১৫ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শিমুলিয়া-কাওড়াকান্দি নৌরুটে পাঁচ দিন ফেরি চলবে না

  • বাড়তি চাপ দৌলতদিয়া পাটুরিয়ায়

স্টাফ রিপোর্টার, মুন্সীগঞ্জ ॥ শুক্রবার থেকে ৫ দিনের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে শিমুলিয়া-কাওড়াকান্দি নৌ-রুট। ঈদকে সামনে রেখে দ্রুত ড্রেজিং শেষ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এই রুটে ১১ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সব ধরনের ফেরি চলাচল বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ। বুধবার সকাল থেকে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকার কথা থাকলেও কিছু যানবাহন আটকে থাকায় তা সম্ভব হয়নি। চলমান ফেরি তিনটি দিয়ে সেসব যান পারাপারের পর সকাল ১০টা থেকে এই রুটে ফেরি সার্ভিস বন্ধ করে দেয়া হয়। এই নৌ-রুটের লৌহজং টার্নিং পয়েন্টে নাব্য সঙ্কটের কারণে গত ২০ আগস্ট থেকে বিআইডব্লিউটিসি’র রো রো ফেরি চলাচল বন্ধ ছিল। এরপর থেকে শুধুমাত্র ছোট আকারের ফরিদপুর, কুসুমকলি ও ক্যামেলিয়া নামে ৩টি ফেরি দিয়ে সীমিত আকারে এই সার্ভিস চালু ছিল। এসব তথ্য দিয়ে বিআইডব্লিউটিসির এজিএম মোঃ আশিকুজ্জামান জানান, দ্রুত ড্রেজিং করে নাব্য সঙ্কট নিরসন করে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে ফেরি সার্ভিস বন্ধ রাখা হয়েছে। পদ্মা সেতুর কাজে ব্যবহৃত সিনো হাইড্রোর উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ড্রেজারটি ফেরির আঘাতে নষ্ট হওয়ায় এই সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে।

মাওয়া বিআইডব্লিউটিসি ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) গিয়াস উদ্দিন পাটোয়ারী জানান, শিমুলিয়া-কাওড়াকান্দি নৌ-রুটের ফেরি চলাচল স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনতে ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে পলি অপসারণের কাজ চলছে। নদী শাসনে যেখানে যে পরিমাণ প্রয়োজন সেখানে সেই পরিমাণ নদী খনন করা হচ্ছে। ফেরি চলাচলের কারণে ড্রেজারগুলোর কাজে প্রতিবন্ধকতা হচ্ছিল। তাই মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত মোতাবেক আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ফেরি চলাচল বন্ধ থাকবে।

এদিকে নাব্যতা সঙ্কট নিরসনে বর্তমানে শিমুলিয়া-কাওড়াকান্দি নৌ-রুটে পদ্মা সেতুর কাজে ব্যবহৃত সিনো হাইড্রোর উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ড্রেজারসহ ৮টি ড্রেজার কাজ করছে। সিনো হাইড্রোর লৌহজং টার্নিং থেকে মাগুরখন্ড পর্যন্ত ৫টি ড্রেজার কাজ করছে। এর মধ্যে বিআইডব্লিউটিএ’র ২টি, সিনো হাইড্রোর ১টি ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠান একুয়ামেরিন ড্রেজার্স লিমিটেডের ২টি ড্রেজার ড্রেজিং করছে। এছাড়া শিমুলিয়ার লঞ্চঘাট এলাকায় বিআইডব্লিউটিএ’র ১টি ও ফেরি ঘাট এলাকায় বেসরকারী প্রতিষ্ঠান বঙ্গ ড্রেজার্স লিমিটেডের ২টি ড্রেজার কাজ করছে।

নাব্য সঙ্কটে দীর্ঘদিন থেকে এই রুটে ‘ফরিদপুর’, ‘কুসুমকলি’ ও ‘ক্যামেলিয়া’ নামে ছোট আকারের ৩টি ফেরি দিয়ে কোনরকম চালানো হচ্ছিল সার্ভিস। দিনে রাতে এই ফেরিগুলো কয়েকটি ট্রিপ দিতে পারত। যেখানে আগে দেশের এই গুরুত্বপূর্ণ রুটে ফেরিগুলো প্রতিদিন ৭০ থেকে ৮০টি টিপ দিত। বাকি ১৫টি ফেরিই অলস বসে ছিল। এতে চরম ভোগান্তিতে পরে দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষ। সেই সঙ্গে ব্যবসা বাণিজ্যে পড়ে নেতিবাচক প্রভাব।

অপরদিকে, শুক্রবার শিমুলিয়া-কাওড়াকান্দি নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীরা ঢাকা থেকে লোকাল বাসে এসে বিভিন্ন ট্রলার, সিবোট ও লঞ্চে করে পদ্মা পাড়ি দিয়েছে। ওপারে কাওড়াকান্দি ঘাটে গিয়ে আবারও স্থানীয় বাস, মাইক্রোসহ বিভিন্ন যান বাহনে করে গন্তব্যে পৌঁছেছে। এতে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে দেখা গেছে। বিশেষ করে মহিলা, বৃদ্ধ ও শিশু যাত্রীদের দুর্ভোগ ছিল চোখে পড়ার মতো।

উল্লেখ্য, এই নৌ-রুটের লৌহজং টার্নিং পয়েন্টে নাব্য সঙ্কটের কারণে গত ২০ আগস্ট থেকে বিআইডব্লিউটিসি’র রো রো ফেরি চলাচল বন্ধ ছিল। এরপর থেকে শুধুমাত্র ছোট আকারের ফেরি ফরিদপুর, কুসুমকলি ও ক্যামেলিয়া নামে ৩টি ফেরি দিয়ে সীমিত আকারে এই সার্ভিস চালু ছিল। ঈদের পূর্বে নৌ-পথ সচল করে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক করতে নৌ মন্ত্রণালয় শুক্রবার সকাল থেকে ফেরি চলাচল বন্ধ রেখে চ্যানেলে ড্রেজিং করে নাব্যতা সঙ্কট ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয়। যাতে আসন্ন ঈদে যাত্রীরা নির্বিঘেœ বাড়ি যেতে পারে।

নিজস্ব সংবাদদাতা মানিকগঞ্জ থেকে জানান, শিমুলিয়া-কাওরাকান্দি নৌ-রুটে ফেরি বন্ধ থাকার প্রভাবে শুক্রবার সকাল থেকেই পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌ-রুটে যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ ছিল। তবে বড় ধরনের কোন ভোগান্তি ছাড়াই নদী পারপার হতে পেরেছেন যাত্রীরা।

যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ থাকলেও যানজটের সৃষ্টি হয়নি। তবে নদীতে প্রচ- স্রোত থাকায় ফেরি পারাপারে আগের চেয়ে সময় বেশি লাগায় ট্রিপ সংখ্যা কমে গেছে। পরিবহন চালক ও শ্রমিকরা জানান, শুক্রবার ফেরি পার হতে একেকটি যাত্রীবাহী বাসকে এক থেকে দেড় ঘণ্টা ঘাটে অপেক্ষা করতে হয়েছে। দীর্ঘসময় ঘাটে আটকে থাকার ফলে যাত্রীরা বিশেষ করে নারী ও শিশুরা চরম ভোগান্তির শিকার হন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পাটুরিয়া ঘাটে তিন শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাক পারাপারের অপেক্ষায় আটকা ছিল।