২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আহমদ রফিকের জন্মবার্ষিকী আজ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বহুমাত্রিক প্রতিভার অনন্য এক ব্যক্তিত্ব আহমদ রফিক। মায়ের ভাষা রক্ষায় তারুণ্যে যোগ দিয়েছিলেন বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে। আজীবন নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন সমাজ পরিবর্তনের আন্দোলনে। আরেকদিকে শোষণহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকারে নিবেদিত রয়েছে নিবিষ্ট সাহিত্যচর্চা। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে নিয়ে গবেষণার পাশাপাশি লিখেছেন অজস্র গল্প, কবিতা ও প্রবন্ধ। আজ শনিবার এই ভাষাসংগ্রামী, কবি, লেখক গবেষকের ৮৭তম জন্মবার্ষিকী। এ উপলক্ষে জন্মদিনের একদিন আগে শুক্রবার বিকেলে তাকে

ফুলেল শুভেচ্ছা, সম্মাননাপত্র প্রদান, সঙ্গীতের সুরধ্বনি ও বিশিষ্টজনদের আলোচনার মধ্য দিয়ে সংবর্ধনা জানানো হয়। এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আহমদ রফিক বলেন, রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনের সিঁড়ি হিসেবে আমি সাহিত্যচর্চা করেছি।

বাংলা একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আহমদ রফিক সংবর্ধনা পর্ষদ। শুরুতেই গানের সুরে বরেণ্য এই ব্যক্তিত্বকে জানানো হয় জন্মদিনের শুভেচ্ছা। সম্মেলক কণ্ঠেÑ আনন্দলোকে মঙ্গলালোকে, মানুষ ছাড়া ক্ষ্যাপারে তুই মূল হারাবি, ও আলোর পথযাত্রী, আরও বসন্ত বহু বসন্ত তোমার নামে আসুক শিরোনামের সঙ্গীত পরিবেশন করেন উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী ও বিবর্তনের শিল্পীরা।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে মুনীর সিরাজ রচিত ‘আহমদ রফিক : জীবন ও সাহিত্য’ শীর্ষক প্রবন্ধ পাঠের পর মুনীর সিরাজের লেখা ‘আহমদ রফিক : জীবন বাস্তবতার নান্দনিক কবি’ বইটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

এরপর শুরু হয় শুভেচ্ছা বক্তব্য। আয়োজক পর্ষদের সভাপতি ইমিরেটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন তেল-গ্যাস-বিদ্যুত রক্ষা জাতীয় কমিটির প্রকৌশলী শেখ মোঃ শহীদুল্লাহ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও ভাষাসংগ্রামী কামাল লোহানী, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হায়দার আকবর খান রনো, ডা. জাফরউল্লাহ চৌধুরী, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান, সাংবাদিক আবু সাঈদ খান, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক জুনায়েদ সাকীসহ সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অনেকে।

সভাপতির বক্তব্যে সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, আহমদ রফিক হচ্ছেন একজন ব্যতিক্রমী ও বহুমাত্রিক মানুষ। নানান ক্ষেত্রে তিনি কাজ করেছেন। আর প্রতিটা ক্ষেত্রেই রেখেছেন অসাধারণ ভূমিকা। তিনি একই সঙ্গে রাজনীতি করেছেন ও সাহিত্যচর্চা করেছেন। রাজনীতির মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্রের পরিবর্তন করতে চেয়েছেন। অন্যদিকে সাহিত্য সাধনার মাধ্যমে বাংলাভাষাকে সমৃদ্ধ করেছেন।

প্রবন্ধপাঠে কবি মুনীর সিরাজ বলেন, আহমদ রফিককে বুঝতে হলে জীবনমনস্ক লেখক আহমদ রফিককে জানা জরুরী। প্রায় এক শ’ দশটির মতো বই রচনা করেছেন। এর মধ্যে রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে রচিত গ্রন্থের সংখ্যা বিশটি। অন্যান্য গবেষণার মতোই রবীন্দ্র গবেষণায় তার অবদান তুলনাহীন।

এই মাত্রা পাওয়া