতিহত করবে তারা। চলমান আন্দোলনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মালিকদের দোষারোপ করে বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রকল্যাণ ফাউন্ডেশনের সভাপতি বলেন, গত দু’দিনে রাজধানীতে চলতে গিয়ে আপনারা প্রত্যক্ষ করেছেন, বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ভ্যাট ইস্যুতে ক্লাসরুম ছেড়ে মাঠে নেমে এসেছে। প্রকৃতপক্ষে আমাদের ভুল বুঝিয়ে মালিকপক্ষ রাস্তায় নামিয়েছে। মালিকপক্ষের পাতানো ফাঁদে পা দিয়ে আমাদের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাই পুলিশের রবার বুলেট, টিয়ারশেল ও লাঠিচার্জের শিকার হয়েছেন। আমরা তাদের প্রতি সমবেদনা জানাই। তিনি বলেন, যেহেতু শিক্ষার্থীদের কোন ধরনের ভ্যাট দিতে হবে না এবং টিউশন ফি বাড়বে না- সরকারের এমন ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা সব বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলন প্রত্যাহার করছি। এর পর যদি কেউ আন্দোলন করতে চায় বা উস্কানি দেয়, তবে বুঝতে হবে নিঃসন্দেহে স্বার্থান্বেষী মহল বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করে নিজেদের নীলনক্সা বাস্তবায়ন করতে চায়। এ ব্যাপারে সবার সজাগ দৃষ্টি কাম্য। সরকার আরোপিত ভ্যাট দিতে বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আপত্তি কোথায় এ প্রশ্ন করে রনো বলেন, মালিকপক্ষ সরকারের সঙ্গে দেনদরবারে ব্যর্থ হয়ে আমাদের ভাইবোনদের রাস্তায় নামিয়ে পুলিশের টিয়ারশেল, লাঠিচার্জের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। কার স্বার্থে দুই কোটি নগরবাসী ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন? গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে রহস্য উদঘাটনেরও অনুরোধ জানান তিনি। আপনারা আন্দোলন প্রত্যাহার করে নিলেন, শিক্ষার্থীদের আরেকপক্ষ সংবাদ সম্মেলন করে নতুন আন্দোলনের ঘোষণা দিচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আসাদুজ্জামান রনো বলেন, কেউ বিচ্ছিন্ন আন্দোলন করলে এটা তার ব্যাপার। ওটা প্রতিহত করার জন্য কোন উদ্যোগ বা কর্মসূচী দিতে হলে আমরা অবশ্যই দেব। এ সময় রনো সরকারের কাছে জোর দাবি জানিয়ে বলেন, কোনভাবেই যেন শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি বাড়ানো না হয়। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে কড়া নজরদারি করতে হবে।

এ সময় আনন্দ সাহা পার্থ, গাজী ফয়সাল ইসলাম, নাহিদুর রহমান জয়, আমিনুল ইসলাম তারেক, রাজ্জাক হোসাইন রাজ, সজিব ইসলাম, আসিফ ইকবাল অনিক, দেবাশীষ শিকদার মিথুন, জোবায়ের হোসেন শাওন, রকিবুল ইসলাম সাকিব, ইউসুফ আলী নামের বিভিন্ন বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে আজকের মধ্যে আরোপিত ভ্যাট প্রত্যাহারের বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত না এলে লাগাতার ধর্মঘট ও অবস্থান কর্মসূচী ঘোষণা করেছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের আরেক অংশ। সকালে ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির সামনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সঙ্কট নিয়ে প্রধানমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন আমরা তাকে সাধুবাদ জানাই। কিন্তু ‘ভ্যাট দেবে কর্তৃপক্ষ, ছাত্ররা নয়’ তার এ বক্তব্য আমরা শ্রদ্ধার সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করছি। সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা দুই দফা দাবি তুলে ধরেন। এগুলো হলো- শিক্ষার ওপর ভ্যাট প্রত্যাহার এবং বুধবার ইস্ট ওয়েস্টে পুলিশী হামলা ও বৃহস্পতিবার ড্যাফোডিলে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারীদের বিচার। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এনবিআর হঠাৎ করে বিবৃতি দিয়ে আন্দোলন দ্বিধাগ্রস্ত করতে চাইছে। এই মুহূর্তে ইস্ট ওয়েস্টে যেহেতু আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছে, তাই এ আন্দোলনকে চালিয়ে নেয়া আমরা নিজেদের দায়িত্ব বলে মনে করছি। তাই ইস্ট ওয়েস্টের শিক্ষার্থীরা ভ্যাটবিরোধী নৈতিক আন্দোলন চালিয়ে যবে। শিক্ষার ওপর ভ্যাট বাতিল না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে আন্দোলন চলবে বলে ঘোষণা দেন তারা।

