২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মুখে বললেও জাতীয় ঐক্য চায় না আওয়ামী লীগ সরকার

  • বিএনপির মুখপাত্র রিপনের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ আওয়ামী লীগ সরকার মুখে বললেও প্রকৃতপক্ষে জাতীয় ঐক্য চায় না বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মুখপাত্র ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন। শুক্রবার দুপুরে নয়াপল্টন বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। বিএনপি জাতীয় ঐক্যের রাজনীতি করতে চায় বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, সম্প্রতি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের বিভাজনের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে জাতীয় ঐক্যের রাজনীতির আহ্বান জানিয়ে দেয়া বক্তব্যকে আমরা সাধুবাদ জানাই। কিন্তু বাস্তবে সরকার কিংবা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এ ধরনের কোন উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।

জনাব রিপন বলেন, ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বিএনপি জাতীয় ঐক্যের রাজনীতির আহ্বান জানিয়ে আসছে। জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজনেই বিএনপি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, আমাদের রাজনীতিতে বিভাজনের বিষবাষ্প শিকড় গেড়ে বসেছে। তিনি বলেন, সৈয়দ আশরাফের বক্তব্য রাজনৈতিক বক্তব্য, এটি প্রকৃত জাতীয় ঐক্যের বক্তব্য নয়। ‘বিএনপি এখন কফিনে’ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদের এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় রিপন বলেন, সামরিক স্বৈরশাসক এরশাদ ‘থুতুবাবা’। দেশের রাজনীতিতে তার কথার কোন মূল্য নেই। তিনি সকালে এক কথা বলেন আবার বিকেলে বলেন আরেক কথা। তাকে নিয়ে আমরা কথা বলতে চাই না।

রিপন বলেন, ১৫ আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমান নির্মমভাবে নিহত হন। বিএনপি এই মর্মন্তুদ ঘটনায় শোকাহত। আমরা স্বাধীনতাবিরোধী হিসেবে যারা চিহ্নিত তাদের সুষ্ঠু তদন্তের আওতায় এনে বিচারের বিরোধী নই। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তাদের শাস্তির বিষয়ে আমাদের কোন দ্বিমত নেই। ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার মর্মান্তিক ঘটনারও আমরা সুষ্ঠু তদন্ত চাই। চাই তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীর শাস্তি। এসবই আমাদের জাতীয় ঐক্যের প্যারামিটার। এসব নিয়ে আমাদের মধ্যে কোন বিরোধ নেই। তাহলে কেন আমরা দেশে জাতীয় ঐক্যের রাজনীতি চর্চা করতে পারব না?

রিপন বলেন, একদিকে ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানাবেন আবার অন্যদিকে তার দলের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে বিএনপির অনুপস্থিতিতে অভিযোগ করবেন যেÑ জিএসপি সুবিধা বাতিলের পেছনে বিএনপি ও ড. ইউনূস দায়ী। এটা তো জাতীয় ঐক্যের লক্ষণ নয়। এদেশের গার্মেন্টস সেক্টরে কর্মরত লাখ লাখ মানুষের কল্যাণে বিএনপি সব সময়ই ভূমিকা রেখেছে। বিগত সময়ে আমাদের দল যখন ক্ষমতায় ছিল তখন সে সময়ের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এ খাতের উন্নয়নে ভূমিকা রেখেছেন। এখন আমাদের অনুপস্থিতিতে জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী সত্য নয়; এমন অভিযোগ তুলেছেন। আমরা প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্যের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। একই সঙ্গে তার এ বক্তব্য জাতীয় সংসদের কার্যবিবরণী থেকে প্রত্যাহারের দাবি জানাই। এ ছাড়া গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র অধ্যাপক এমএ মান্নানসহ কারাবন্দী বিএনপি নেতাকর্মীর মুক্তি চাই।