১২ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বঙ্গবন্ধু ধূমকেতু নন রাজনীতির ধ্রুবতারা ॥ ইনু

বঙ্গবন্ধু ধূমকেতু নন রাজনীতির ধ্রুবতারা ॥ ইনু
  • ‘শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনরুদ্ধার পর্ব চলছে’

স্টাফ রিপোর্টার ॥ তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, বঙ্গবন্ধু রাজনীতির ধূমকেতু নন, তিনি রাজনীতির ধ্রুবতারা। তিনি কেবল রাজনীতির কবি নন, রাজনীতির রণকুশলীও। ধ্রুবতারা হিসেবে সাম্প্রদায়িকতার আলখেল্লা ঝেড়ে ফেলে স্বাধীনতার পথ রচনা করেছিলেন তিনি। বঙ্গবন্ধু নিজেই ইতিহাসের সাক্ষী, তিনি ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। বঙ্গবন্ধু ইতিহাসের সোনার খনি। সে খনি খননের কাজ চলছে। আর তারই ধারাবাহিকতায় এ গবেষণা গ্রন্থ। বইটিতে ষাটের দশকে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদসহ নানা ধরনের তথ্য পাওয়া যাবে, যা বঙ্গবন্ধুর সময় ও জীবনকে জানতে সহায়তা করবে। বইটিতে সে সময়ে বিভিন্ন ধাপে ধাপে বঙ্গবন্ধুর কাজ করার চিত্র ফুটে উঠেছে। শুক্রবার রাজধানীর বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ‘সংবাদপত্রে বঙ্গবন্ধু : দ্বিতীয় খ- ॥ ষাটের দশক ॥ প্রথম পর্ব’ গ্রন্থের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী সব রকমের দালালকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়ার আহ্বান জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনরুদ্ধারের পর্ব চলছে। এ পর্বকে নিরাপদ ও চিরস্থায়ী করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা থেকে পিছলে না যেতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সব রকমের আগুন সন্ত্রাস, যুদ্ধাপরাধী ও অন্য দেশের দালালদের ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিতে হবে। অন্ধকার ও আঁস্তাকুড় থেকে উঠে আসা দেশবিরোধীদের আঁস্তাকুড়েই নিক্ষেপ করতে হবে।

ইনু আরও বলেন, ’৭৫-র পরে বাংলাদেশকে অন্ধকার থেকে, সাম্প্রদায়িকতার বেড়াজাল থেকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনরুদ্ধারের কাজ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে চলছে। দেশের মাথার ওপর শেখ হাসিনা ছাতা ধরে রাখায় তা সম্ভব হচ্ছে। স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তি বঙ্গবন্ধুকে ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল। ’৫২-র ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ’৭১ পর্যন্ত প্রতিটি কর্মকা-ে তারা বিরোধিতা করেছে। যারা বংলাদেশ বিশ্বাস করে না, তারাই আগরতলা ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত ছিল। তারাই বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে। আর এরাই আগুন সন্ত্রাসী কর্মকা- চালিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, মুজিব থেকে বঙ্গবন্ধু হয়ে ওঠার বিকাশ ধারণ করলে জাতিরাষ্ট্র গঠনের পথ সহজ হবে। পাকিস্তানী কাঠামোর মধ্যে একটি নির্বাচনকে তিনি গণরায়ে পরিণত করতে বাধ্য করেছিলেন। গণতান্ত্রিক রীতিনীতির বাইরে কোন হঠকারী সিদ্ধান্ত তিনি গ্রহণ করেননি। তাই তাকে লালন করতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, ’৭৫-র পর ইতিহাস বিকৃতি ও বঙ্গবন্ধুর অবদানকে অস্বীকার করার নগ্ন চেষ্টা দেখেছি। বাংলাদেশের ইতিহাস বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামের ইতিহাস। বইয়ের পাতায় তা ফুটে উঠুক বা না উঠুক বঙ্গবন্ধু মানুষের হৃদয়ে পোক্ত। স্বাধীন সার্বভৌম দেশ প্রতিষ্ঠায় বঙ্গবন্ধুর অবদান অবিস্মরণীয়। তাই তিনি মানুষের হৃদয়েই স্থান করে নিয়েছেন। মানুষের ভালবাসায় টুঙ্গিপাড়া সারা দেশের মানুষের তীর্থ স্থানে পরিণত হয়েছে। ব্যক্তি বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা যায়, জাতির পিতাকে অসম্ভব। বঙ্গবন্ধুর ইতিহাস সংরক্ষণের এ উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেন, বইটি খুবই তথ্যবহুল। সাংবাদিকতা ও রাজনৈতিক গবেষণায় বইটি আকড়গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত হবে। পরিপূর্ণ বাঙালী হতে হলে রবীন্দ্রনাথ, নজরুলের পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুকেও জানতে হবে। আর সে দরজাটা উন্মোচনে বইটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পিআইবির গবেষণা ও তথ্য সংরক্ষণ বিভাগের পরিচালক কাজী মোশতাক জহির। পিআইবির মহাপরিচালক শাহ আলমগীরের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অনারারি অধ্যাপক ড. শাখাওয়াত আলী খান, বাসসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি শফিকুর রহমান, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আলতাফ মাহমুদ, সকালের খবর সম্পাদক মোজাম্মেল হোসেন, ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যমল দত্ত।