২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

চার শ’ মেগাওয়াট সোলার বিদ্যুতে অর্থ সহায়তা দেবে এডিবি

রশিদ মামুন ॥ এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) সারাদেশে ৪শ’ মেগাওয়াট সোলার প্যানেল স্থাপনে আর্থিক সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে। সরকারী কোম্পানি এবং সংস্থার মাধ্যমে এসব সৌর প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে সরকার। দেশে সৌরবিদ্যুত প্রকল্প নিয়ে দীর্ঘদিন আলোচনা হলেও গ্রিড সংযুক্ত সোলার প্রকল্পের উল্লেখযোগ্য সাফল্য নেই। তবে এডিবির সহায়তায় প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হলে দেশে সৌরবিদ্যুত উৎপাদনে নতুন যুগের সূচনা হবে।

সূত্র বলছে, বাংলাদেশ বিদ্যুত উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি), ইলেক্ট্রিসিটি জেনারেশন কোম্পানি (ইজিসিবি) এবং পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) ১শ’ করে ৩শ’ মেগাওয়াটের প্রকল্প স্থাপন করবে। দেশের অন্য আরও সরকারী কিছু কোম্পানিকে দিয়ে বাকি ১শ’ মেগাওয়াটের প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। বিদ্যুত বিভাগ সূত্র জানায়, এডিবি এর আগে ২০১১ সালে সৌরবিদ্যুত উৎপাদনে সহায়তা দেয়ার আশ্বাস দেয়। সরকার তাদের প্রতিশ্রুতিতে সাড়া দিয়ে ৫শ’ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুত উৎপাদন প্রকল্প গ্রহণ করে। তখন বলা হয়েছিল এডিবি কেবল মাত্র সৌরবিদ্যুত প্রকল্পে অনুদান হিসেবে অর্থ দিলেই সরকার এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে। কিন্তু পরে এডিবির তরফ থেকে জানানো হয়, তারা শুধুমাত্র কারিগরি সহায়তা দেবে। ফলে সরকারের গ্রহণ করা সেই প্রকল্প আর আলোর মুখ দেখেনি। সরকার বিকল্প পন্থায় অর্থ সংগ্রহ করে সৌরবিদ্যুত উৎপাদনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়।

সরকারী সূত্র জানায়, দেশে সৌরবিদ্যুতের বিকাশে বাংলাদেশ ব্যাংক সহায়তা করার কথা বললেও তা যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন উদ্যোক্তারা। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র বলছে, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতকে উৎসাহিত করতে তারা বিশেষ তহবিল গঠন করেছে। এই তহবিলের অর্থ বিভিন্ন ব্যাংকের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণ হিসেবে দিয়ে থাকে। প্রত্যেক উদ্যোক্তাকে এখান থেকে স্বল্পসুদে সর্বোচ্চ দুই কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ দেয়া সম্ভব। কিন্তু সৌরবিদ্যুত প্রকল্পের নির্মাণ ব্যয় বেশি হওয়ায় দুই কোটি টাকায় কিছু করা সম্ভব নয়। উদ্যোক্তারা বলছেন, প্রতিমেগাওয়াট সোলার বিদ্যুত প্রকল্প স্থাপনে ব্যয় হয় অন্তত ১০ কোটি টাকা। সেখানে এই সামান্য অর্থ দিয়ে সৌরবিদ্যুত প্রকল্প স্থাপন সম্ভব হয় নয়। সঙ্গত কারণে সৌর প্রকল্প স্থাপনে দাতা সংস্থার কাছ থেকে স্বল্পসুদে দীর্ঘমেয়াদী ঋণের প্রয়োজন পড়ে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সেক্ষেত্রে এডিবির মতো প্রতিষ্ঠান এগিয়ে এলে সৌরবিদ্যুত প্রকল্প স্থাপন সম্ভব। সরকার এডিবির অন্য কিছু প্রকল্পে ঋণ দেয়ার পাশাপাশি সৌরবিদ্যুত প্রকল্পে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে আসছে দীর্ঘদিন ধরেই। এর প্রেক্ষিতে এই সহায়তা দেয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে এডিবি।

গেল সপ্তাহে পাওয়ার সেলের সঙ্গে এক বৈঠকে এডিবি সৌর প্রকল্পে বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা করেছে। এডিবির পরিচালক এনথনি ডুজ-এর নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল বৈঠক করে। এতে সহায়তার বিভিন্ন ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা হয়।

পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসাইন এ প্রসঙ্গে জনকণ্ঠকে বলেন, এডিবি আমাদের ৪শ’ মেগাওয়াট সোলার বিদ্যুত প্রকল্পে আর্থিক সহায়তা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সরকারের বিভিন্ন কোম্পানিকে দিয়ে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

সরকারের পরিকল্পনায় দেখা গেছে, সারাদেশে ৮০ মেগাওয়াট সোলার প্যানেল স্থাপন করবে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়। এর মাধ্যমে সেচ প্রকল্পে বিদ্যুতের সহায়তা দিচ্ছে ইডকল। সারাদেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে সৌর চালিত সেচ পাম্প স্থাপন করা হবে। সেচ ছাড়া অন্য সময় স্থানীয় গ্রিডে এখান থেকে বিদ্যুত সরবরাহ করা হতে পারে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ৫০ মেগাওয়াটের সোলার প্যানেল স্থাপন করবে। সারাদেশের কমিউনিটি ক্লিনিকে ছোট ছোট সৌর প্যানেল স্থাপন করা হবে। দেশের যেসব জায়গায় বিদ্যুত নেই সেখানের স্কুল, কলেজ-মাদ্রাসায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সোলার প্যানেল স্থাপন করা হবে। সম্মিলিতভাবে এর ক্ষমতা ধরা হয়েছে ৪০ মেগাওয়াট। একটি কম্পিউটার, লাইট এবং ফ্যান চালানোর কাজে এই বিদ্যুত ব্যবহার করা হবে। প্রাথমিকভাবে সিটি কর্পোরেশন ৫০ মেগাওয়াট সোলার প্যানেল স্থাপন করতে পারবে বলে বিদ্যুত মন্ত্রণালয় মনে করছে। এরমধ্যে কোন কোন সিটি কর্পোরেশন কাজ শুরুও করেছে। যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের রেলপথ বিভাগ রেলস্টেশনের ছাদে সোলার প্যানেল স্থাপন করে ৫০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুত উৎপন্ন করবে। এক্ষেত্রে যেসব স্থানে রেলস্টেশন আছে কিন্তু বিদ্যুত নেই সেসব স্টেশনকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে। ধর্ম মন্ত্রণালয় মসজিদ, মন্দির, গির্জার ছাদে ১০ মেগাওয়াট সোলার প্যানেল স্থাপন করবে। এছাড়া শিল্প মন্ত্রণালয় শিল্প প্রতিষ্ঠান এবং পূর্ত মন্ত্রণালয় সরকারী বিভিন্ন ভবনের ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপন প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে সরকার কিছু কাজ শুরুও করেছে।