২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জাল সনদে বিপুল আনসার ॥ শনাক্ত ২২শ’র মধ্যে সন্দেহভাজন জঙ্গী ১১!

  • ‘ঈমানদার গ্রুপ’ নামে প্রশিক্ষণ দিয়ে পুনর্বহাল ;###;রয়েছে স্মার্টকার্ড জালিয়াতি ও ভুয়া সনদের সদস্য

মোয়াজ্জেমুল হক ॥ কখনও নিরাপত্তা বাহিনী পুলিশের সঙ্গে আবার কখনও এককভাবে আইনশৃঙ্খলায় নিয়োজিত বাহিনীতে এ পর্যন্ত ২২ শতাধিক জালিয়াতি ও ভুয়া সনদের আনসার ধরা পড়েছে। এছাড়া আনসার নিয়োগ ব্যবস্থায় ও আর্থিক খাতে বেশ কিছু কেলেঙ্কারির ঘটনার জন্ম নিয়েছে। এ নিয়ে সংস্থার অভ্যন্তরে তোলপাড় সৃষ্টি হলেও চিহ্নিত ভুয়া এসব আনসারের ‘ঈমানদার বাহিনী’ নাম দিয়ে পুনঃ ট্রেনিং করিয়ে নিয়োগ দেয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কোনরূপ শাস্তির ব্যবস্থা হয়নি। উল্টো এরা পেয়েছে পদোন্নতি। হয়েছেন পুরস্কৃত। এসব ঘটনা নিয়ে দুটি গোয়েন্দা সংস্থার তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে।

স্মার্টকার্ড জালিয়াতি, ভুয়া ও মিথ্যা সনদে এসব আনসার নিয়োগের ঘটনা ঘটেছে গত দু’বছরে। এর মধ্যে চট্টগ্রামে রয়েছে ১২ শতাধিক। এ ছাড়া ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও শরীয়তপুরে শনাক্ত হয়েছে আরও প্রায় এক হাজার। শরীয়তপুর আনসার ট্রেনিং কেন্দ্রে জঙ্গী সন্দেহে এবং ভুয়া সনদে ধরা পড়ার সংখ্যা ১১। এসব ঘটনা নিয়ে ক্ষুব্ধ আনসারদের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, নিজস্ব পেজ ব্লগে একের পর এক সংস্থার নানা অনিয়ম দুর্নীতির চিত্র ফাঁস করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত যে সব নামে পেজ ব্লগ ও গ্রুপের নাম পাওয়া গেছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ এম্বোডিড আনসার, দুর্বার আনসার, বাংলাদেশ আনসার বাহিনী, আনসার ব্যাটালিয়ন, বাংলাদেশ আনসার ভিডিপি অন্যতম। এসব পেজ ব্লগ এদের নিজস্ব তৈরি- যেখানে তারা নিজেদের ক্ষোভ, দুঃখ যন্ত্রণার পাশাপাশি দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরছেন। উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের এসব বিষয় গোচরে এলেও এর বিপরীতে কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় এর মাত্রা দিন দিন বেড়েই চলেছে। আনসার ভিডিপি প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা সংস্থার অভ্যন্তরে বেশ কিছু সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ করার পরও সাফল্য আসেনি। অব্যবস্থাপনা দূরীকরণ, অঙ্গীভূত আনসার মোতায়েন নিয়োগ, নিয়োগ ব্যবস্থা ডিজিটালাইজড করা হয়েছে। ঢাকা ও চট্টগ্রামে মহানগর ইউনিট খোলা হয়েছে। কিন্তু এরপরেও দুর্নীতিবাজরা যেন অপ্রতিরোধ্য। একটি শৃঙ্খলা বাহিনীতে অনিয়ম দুর্নীতি অব্যাহতভাবে এগিয়ে চলা নজিরবিহীন।

আনসার ভিডিপির সদর দফতরের একটি সূত্র জানায়, এ বিভাগের আট রেঞ্জের অধীনে দেশের ৬৪ জেলায় কমান্ড্যান্ট ও ৩৮ কমান্ডার রয়েছেন। এছাড়া জেলা ও মহানগর আনসার চার জোনে বিভক্ত। অনিয়ম দুর্নীতি ও জালিয়াতির সর্বাধিক ঘটনা ঘটেছে চট্টগ্রাম অঞ্চলে। উল্লেখ্য, মহানগর আনসার দুই জোনে বিভক্ত থেকে অপারেশন কর্মকা-ে নিয়োজিত। আনসার ও ভিডিপিতে রয়েছে সাধারণ আনসার, অঙ্গীভূত আনসার, ভিলেজ ডিফেন্স পার্টি (ভিডিপি), সব মহানগরীর জন্য টাউন ডিফেন্স পার্টি (টিডিপি) এবং তিন পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের জন্য রয়েছে হিল আনসার ও ভিডিপি। চট্টগ্রাম অঞ্চলে যেসব ভুয়া আনসার ধরা পড়েছে এবং আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনা ঘটেছে তার মধ্যে রয়েছে স্মার্টকার্ড ও সনদ জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ এবং আনসার সদস্যদের জন্য বরাদ্দের অর্থ আত্মসাত। শরীয়তপুর ট্রেনিং সেন্টারে প্রশিক্ষণ গ্রহণকালে জঙ্গী সন্দেহে ১১ জন ধরা পড়ার পর ওই ট্রেনিং কোর্সই বাতিল ঘোষিত হয়। গত বছর আগস্ট ও নবেম্বর মাসে চট্টগ্রামে ধরা পড়েছে প্রায় ২শ’ ভুয়া আনসার। এর আগে ধরা পড়ে প্রায় এক হাজার। সর্বশেষ ১১ জন ভুয়া শনাক্ত হয়েছে সীতাকু-ের কবির স্টিল মিলে। ধরা পড়ার পরই এরা কৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। এ ব্যাপারে তদন্তের নির্দেশ দিয়েই কর্তৃপক্ষ দাযিত্ব সম্পন্ন করেছে। এ ধরনের আরও বহু ভুয়া সনদের আনসারের অবস্থান রয়েছে এ সংস্থার নিয়ন্ত্রণে। কার্যকর তদন্তের ব্যবস্থা করা হলে ধরা পড়ে যাবে এ সব জালিয়াত ও ভুয়া সনদধারী। মূলত নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের একশ্রেণীর দুর্নীতিবাজ চক্রের প্রত্যক্ষ সহায়তায় এরা স্র্রোতের মতো ঢুকেছে এ সংস্থায়।

প্রসঙ্গত, চাকরি লাভের সহজ পথ ও সংস্থার এক শ্রেণীর দুর্নীতিবাজদের সংঘবদ্ধ তৎপরতায় এ দুঃসাহসিক ও বেআইনী পথে অর্থ হাতানোর প্রক্রিয়ায় যে বিপুলসংখ্যক আনসার নিয়োগ পেয়েছে তাদের মধ্যে অতীতে চুরি, ডাকাতি, সন্ত্রাসী কর্মকা-ে লিপ্ত ছাড়াও জঙ্গীপনায় জড়িত ছিল এমন সদস্যও রয়েছে বলে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ মিলেছে। বিষয়টি উদ্ঘাটিত হওয়ার পরও এ ব্যাপারে নিয়োগপ্রাপ্ত সকলকে নিয়ে অদ্যাবধি কোন তদন্ত হয়নি। অথচ, এসব আনসারের হাতে রয়েছে সরকারী বেসরকারী বিভিন্ন সংস্থা ও স্থাপনার নিরাপত্তার দায়িত্ব।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিয়ন্ত্রিত আনসার ভিডিপি একটি শৃঙ্খলা বাহিনী, যা সংবিধান স্বীকৃত। এ সংস্থার সদস্য সংখ্যা প্রায় ৬০ লাখ। এরমধ্যে ৫ লাখ রয়েছে আনসার। আবার এ ৫ লাখের মধ্যে অঙ্গীভূত আনসার সদস্য সংখ্যা ৫০ হাজার। যারা সরকারী বেতন ও রেশন সুবিধাভুক্ত। অবশিষ্ট সাড়ে ৪ লাখ সরকারী বেতনভুক্ত নয়। তবে রেশন পেয়ে থাকে। বিভিন্ন সরকারী-বেসরকারী প্রতিষ্ঠান বা স্থাপনার নিরাপত্তার জন্য যারা আনসার সহায়তা নিয়ে থাকে সে সব প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে আনসারদের নির্ধারিত অঙ্কের বেতন-ভাতা ও সুযোগ সুবিধা প্রদান করা হয়ে থাকে সংস্থার মাধ্যমে। অপরদিকে, দেশের প্রতিটি গ্রামে ভিডিপি সদস্যদের কর্মকা- বিস্তৃত। এ সংখ্যা প্রায় ৫৫ লাখ। এরা স্বেচ্ছাসেবী। সরকার পক্ষে যখন কাজে লাগানো হয় তখন তারা নির্দিষ্ট অঙ্কের সম্মানী পেয়ে থাকে।

