১৭ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

চিত্রশালায় সাত শতাধিক শিল্পকর্ম নিয়ে প্রদর্শনী

চিত্রশালায় সাত শতাধিক শিল্পকর্ম নিয়ে প্রদর্শনী
  • সংস্কৃতি সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ সাত শতাধিক শিল্পকর্মের আলোয় উজ্জ্বল শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা। চিত্রকর্ম, ভাস্কর্য, আলোকচিত্রসহ নানা মাধ্যমের শিল্পকর্ম থরে থরে সাজানো গ্যালারিজুড়ে। এসব শিল্পকর্ম যারা এঁকেছেন, নির্মাণ করেছেন, তাঁরা প্রত্যেকেই নবীন শিল্পী। নতুন প্রজন্মের পাঁচ শতাধিক শিল্পীর শিল্পকর্ম নিয়ে শুক্রবার শুরু হয়েছে বিশেষ প্রদর্শনী। ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভ (ইউডা) চারুকলা অনুষদের ১৪ বছর পূর্তি উপলক্ষে এ বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন। প্রদর্শনীর শিল্পীরা সবাই ইউডার চারুকলা বিভাগের বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থী। প্রদর্শনীর অংশ হিসেবে আজ শনিবার বেলা ১২টায় শিল্পকলা একাডেমির চিত্রশালা মিলনায়তনে মুক্তিযোদ্ধা ও চিত্রশিল্পী শাহবুদ্দিন আহমদকে সংবর্ধনার প্রদান করা হবে। এতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।

আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর ১৪ বছরে পদার্পণ করছে ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভ (ইউডা) চারুকলা অনুষদ। আর এ উপলক্ষে ১০ দিনব্যাপী শিল্পকলা একডেমি ও ইউডা চারুকলা অনুষদের যৌথ উদ্যোগে এ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।

শুক্রবার বিকালে এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন শিল্পী সমরজিৎ রায় চৌধুরী। প্রদর্শনীর উদ্বোধন উপলক্ষে গতকাল শিল্পকলা একাডেমির চিত্রশালা মিলনায়তনে এক জমকালো অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। ইউডার প্রতিষ্ঠাতা মুজিব খানের সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান, কবি ও স্থপতি রবিউল হুসাইন, কালের কণ্ঠ সম্পাদক ও জনপ্রিয় উপন্যাসিক ইমদাদুল হক মিলন, জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক ফয়জুল লতিফ চৌধুরী, শিল্পী আফজাল হোসেন, অভিনেতা পীযুষ বন্দ্যোপাধ্যায়, জাপানী শিল্পী মাসাও সেকিয়া প্রমুখ। এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইউডা চারুকলা বিভাগের চেয়ারম্যান শাহজাহান আহমেদ বিকাশ, ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন অনুষদের ডিন অধ্যাপক এম মোস্তাফিজুর রহমান।

তরুণ শিল্পীদের প্রশংসা করে সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেন, ‘যারা ছবি আঁকেন, কবিতা লেখেন, তাঁদের আমি ঈর্ষা করি। কেননা সৃজনশীল এসব কাজ ভাল লাগলেও তা আমি পারি না। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, শিল্পীরাই জাতিকে স্বপ্ন দেখান। তাঁদের স্বপ্ন, তাঁদের সৃজনশীল চিন্তাচেতনা আমাদের এগিয়ে নিয়ে যায়।’

মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন ও চেতনা বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়ে কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন বলেন, ‘একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ ছিল আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় সুসময় এবং দুঃসময়। সুসময় এ জন্য যে আমরা গোটা জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলাম, গৌরবোজ্জ্বল স্বাধীনতা অর্জন করেছিলাম। দুঃসময় এ জন্য যে আমরা ৩০ লাখ বাঙালীকে হারিয়েছি। প্রায় ১ কোটি শরণার্থী তখন আশ্রয় নিয়েছিল বন্ধুপ্রতিম ভারতে। আমরা দুঃসময় পার হয়ে এসেছি, এখন সুসময়ের জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যেতে হবে।’

প্রদর্শনী ঘুরে দেখা যায়, তরুণ ও নবীন শিল্পীদের বিস্ময়কর সব শিল্পকর্ম। তাঁদের অধিকাংশ কাজ নিরীক্ষাধর্মী। তাতে উঠে এসেছে চলমান সমাজ বাস্তবতার নানা বিষয়। এছাড়াও উদীয়মান শিল্পীদের রঙ-তুলির ছোঁয়ায় উদ্ভাসিত হয়েছে বাংলার রূপময় নিসর্গ, যাপিত জীবনের নানা অনুষঙ্গ, আদিবাসী নারীর কর্মচাঞ্চল্য, রমণীর শরীরী সৌন্দর্য, দিনমজুরের জীবনের গল্প, শিশুদের দুরন্তপনাসহ নানা বিষয়।

ইউডা চারুকলা বিভাগের চেয়ারম্যান শাহজাহান আহমেদ বিকাশ জানান, এ আয়োজন দেশের অন্যতম বৃহৎ প্রদর্শনী। এছাড়াও ১৭ সেপ্টেম্বর থাকছে পুরস্কার বিতরণী ও বরেণ্য শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ারকে সম্মান প্রদান।

সবার জন্য উন্মুক্ত প্রদর্শনী চলবে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। প্রদর্শনী প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বইয়ের প্রকাশনা উৎসব ॥ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাজনীতির রণকৌশলী অভিধায় ভূষিত করে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শুধু রাজনীতির কবি নন, তিনি রাজনীতির রণকৌশলী। তিনি যেমন ইতিহাসের সাক্ষী তেমনি ইতিহাস সৃষ্টিকারী। তার যাপিত জীবনে রয়েছে ইতিহাসের স্বর্ণ খনি।’ বাংলাদেশ প্রেস ইন্সটিটিউট (পিআইবি) থেকে প্রকাশিত ‘সংবাদপত্রে বঙ্গবন্ধু : দ্বিতীয় খ-, ষাটের দশক’ শীর্ষক গ্রন্থের প্রকাশনা উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী এ সব কথা বলেন। গতকাল শুক্রবার সকালে প্রেস ইনস্টিটিউটের সেমিনারকক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। পিআইবি’র মহাপরিচালক মোঃ শাহ আলমগীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী। আলোচক হিসেবে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. সাখাওয়াত আলী খান, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, এটিএন বাংলার এডিটর ইন চীফ মনজুরুল আহসান বুলবুল, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি মুহাম্মদ শফিকুর রহমান, ঢাকা সংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আলতাফ মাহমুদ, সকালের খবরের সম্পাদক মোজ্জাম্মেল হোসেন ও ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন ঢাকা সংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক কুদ্দুছ আফ্রাদ ও সংবাদের বার্তা সম্পাদক কাজী রফিক।

চিত্রকে দুই শিল্পীর ট্যাপেস্ট্রি প্রদর্শনী ॥ ধানম-ির গ্যালারি শিল্পাঙ্গণে শুরু হলো শিল্পী তাজুল ইসলাম ও শিল্পী লক্ষণ সূত্রধরের যৌথ ট্যাপেস্ট্রি প্রদর্শনী। ট্যাপেস্ট্রি তথা বয়নচিত্র শিল্পবিশ্বের অন্যতম একটি সমৃদ্ধ শিল্প মাধ্যম। বিশ্বে শিল্প হিসেবে যে সব মাধ্যম রয়েছে তার মধ্যে ট্যাপেস্ট্রিই সবচেয়ে ভিন্নধারার, ব্যয়বহুল ও শ্রমসাধ্য। আমাদের দেশে ঘরের মেঝেতে ব্যবহারের জন্য শতরঞ্জি বা কার্পেট হিসেবে এই ট্যাপেস্ট্রি বা বয়নশিল্পের প্রচলন হয়ে আসছে। এ ধরনের সৃষ্টিই আসলে ট্যাপেস্ট্রি শিল্প। বাংলাদেশে এ শিল্পের প্রথম শিল্পী রশিদ চৌধুরী। তার অধীনে কাজ করেছেন শিল্পী তাজুল ইসলাম। আর তাজুল ইসলামের অনুপ্রেরণায় আরও একজন এ শিল্পে বিশেষ দীক্ষা নিয়েছেন তিনি লক্ষণ সূত্রধর।

বর্তমানে সমকালীন শিল্পীদের মধ্যে ট্যাপেস্ট্রির জগতে তাজুল অন্যতম। গত ৪৭ বছর ধরে তাজুল ইসলাম ট্যাপেস্ট্রির জগত নিয়ে কাজ করছেন। বাংলাদেশে এ শিল্পের প্রথম শিল্পী রশিদ চৌধুরীর সহকর্মী হিসেবে তাজুল কাজের দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পান। এরপর থেকে তিনি একান্তভাবে নিজের চিন্তায় একাগ্রচিত্তে অনেক কাজ করেছেন। বর্তমানে তার কাজে নিজস্ব ধারা ও ব্যক্তিত্ব ফুটে উঠেছে। তার গভীর চিন্তাধারা প্রকাশের ধারাবাহিকতায় তাজুল বর্তমানে এ মাধ্যমে বিশেষ স্থান অধিকার করে আছে।

এই দুইশিল্পীর যৌথ প্রদর্শনীই গতকাল উদ্বোধন করেন নগর পরিকল্পনাবিদ ও চিত্র সমালোচক অধ্যাপক নজরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি এ্যান্ড ক্রিয়েটিভ টেকনোলজির ফ্যাকাল্টি অব ফাইন এ্যান্ড পারফর্মিং আর্ট বিভাগের ডিন অধ্যাপক মিজানুর রাহিম।