১৪ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ফার্মগেটে হোটেলে গোপন বৈঠক, ৪১ শিবির কর্মী আটক

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ঈদ সামনে রেখে সারাদেশে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টাকারীদের গ্রেফতারে সারাদেশে সাঁড়াশি অভিযান চলছে। বিশেষ অভিযান চলছে ঢাকা ও চট্টগ্রামে। অভিযানে ঢাকা থেকে ৪১ জন এবং চট্টগ্রাম থেকে ১০ জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীসহ শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া জামায়াত-শিবির প্রভাবিত জেলাগুলোতেও পর্যায়ক্রমে অভিযান শুরু হচ্ছে।

শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে রাজধানীর ফার্মগেট হোটেল গীভেন্সির দ্বিতীয় তলায় গোপন বৈঠক করার সময় ৪১ শিবির কর্মীকে আটক করে তেজগাঁও থানা পুলিশ। তেজগাঁও বিভাগের উপ পুলিশ কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা ওই হোটেলে অভিযান চালানো হয়। তারা নাশকতা চালানোর জন্য ওই হোটেলে একত্রিত হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। নাশকতার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ওই হোটেলে বৈঠক করছিল গ্রেফতারকৃতরা।

এদিকে শুক্রবার ভোরে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার গোবিন্দখিল থেকে ছাত্রশিবিরের ১০ কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকালে শিবির নেতাকর্মীরা গোপন বৈঠক করছিল। চট্টগ্রামের সহকারী পুলিশ সুপার (পটিয়া সার্কেল) শামীম হাসান জানান, গ্রেফতারকৃতরা নাশকতা চালানোর উদ্দেশ্যে বিভিন্ন উপজেলা থেকে সেখানে জড়ো হয়েছিল। গ্রেফতারকৃতদের প্রায় সবাই বাঁশখালী, সাতকানিয়া, লোহাগাড়াসহ বিভিন্ন উপজেলা থেকে এসে গোবিন্দখিলের ওই বাড়িতে গোপন বৈঠকে বসেছিল। তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ উগ্রন্থী বই, পোস্টার, ফেস্টুন উদ্ধার হয়েছে। এর আগে গত ২৮ অগাস্ট পাইকপাড়া এলাকায় পটিয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মুকিবুল ইসলাম চৌধুরী ফারুকের বাড়ি থেকে ফারুকসহ জামায়াতের ৯ নেতাকর্মী গ্রেফতার হয়।

গত ৭ সেপ্টেম্বর দুপুরে রাজধানীর পল্লবী থানাধীন ১১ নম্বর সেকশনের সি ব্লকের ১০ নম্বর সড়কের ৪ নম্বর বাড়িতে অভিযান চালায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। ওই বাড়িতে গোপন বৈঠক করার সময় গ্রেফতার হয় জামায়াতের রাজশাহী-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার ও জামায়াতের রাজশাহী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মজিবুর রহমানসহ ১৩ জন। অধ্যাপক মুজিবুর রহমান জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত নায়েবে আমির এবং গোলাম পরওয়ার দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

গ্রেফতারকৃত অন্যরা হচ্ছেন, কাফরুল থানা জামায়াতের সভাপতি মোঃ তসলিম, আবুল কালাম আজাদ, মোঃ মুনসুর রহমান, মোঃ জাকির হোসেন, মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, এবিএম নুরউল্লাহ ওরফে মোহাম্মদউল্লাহ, মোঃ আবুল হাশেম, মোঃ সাব্বির মুজিবুর রহমান ভূঁইয়া, হারুনুর রশিদ ও মোঃ আশরাফুল আলম ইকবাল।

তাদের কাছ থেকে ২০টি তাজা বোমা ও বিপুল পরিমাণ লাঠিসোটা উদ্ধার হয়। লাঠিসোটাগুলো চট্টগ্রাম থেকে কুরিয়ার সার্ভিসযোগে ঢাকায় আনা হয়েছিল। আর বোমাগুলো ওই বাড়িতে বা অন্যকোন বাড়িতে তৈরি করে ওই বাড়িতে মজুদ করা হয়েছিল।

গ্রেফতারের পর ওইদিন রাতেই এক সংবাদ সম্মেলনে ডিবির পশ্চিম বিভাগের উপকমিশনার সাজ্জাদুর রহমান জানান, ঈদের আগে গার্মেন্টস সেক্টরে ব্যাপক অস্থিরতা ও নাশকতা সৃষ্টির জন্য লাঠিসোটা ও বোমাগুলো মজুদ করা হয়েছিল। গার্মেন্টস সেক্টর অস্থির করে সেই অস্থিরতা সারাদেশে ছড়িয়ে দেয়ার পরিকল্পনা ছিল গ্রেফতারকৃতদের। এজন্য গ্রেফতারকৃতরা শ্রমিক সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছিলেন। মূলত গার্মেন্টস খাতে ব্যাপক অস্থিরতা সৃষ্টি করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলার পরিকল্পনা করছিল তারা। গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে চাঁদা প্রদানের ৩ থেকে ৪শ’ জনের একটি ক্যাশমেমো উদ্ধার হয়েছে। চাঁদা দাতাদের অধিকাংশই জামায়াত-শিবির ও তাদের বিভিন্ন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান এবং সমমনা ব্যক্তি। সাড়ে ৬তলা বাড়িটির মালিক জামায়াতের শ্রমিক দলের নেতা হারুনুর রশিদ। মূলত তার সরাসরি ইন্ধনে শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছিল।

গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে জামায়াতের রাজশাহী-১ আসনের সাবেক সংসদ অধ্যাপক মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে ৪৫টি, জামায়াতের আরেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ারের বিরুদ্ধে ৯টিসহ প্রায় সবার বিরুদ্ধেই এক বা একাধিক মামলা রয়েছে। তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে সারাদেশে নাশকতার মাধ্যমে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট। অস্থিরতাকে পুঁজি করে ঈদের পর সরকার বিরোধী আন্দোলন কর্মসূচী ঘোষণার চেষ্টা চলছে। ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবিতে সারাদেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে অস্থিরতা সৃষ্টি হওয়ার সুযোগটিকেও কাজে লাগাতে চায় তারা। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সারাদেশে সাঁড়াশি অভিযান চলছে। অভিযানে গ্রেফতার হয়েছে শতাধিক বিএনপি-জামায়াত-শিবির নেতাকর্মী।

জামায়াতের শীর্ষ পর্যায়ের অধিকাংশ নেতা যুদ্ধাপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় মজিবুর রহমান ও পরওয়ারসহ কয়েকজনই সাম্প্রতিক সময়ে দল চালাচ্ছেন। নাশকতা ছাড়াও যুদ্ধাপরাধ মামলার রায় বানচাল ও রায় ঘোষণার পর সহিংস সন্ত্রাস চালানোসহ বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনার চেষ্টা করছে তারা। ঢাকা ও চট্টগ্রামে বিশেষ অভিযান চলছে। পর্যায়ক্রমে জামায়াত-শিবিরের প্রভাব থাকা জেলাগুলোতে অভিযান শুরু হচ্ছে।