আনসার ভিডিপির সবচেয়ে বেশি কার্যক্রম বিস্তৃত রয়েছে ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম ও তিন পার্বত্য জেলা। গত দুই বছরে মারাত্মক অনিয়ম দুর্নীতি হয়েছে বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলে। আনসারদের জন্য সরকারী বরাদ্দের বিপুল অঙ্কের অর্থ দুর্নীতিবাজরা লোপাট করার সুনির্দিষ্ট ঘটনা রয়েছে। এ অঞ্চলে এ পর্যন্ত ভুয়া আনসার ধরা পড়েছে প্রায় ১২ শতাধিক। ধরা পড়া ২২ শতাধিকের অধিকাংশ ‘ঈমানদার গ্রুপ’ নামে অভিহিত হয়ে পুনঃ ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে চাকরিতে পদায়ন হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে চট্টগ্রাম অঞ্চলের আনসারদের জন্য বরাদ্দের ২৯ লাখ টাকার প্রায় পুরোটাই দুর্নীতিবাজরা আত্মসাত করেছে বলে ভুক্তভোগী আনসারদের জোরালো অভিযোগ রয়েছে। এর পরবর্তীতে গত চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রত্যেক আনসারের জন্য সদর দফতরের বরাদ্দের অর্থ দিয়ে আড়াই শ’ টাকা মূল্যের খাবার প্যাকেট সরবরাহ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে খাবার প্যাকেট প্রাপ্তরা বেতন ভাতা তুলতে গেলে তা থেকে জনপ্রতি ৪০ টাকার ভ্যাট ও আড়াই শ’ টাকা করে কেটে নেয়া হয়। যা দুর্নীতিবাজরা আত্মসাত করেছে। এসব ঘটনা নিয়ে আনসারদের পক্ষ থেকে সদর দফতর ও সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলে একের পর এক অভিযোগ দেয়ার পরও কার্যকর কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। উপরন্তু দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতরা পেয়েছে পদোন্নতি, হয়েছেন পুরস্কৃত।

এদিকে, বিভিন্ন সূত্রে বলা হচ্ছে- সশস্ত্র আনসাররা দেশের স্পর্শকাতর বিভিন্ন সরকারী বেসরকারী প্রতিষ্ঠান ও কেপিআইতে দায়িত্ব পালন করে থাকে। যার মধ্যে সংসদ ভবন, বিমানবন্দর, ইপিজেড, সচিবালয়, বিআইডব্লিউটিসি, রেলস্টেশন, আইসিডি, তারকা হোটেলসহ বিভিন্ন সরকারী বেসরকারী প্রতিষ্ঠান। কিন্তু আশ্চর্য ও উদ্বেগজনক বিষয় হচ্ছে এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আনসারদের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় জাল জালিয়াতির ঘটনা বহু গভীরে বিস্তার লাভ করে আছে।

সূত্র জানায়, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বিগত সরকারে থাকাকালীন নিয়োগের ক্ষেত্রে জালিয়াতি ও ভুয়া সনদের ব্যবহার বন্ধে ‘স্মার্টকার্ড’ প্রকল্প গ্রহণ করেন, যা গত দু’বছর আগে কার্যকর হয়েছে। কিন্তু স্মার্টকার্ড প্রকল্পে জড়িতদের মধ্যে দুর্নীতিবাজ চক্র গোপন লেনদেনের বিনিময়ে ‘ভুয়া স্মার্টকার্ড ও ‘আইডি কার্ড’ প্রদান করেছে এবং এখনও তা ফাঁকফোকরে চলছে। অপরদিকে, প্রশাসনের একশ্রেণীর দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা অর্থের বিনিময়ে নিয়োগ বদলির সঙ্গে জড়িত রয়েছে। এর ডালপালা জেলা ও থানা কমান্ডার পর্যায়ে বিস্তৃতি লাভ করেছে। নিয়োগ, বদলি ও ডিউটি প্রদানের বিষয়টি সম্পূর্ণ গোপন লেনদেনের ওপর চলে আসছে।

জালিয়াতি, দুর্নীতি ও সরকারী অর্থ লুটপাটের সঙ্গে জড়িত হবার অভিযোগে যাদের ব্যাপারে গোয়েন্দা সংস্থার তদন্ত চলছে তাদের মধ্যে রয়েছেন চট্টগ্রামের সাবেক জেলা কমান্ড্যান্ট (বর্তমানে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পরিচালক), সদর দফতরের পরিচালক (ভিডিপি), আইএস সেলের ডিডি (মনিটরিং ও স্মার্টকার্ড সেল), চট্টগ্রাম জেলা আনসার কমান্ড্যান্ট, সীতাকু-, চট্টগ্রাম বন্দর থানা অফিসার, আনসার কমান্ডার, বায়েজিদ থানা কমান্ডার, পাঁচলাইশ থানা কমান্ডার। এছাড়া আরও কয়েক ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে তদন্তে।

সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম, ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জের সরকারী-বেসরকারী বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান ও ইপিজেডসমূহে আনসারের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এ সুযোগে দুর্নীতিবাজ চক্রটি দেশের বিভিন্ন স্থান বিশেষ করে উত্তর ও দক্ষিণ বঙ্গের দারিদ্র্যপীড়িত এলাকা থেকে দালালের মাধ্যমে আনসারদের চাকরি প্রদানের পথ প্রশস্ত করে রেখেছে। এ ক্ষেত্রে কিছু দালাল চক্রও রয়েছে। এ দালালদের মাধ্যমে ভুয়া স্মার্টকার্ড, আইডি কার্ড ও বিভিন্ন সনদপত্রের জালিয়াতির ঘটনা ঘটছে। আরও অভিযোগ রয়েছে, ভুয়া সনদধারী আনসারদের একটি অংশ আগেভাগে নিরাপত্তা বা পুলিশ বাহিনীর সঙ্গে অভিযানের তথ্য ফাঁস করে দেয়ার কাজও করে আসছে। কেউ কেউ সন্ত্রাসী, জঙ্গী গ্রুপগুলোর পক্ষ থেকে গোপনে অর্থও পায় বলে চাউর আছে। এ জাতীয় ঘটনা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকিস্বরূপ হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে রহস্যময় নীরবতা রয়েছে।

উল্লেখ্য, ব্যাটালিয়ন আনসাররা সরকারী বেতনভুক্ত। এরা রেশনের পাশাপাশি উৎসবের চাল পেয়ে থাকে। আর যারা সরকারী বেতনভুক্ত নয় তারা যেসব সরকারী- বেসরকারী স্থাপনা বা প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা বিধানের দায়িত্ব পায়- সে সব প্রতিষ্ঠান বা স্থাপনা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাদের জন্য বেতন পরিশোধ করা হয়। মাঠ পর্যায়ে আনসার সদস্যদের আর্থিক ও মানসিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগও ভূরি ভূরি। এ জাতীয় ঘটনার জের হিসেবে গেল বছর চট্টগ্রাম মহানগরীর ডবলমুরিং এলাকায় নেদায়ে ইসলাম নামে এক আনসার গার্ড আত্মহত্যা করেন। এছাড়া খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় রফিক নামের এক আনসার সদস্য আমির হোসেন নামে এক নায়েককে গুলিতে হত্যা করে।

ভুয়া ডিজিটাল আইডি কার্ড ব্যবহারকারী ও জালিয়াত চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আনসারের চট্টগ্রাম দক্ষিণ জোন কার্যালয়, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, কাফকোসহ বিভিন্ন সরকারী বেসরকারী প্রতিষ্ঠান থেকে পত্র দেয়া হলেও বিহিত কোন ব্যবস্থা হয়নি। কোন কোন ক্ষেত্রে শুধু অভিযোগের পর প্রত্যাহার করে নিয়ে ঘটনা ধামাচাপা দেয়া হয়েছে। গত বছর চট্টগ্রাম বন্দর, পতেঙ্গা ও কর্ণফুলী থানা এলাকা থেকে প্রায় ২শ’ ভুয়া আনসার ধরা পড়ে। এদের পূর্ণ তালিকা সংস্থার সদর দফতরে প্রেরণ করা হয়েছে। কিন্তু পরবর্তীতে দেখা গেছে এরা ঈমানদার গ্রুপ নামে পুনরায় প্রশিক্ষণ নিয়ে বিভিন্ন জেলায় পোস্টিং পেয়েছে। এসব ঘটনা নিয়ে চট্টগ্রামে আনসার কর্মকর্তা ও সদর দফতরের উর্ধতন দুই কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে এরা এসব ঘটনা নিয়ে কোন ধরনের কথা বলতে রাজি হননি। তবে ভুয়া আনসার ধরা পড়ার ঘটনা নিয়ে যেসব কাগজপত্র পাওয়া গেছে তাতে স্পষ্ট হয়েছে কোন প্রক্রিয়ায় ভুয়া স্মার্ট কার্ডধারী আনসার ধরা পড়েছে। এছাড়া কোন কোন প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনকালে এসব ভুয়া আনসার চিহ্নিত হযেছে তার তালিকাও পাওয়া গেছে। অতি সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিসিএস আনসার ক্যাডার এ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচনে ভুয়া আনসার নিয়োগ ও আর্থিক খাতে দুর্নীতির বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক হৈ চৈয়ের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার জের হিসেবে ওই নির্বাচনে দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেট যে সব সদস্য প্রার্থী হয়েছিলেন তাদের অধিকাংশের ভরাডুবি ঘটেছে। এদিকে, দুটি গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রে জানানো হয়েছে, তাদের তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে। একটি সংস্থা ইতোমধ্যে রিপোর্ট চূড়ান্ত করেছে। ওসব সূত্রে জানানো হয়, স্মার্টকার্ড জালিয়াতির মাধ্যমে আনসারে ভুয়া নিয়োগের বিষয়টি উদ্বেগজনক। জোন ও থানা কমান্ডার পর্যায়ে আনসার সদস্যদের নির্যাতন ও আর্থিক হয়রানির ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে। সরকারী বেসরকারী প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনা বিশেষ করে কেপিআইগুলোর নিরাপত্তা শতভাগ নিশ্চিত করতে আনসার নিয়োগ ও পদায়নে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন প্রয়োজন। এছাড়া জালিয়াতি, অনিয়ম ও দুর্নীতির ঘটনায় যারা অভিযুক্ত তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে আশু ব্যবস্থা নেয়া অতি জরুরী। স্মার্ট কার্ড ও জালিয়াত সনদধারীদের তালিকা বিভিন্ন জোন থেকে প্রেরণ করা হয়েছে। এতে ভুয়া স্মার্টকার্ডধারী আনসারদের নাম, কর্মস্থলের নাম, স্মার্টকার্ড নাম্বার, নিজ জেলা, অঙ্গীভূত হওয়ার তারিখ ও অঙ্গীভূত সংস্থার নাম লিপিবদ্ধ রয়েছে।