অন্যদিকে সরকারের আশ্বাসকে ‘অতি চতুরতা’ আখ্যায়িত করে ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবিতে তিন দিনের ছাত্র ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অপর একটি অংশ। ‘নো ভ্যাট অন এডুকেশন’ এর অন্যতম সমন্বয়ক জ্যোতির্ময় চক্রবর্তী শুক্রবার দুপুরের পর স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ধানম-ি ক্যাম্পাসে এক সংবাদ সম্মেলনে এই ছাত্র ধর্মঘটের ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, অবিলম্বে টিউশন ফির ওপর থেকে ভ্যাট প্রত্যাহার ও বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা বিবেচনায় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) মাধ্যমে বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য টিউশন ফি নির্ধারণের নীতিমালা প্রণয়নের দাবিতে আমরা ধর্মঘট পালন করব। বাংলাদেশের সকল বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিক্যাল এবং ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে এই ধর্মঘট চলবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। সরকারের এ আশ্বাসে সন্তুষ্ট নন জানিয়ে আন্দোলনকারীরা বলেন, সরকারের বা এনবিআরের ব্যাখ্যা অতি চতুরতাপূর্ণ। শিক্ষা মৌলিক অধিকার। এর ওপর আমরা কোন ধরনের ভ্যাট চাই না। ওই ভ্যাট বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দেবে বলা হলেও ভবিষ্যতে বিভিন্ন সার্ভিস চার্জ ও টিউশন ফির টাকা বাড়িয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকেই ওই ভ্যাট আদায় করবে বলে শিক্ষার্থীদের আশঙ্কা। পরে ধানম-ি এলাকায় বিক্ষোভ মিছিলও করেন আন্দোলনকারীরা।

বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আহ্বান উদ্যোক্তাদের ॥ বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর আরোপিত ভ্যাট প্রত্যাহারের বিষয়ে এনবিআরের সঙ্গে আলোচনা করবে বাংলাদেশ বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় মালিক বা উদ্যোক্তাদের সংগঠন বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি। শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর গুলশান ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন সমিতির সভাপতি শেখ কবির হোসেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সরকার শিক্ষার্থীদের ওপর কোন ভ্যাট নেই বলে জানিয়েছে। কিন্তু বাজেটে যে ভ্যাট আরোপ করেছে সেটা কে পরিশোধ করবে। তিনি বলেন, বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ট্রাস্টি বোর্ডের অধীনে পরিচালিত হয়। তারাই সবকিছু ব্যয় করেন। কিন্তু বাজেটে কিংবা এনবিআরের আইনে ট্রাস্টি বোর্ডকে ভ্যাটের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। বিষয়টি যেহেতু এনবিআরের সেহেতু আমরা তাদের সঙ্গে আলোচনা করব; তারপর এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বলেন, আমরা আরোপিত ভ্যাট ও ট্যাক্সের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। সংবাদ সম্মেলনে ছিলেন সাধারণ সম্পাদক মোঃ বেজনজীর আহমেদ, সহসভাপতি অধ্যাপক অব্দুল মান্নান চৌধুরীসহ বিভিন্ন নেতা।

শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর ভ্যাট আরোপের প্রতিবাদ বিরোধী দলের ॥ বেসরকারী শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর সাড়ে ৭ শতাংশ হারে ভ্যাট আরোপের তীব্র সমালোচনা করে অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের জোর দাবি জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এবং মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু।

শুক্রবার এক যুক্ত বিবৃতিতে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এবং মহাসচিব বলেছেন, শিক্ষা কোন পণ্য নয় যে এটার ওপর ভ্যাট আরোপ করা যাবে। শিক্ষা আমাদের নাগরিক সমাজের অধিকার। আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মকে গড়ে তোলার মাধ্যম এবং জাতির মেরুদ-। সেই শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর ভ্যাট আরোপের সিদ্ধান্তের চেয়ে জনস্বার্থ পরিপন্থি আর কোন কাজ থাকতে পারে না। এই খাতে ভ্যাট আরোপ করা হলে এটাই প্রতীয়মান হবে যে, সরকার শিক্ষার অগ্রগতি চায় না। এর ফলে বেসরকারী শিক্ষা কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হবে। এই ভ্যাট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওপর চাপিয়ে দেয়ার কথা বলা হলেও পরোক্ষভাবে তা ছাত্রছাত্রীর ওপরই বর্তাবে। বিবৃতিতে তারা আরও বলেন, সরকারের যদি এতই অর্থ সঙ্কট হয়ে থাকে তাহলে ব্যাংক থেকে যে পরিমাণ অর্থ লুটপাট হয়েছে সেই টাকা উদ্ধার করা হোক। যারা বিদেশে অর্থ পাচার করেছে সেই অর্থ দেশে ফেরত এনে সরকারী কোষাগারে জমা করা হোক। কিন্তু কোনভাবেই ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর ভ্যাট আরোপ করবেন না। বিবৃতিতে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এবং মহাসচিব অবিলম্বে শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর ভ্যাট আরোপের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

ফেসবুকে ভ্যাটের ঝড় ॥ বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার ওপর আরোপিত ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবিতে বিভিন্ন ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে বিক্ষোভ এবং আলোচনা-সমালোচনা ঝড় উঠেছে ফেসবুকে। জয়বাংলা, ভ্যাট সামলা! দেহ পাবি, মন পাবি, কিন্তু ভ্যাট পাবি না! এসব সেøাগান। কাজী মোঃ তারেক আজিজ তার ফেসবুক লিখেছেন- ‘দেহ পাবি, মন পাবি, কিন্তু ভ্যাট পাবি না’ এমন অশ্লীল বাক্য যাদের সেøাগান তাদের অন্তরে ও মস্তিষ্কে আর যাই হোক শিক্ষা নেই। শিক্ষার নামে ভার্সিটিতে ভর্তি হয়ে দেহবিনিময় কর্মসূচীই এদের একমাত্র লক্ষ্য। সে আরও লেখেছে- হে বাঙালী, তোমরা কাদের পক্ষে? শিক্ষার বিনিময়ে প্রতিবছর শতকোটি টাকা যারা মুনাফা করছে তাদের পক্ষে? আবদুল্লাহ আল জুবায়ের লিখেছেন-‘দেহের চেয়ে ভ্যাট যখন বড় হয়ে দাঁড়ায়......। ‘দেহ পাবি, মন পাবি, কিন্তু ভ্যাট পাবি না’ এমন একটি কথা প্ল্যাকার্ডে নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী নাদিয়া রহমান বাধন। ওই প্ল্যাকার্ডের সেøাগানে ঠিক কী বুঝিয়েছিলেন তার ব্যাখ্যা দিলেন বাধন। নিজের ফেসবুকে তিনি সেøাগানের ব্যাখায় লিখেছেন, ‘যদি সরকার আমাদের কথা মানে তাহলে আমরা সরকারের ওপর খুব হ্যাপি হবো (মন পাবি)। যদি পুলিশ দিয়ে গুলি করতে চায় তাও রেডি আছি (দেহ পাবি), কিন্তু কোন ভ্যাট নয়।’ তিনি আরও লিখেছেন, এই সিম্পল কথাটা না বুঝে যারা উল্টাপাল্টা কমেন্ট করছে তাদের কিছু বলার নেই আমার। অন্যদের শ্রদ্ধা করলেই কেবল আপনি কারও কাছ থেকে শ্রদ্ধা পেতে পারেন। বাধন তার ফেসবুকের আরেক স্ট্যাটাসে জানিয়েছেন, আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, ইস্ট ওয়েস্টেরও সাবেক শিক্ষার্থী। বেশ ভাল একটি প্রতিষ্ঠানে বেশ ভাল একটি পদে কর্মরত আছি। কাল ইউআইটিএস শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এই প্ল্যাকার্ডসহ ছবিটা তুলেছিলাম। তারপর বসুন্ধরা গেটে গিয়ে বসেছি। আরও অনেক প্ল্যাকার্ড হাতে ছবি তুলেছি, কিন্তু কোনটাই আমার নিজের (প্ল্যাকার্ড) না। এই ছবিটা ভাইরাল হয়েছে কারণ আমি মেয়ে এবং লেম মেন্টালিটির কিছু মানুষ আছে। এই প্ল্যাকার্ডের লেখাটা ফানি (মিনিংলেস না, কিন্তু সেটা বোঝার ক্ষমতা সবার নেই)। আমি মেয়ে বলে আসলে আমার প্ল্যাকার্ড ধরা ঠিক হয়নি, ঘরে বসে অন্যরা কে কি করল সেটা দেখে চুলকানো ঠিক ছিল, তাই না? আমি নিজেকে মানুষ ভাবতে পছন্দ করি, নিজেকে সেভাবেই ট্রিট করি।

ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি ইসলামী ছাত্রসেনার ॥ বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর আরোপিত ভ্যাট নিয়ে এনবিআরের বক্তব্য প্রহসন বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী ছাত্রসেনা নেতারা। জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ইসলামী ছাত্রসেনা, ঢাকা মহানগর আয়োজিত এক মানববন্ধনে এ মন্তব্য করেন। বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে টিউশন ফির ওপর থেকে সাড়ে সাত শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহার ও আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশী হামলার প্রতিবাদে এ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। ছাত্র নেতারা বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভ্যাট দেবে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে। তাই এ ধরনের টালবাহানামূলক সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে সরকারের ভ্যাট প্রত্যাহার করা উচিত। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন- ইসলামী ছাত্রসেনা ঢাকা মহানগরের সভাপতি ইমরান হোসেন তুষার, কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল হক তিসতী, সাধারণ সম্পাদক মোঃ শাহজালাল, সহসভাপতি আদবুল আলী মামুন এবং অর্থ সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন।