১১ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

স্কুল ব্যাংকিং ॥ দু’বছরে শিশুদের সঞ্চয় ৮শ’ কোটি টাকা

  • ৫২ ব্যাংকে হিসাব খুলেছে প্রায় ৯ লাখ শিক্ষার্থী

সমুদ্র হক ॥ শিশুবেলা থেকেই স্কুলের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তুলে তাদের আর্থিক প্রয়োজন মেটাতে স্কুল ব্যাংকিং চালু হয়েছে। উন্নত দেশের মতো বিষয়টি আর্থিক শিক্ষার আওতায় আনা হয়েছে। অতি অল্প সময়ে দেশজুড়ে অভিভাবকমহলে সাড়া পেয়ে বিশেষ করে মায়েরা তাদের সন্তানকে স্কুল ব্যাংকমুখী করেছে। দেশের ৫২টি ব্যাংক এ বছর মার্চ পর্যন্ত প্রায় ৯ লাখ শিক্ষার্থীকে হিসাব খুলে দিয়েছে। তাদের সঞ্চয়ের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৮শ’ ২৩ কোটি টাকা। উল্লেখ্য, স্কুল ব্যাংকিং সুবিধা ও তথ্যপ্রযুক্তিগত ব্যাংকিং সেবার সঙ্গে পরিচিতির লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক ২০১০ সালের শেষে পরিপত্র জারি করে। বছর দুয়েক পর দেশজুড়ে কার্যক্রম শুরু হয়। এটি আরও প্রসারিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সকল রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারী ব্যাংককে সঙ্গে নিয়ে বিভাগীয় ও জেলা শহরে মেলার মাধ্যমে কনফারেন্স শুরু করেছে। সূত্র জানায়, সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আর্থিক সেবাভুক্তিকরণ কর্মসূচী দ্রুত এগিয়ে নিতে স্কুল ব্যাংকিং চালু হয়েছে। যার মাধ্যমে ব্যাংকিং সেবার আওতা বাড়িয়ে ফিন্যান্সিয়াল লিটারেসি বা আর্থিক শিক্ষার প্রসার ঘটানো হচ্ছে। আর্থিক খাতের নানামুখী সেবা সম্পর্কে সাধারণকে সম্পূর্ণ ধারণা দিয়ে সচেতন করাই আর্থিক শিক্ষার অন্যতম লক্ষ্য। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, যুক্তরাজ্য, কানাডা, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়াসহ অনেক দেশে শিশুদের আর্থিক শিক্ষা দিয়ে দ্রুত সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে গেছে। ছেলেবেলা হতেই শিশুরা সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকা-ে অংশ নিয়ে কার্যত দেশকে এগিয়ে নিয়ে যায়। অল্প অল্প করে জমানো অর্থে প্রজন্মের শিক্ষার্থীর এই সঞ্চয় তাদেরই জীবন গড়তে এগিয়ে নেবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, ১১ থেকে ১৮ বছর বয়সী (অর্থাৎ ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণীর) শিক্ষার্থীরা বাবা-মা অথবা বৈধ অভিভাবকের সঙ্গে যৌথ নামে মাত্র এক শ’ টাকা জমায় হিসাব খুলতে পারে। এই হিসাবে কোন ফি বা চার্জ নেই। সর্বনি¤œ ব্যালান্স রাখার বাধ্যবাধকতা নেই। দেশের বেশিরভাগ ব্যাংকের শাখায় এই হিসাব খোলা যায়। ব্যাংকগুলো শিক্ষার্থীকে আকর্ষণীয় মুনাফা ও ইনসেনটিভ দিতে নানা ধরনের স্কিম প্রোডাক্ট চালু করেছে। কোন ব্যাংক বিনামূল্যে অথবা সামান্য খরচে ডেবিট কার্ড, এটিএম কার্ড, মোবাইল ব্যাংকিং ও ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের সুযোগ দিয়েছে। কোন ব্যাংক হিসাবের বিপরীতে শিক্ষা ঋণ এবং শিক্ষা জীবন শেষে উদ্যোক্তা ঋণ পাওয়ার বিশেষ সুযোগ দিয়েছে।

দেশের তারুণ্যের বড় একটি অংশ স্কুল শিক্ষার্থী। শিশুবেলার সঞ্চয়ের অভ্যাসের মধ্য দিয়ে বেড়েওঠা তরুণরা আর্থিক নিরাপত্তার শৃঙ্খলার সুশৃঙ্খল জীবন গড়ে তুলতে পারে। প্রবীনরা বলতেন ‘টু আর্ন মানি ইজ ইজি বাট ইট ইজ ভেরি ডিফিকাল্ট টু স্পেন্ট’ (যার মর্মার্থÑঅর্থ রোজগার করা সহজ কিন্তু খরচ করা কঠিন)। সঞ্চিত ও জমানো অর্থ ঠিকমতো এবং জীবনের প্রয়োজনে সুষ্ঠু ধারায় খরচ করা দরকার, এই মন্তব্য একজন অভিভাবকের।

ছেলেবেলার সঞ্চয়ের এই ধারা ভবিষ্যতে কিছুটা হলেও নিরাপত্তা এনে দেবে। এমন নিরাপত্তার ভিত্তি তৈরি করে দিতেই বাংলাদেশ ব্যাংক স্কুলের শিক্ষার্থীদের আর্থিক শিক্ষার ভিত্তি করে দিচ্ছে। একই সঙ্গে ব্যাংকিং এবং ই-ব্যাংকিং তথ্যপ্রযুক্তির সেবা, ই-কমার্স বিষয়ে সম্যক ধারণা নিয়ে প্রজন্মরা হাতেকলমে শিক্ষা পাচ্ছে। এই অভিজ্ঞতা চর্চায় তারা জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখছে।