২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আয়লানদের জন্য নিরাপদ জমিন কি কোথাও নেই?

  • মুহম্মদ শফিকুর রহমান

বাবা আয়লান, আমরা তোমাকে বাঁচাতে পারিনি। সাগর পাড়ি দিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যেতে পারিনি। আমরা ক্ষমা চাওয়ারও অযোগ্য। ক্ষমা চেয়ে তোমার সঙ্গে পরিহাস করতে পারব না, অন্তত এটুকু সম্মান দিতে পারি। আয়লান, তুমি ভূমধ্যসাগর তীরে ঘুমিয়ে আছ। তোমার কাছে এখন সিরিয়ার সিভিল ওয়ার, আইএস এবং কুর্দিদের মধ্যকার গৃহযুদ্ধ, মুসলিম ব্রাদারহুড, আল কায়েদা, বোকো হারাম, তালেবান, আনসারুল্লাহ বাংলা টিম, হিযবুল মুজাহিদীন, হিজবুত তাহরীর, হামজা ব্রিগেড সব পরাজিত, পর্যুদস্ত। কিন্তু লজ্জিত নয়। ওরা নাকি বেহেস্তের টিকেট পেয়ে গেছে।

বাবা আয়লান, তুমি কি জানো, কতগুলো লোক আমাদের সিলেটের রাজন, খুলনার রাকিব, ঢাকার অভিজিতকে মেরে ফেলেছে? পিটিয়ে পিটিয়ে ক্লান্ত হয়ে শেষে কুপিয়ে এবং মেশিনের হাওয়ায় পেটের নাড়িভুঁড়ি ছিন্নভিন্ন করেছে উল্লাস করতে করতে। আমরা ওদের জন্যও কাঁদি না, কারণ আমরা যে ওদের হত্যা করে বেহেস্তের টিকেট পেয়ে গেছি। বাবা, আমরা ধর্ষিতা শিশু-কিশোরীর জন্য কাঁদি না, কাঁদি না ধর্ষিতা গৃহকর্মী, গার্মেন্টস কর্মীটির জন্যও। আমরা জানি আয়লান, তোমাদের জন্য বিশ্বের কোথাও আজ আর কোন নিরাপদ জমিন নেই। নিরাপদ সাগর নেই। আশ্রয় নেই। নেই নেই। বিশ্বের কোথাও নেই।

বাবা আয়লান, তোমাকে আরেকটি খবর দেই। শিশু শেখ রাসেলকেও আমরা নিরাপদ আশ্রয় দিতে পারিনি। ও কত কেঁদেছে, বলেছেÑ ‘আমাকে মেরো না, হাসু আপার কাছে নিয়ে যাও।’ তারপরও ওরা যখন নিয়ে যাচ্ছিল তখন বলেছেÑ ‘আমাকে মেরো না, আমি বাড়ি ছেড়ে চলে যাব, এ বাড়িতে আর কোনদিন ফিরে আসব না।’ বাবা আয়লান, রাসেলকে ওরা সমুদ্রেও যেতে দেয়নি। বাবা, তোমার জন্য সী-গালরা কেঁদেছে, কিন্তু রাসেলের জন্য একটি চড়ুই পাখিও চোখের জল ফেলতে পারেনি।

বাবা আয়লান, ১৯৭১ সালের বর্বর স্মৃতি এখনও বিস্মৃত হয়নি। ভুলে যায়নি কেউ। সিরিয়ায় এ পর্যন্ত কত লাখ মানুষ আত্মাহুতি দিয়েছে নিশ্চয়ই জানো। আজ থেকে ৪৪ বছর আগে আমাদের এই জমিনটিতে ৩০ লাখ আত্মাহুতি দিয়েছে। ৬ লাখ মা-বোন ধর্ষিতা হয়েছে, জীবন দিয়েছে। কী অদ্ভুত মিল আত্মত্যাগী মানুষের সংখ্যার দিক থেকে। সিরিয়ায় পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছি আপন জাতিরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য। সিরিয়ায় তো জাতিরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিতই আছে। তবু কেন ওই আত্মঘাতী গৃহযুদ্ধ? তবে কি বেহেস্তের টিকেট? হবে হয়ত।

বাবা আয়লান, বেহেস্তের টিকেট বেচাকেনা আমাদের এই জমিনেও চলছে হরদম। যারা এই বেচাকেনার কাজটি করছে তাদের বিভিন্ন নামে ডাকা হয়। কখনও হিযবুল মুজাহিদীন, কখনও হিযবুত তাহরীর, কখনও আইএস, কখনও আল কায়েদা, কখনও আনসারুল্লাহ বাংলা টিম, কখনও হামজা ব্রিগেড। সুন্দর সুন্দর নাম। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় ওদের নাম ছিল রাজাকার, আলবদর, আলশামস, শান্তি কমিটি। মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে পেঁদানি খেয়ে গর্তে ঢুকেছিল। জানো, শেখ রাসেলকে হত্যা করে আমাদের নিরাপদ জমিনটাকেও অনিরাপদ করে তোলা হলো। তাই তো রাজন-রাকিবরা বাঁচে না, শিশু গৃহকর্মী, গার্মেন্টসকর্মী নির্যাতিত হয়, ধর্ষিতা হয়, জীবন দেয়। দিতে বাধ্য হয়। কারণ ওদের কোন নিরাপদ জমিন নেই। নিরাপদ জমিন ছিল। ১৯৭১ সালে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু আমাদের দলিল করে দিয়েছিলেন। জাতির পিতাকে হত্যা করে, রাসেলকে হত্যা করে তা কেড়ে নেয়া হলো। সেই থেকে প্রথমে মিলিটারি জিয়াউর রহমান, তারপর মিলিটারি এরশাদ, তারও পর হাফ-মিলিটারি খালেদা জিয়া আমাদের দেশের আয়লানদের উচ্ছেদ করে সেই জমিন দখল করে নেয়। ওরাই কখনও হিযবুল মুজাহিদীন, হিযবুত তাহরীর, কখনও আইএস, কখনও আল কায়েদা, আনসারুল্লাহ বাংলা টিম, হামজা ব্রিগেড নাম দিয়ে নিরাপদ জমিনগুলো প্রতিনিয়ত কেড়ে নিতে চায় নিজেদের জন্য। ওদের মানুষ সাপ্লাই দেয় জামায়াত এবং শিবির। তিন মিলিটারি, হাফ-মিলিটারি জিয়া-এরশাদ-খালেদা তাদের সহায়তা করে। ওদের অর্থের যোগান দেয় আরবী ভূতরা এবং পশ্চিমা লাল সারমেয়কুল। এভাবেই রাজন-রাকিবদের উচ্ছেদ করে নিজের জন্য জমিন বানাতে চায় তারা। এভাবেই গড়ে ওঠে অসংখ্য আরবী ভূতের জমিন।

বাবা আয়লান, তোমার নামের ‘কুর্দি’ পদবি আমি বাদ দিতে চাই। যে শিশু মাত্র তিন বছর বয়সে সারাবিশ্বের মানুষের ঘুম ভেঙ্গে দেয় সে সিরীয়, বাঙালী, ভারতীয়, আফগান, ইরাকী, ইরানী, ইউরোপীয়, মার্কিনী, সুদানী সব দেশের। সে কেবল আবদুল্লাহ কুর্দি বা মিসেস কুর্দির সন্তান নয়, সে আমাদের সবার সন্তান। পত্র-পত্রিকা বা টেলিভিশনে বলা হচ্ছে, আয়লানের সাগর পারের ছবিটি বিশ্ববিবেককে নাড়া দিয়েছে। কথাটা আংশিক সত্য। হয়ত কিছু দেশ আয়লানের ছবি দেখে তাদের সীমান্ত খুলে দিয়েছে। যাদের মানবতাবোধ বা বিবেক জাগ্রত হওয়ার কথা সেই আইএস কিংবা বোকো হারাম বা আল কায়েদার বিবেক কি জাগ্রত হয়েছে? মোটেই না। ইউরোপের ওপর প্রকৃতির একটা প্রতিশোধ চলছে ঠিকই, আমেরিকা বা তার মিত্র ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি তথা ইউরোপ এবং জাপান কি আইএস বা আল কায়েদা নামক ইসলামী জঙ্গীদের অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং অর্থ প্রদান বন্ধ করেছে? করেনি। তার মানে ওরা দায়ে পড়ে শরণার্থীদের জায়গা দিচ্ছে, বিবেকের তাড়নায় নয়। আমেরিকা-ইউরোপ সিরিয়ায় আইএস জঙ্গীদের অস্ত্র-অর্থ প্রদান কি আদৌ বন্ধ করবে? নাকি নাইজিরিয়ার বোকো হারামকে অস্ত্র-অর্থ প্রদান বন্ধ করেছে, না করবে? এসব প্রশ্নের জবাব আজ বিশ্ব মোড়লদের দিতে হবে। নইলে আয়লানের আত্মা তাদের ধ্বংস নিশ্চিত করবে। আফগানিস্তান, পাকিস্তান, ইরাক, লিবিয়ার লাখো কোটি আয়লানের জীবন সংহার করে মোড়লরা এখন নজর দিয়েছে তুরস্কের দিকে। অর্থাৎ ভূমধ্যসাগর তীরের জমিনকে রক্তাক্ত করতে চাইছে। নইলে যেসব দেশ ইসরাইলের মতো এক সন্ত্রাসী জনগোষ্ঠীকে সমর্থন দেয় তারা কার জন্ম নির্ণয় জানি না। তারা কেবল যে এশিয়া ও পশ্চিম আফ্রিকাকে ধ্বংস করে চলেছে তা নয়, তারা তাদের নিজেদেরও ধ্বংস করে চলেছে।

বাবা আয়লান, আমাদের দেশটা এখনও শান্তির দেশ। এই শান্তি বিনষ্ট করার জন্য টার্গেট করে ঢুকে পড়ছে একদিকে সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকা, অন্যদিকে তথাকথিত ইসলামী স্টেট প্রতিষ্ঠার আইএস-বোকো হারাম জঙ্গীরা। এখানে এখন প্রতিদিনই ইসলামিস্ট জঙ্গী পুলিশের হাতে ধরা পড়ছে। এমনকি জঙ্গীদের প্ররোচনায় ইংল্যান্ড-আমেরিকা বা বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আধুনিক ডিগ্রী অর্জন করেও সিরিয়ায় চলে যাচ্ছে যুদ্ধে অংশ নিতে। যুদ্ধ বলা ঠিক হবে না। বলা উচিত গৃহযুদ্ধে অংশ নিতে। ওরা আমাদের বাংলাদেশেও গৃহযুদ্ধ বাধাতে চায়। এ কি ধর্মের জন্য? ইসলামের জন্য? মোটেই না। ওরা বিভ্রান্ত হচ্ছে। অযথা কারও ধর্ম নিয়ে কটূক্তি বা খারাপ স্ট্যাটাস কি সমর্থনযোগ্য? মোটেই না। আবার একজন মানুষ যদি ধর্মবিশ্বাসী নাও হয় (কে ধর্ম বিশ্বাসী কে নয় সে কেবল আল্লাহ রাব্বুল আলামীনই বলতে পারেন) তাকে হত্যা করার নির্দেশ কি ইসলাম কাউকে দিয়েছে? বিনা বিচারে অথবা গুপ্ত হত্যা কি ইসলাম সাপোর্ট করে? ইসলাম না করলেও আমাদের তথাকথিত আপোসহীন চেয়ারপার্সন সাপোর্ট করেন। তার দলও ধর্মনিরপেক্ষ শক্তির ঘোর বিরোধী। একটা প্রশ্ন অবশ্যই করব, কোন সাচ্চা মুসলমান কি ধর্মের নামে গোপনে মানুষ হত্যা সমর্থন করতে পারে? আইন আছে, আদালত আছে এবং তা পরিচালনার জন্য বিচারক-আইনজীবী আছেন, সর্বোপরি সরকার রয়েছে। সেসবের তোয়াক্কা না করে বঁটি দিয়ে কুপিয়ে মানুষ হত্যা, বীভৎস নয় কি? অবশ্য যাদের বিবেক আছে তাদের জন্য বীভৎস, ধর্মান্ধ-অশিক্ষিতদের জন্য নয়। কওমি মাদ্রাসার পাঠ্যসূচী দৈনিক জনকণ্ঠের গত রবিবারের (৬ সেপ্টেম্বর-২০১৫) সংখ্যার প্রধান সংবাদ হয়েছে। কে না জানে ওই সব কওমি মাদ্রাসায় বাংলা-ইংরেজী অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পড়ানো হয় না, জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া হয় না। এরই মধ্যে কিছু কিছু সংস্কারের সিদ্ধান্ত হয়েছে সত্য; কিন্তু এখনও পড়ানো হয় মিলিটারি জিয়া ‘স্বাধীনতার ঘোষক’ (?), জাতির পিতার নাম নেয়া হয় না। জনকণ্ঠের বিভাষ বাড়ৈ লিখেছেন, নিজেদের জামাতঘেঁষা ও স্বাধীনতাবিরোধী চেহারা লুকাতে এবং ব্যাপক সমালোচনার মুখে কওমি মাদ্রাসা বোর্ড গঠন করে মুক্তিযুদ্ধের বিকৃত ইতিহাস সংশোধনের আইওয়াশ করা হয়েছে। কৌশল হিসেবে স্বাধীনতাবিরোধী বিতর্কিত লেখকদের নাম গোপন করে জামায়াত-হেফাজতী ভাবধারা এখনও লালন করা হচ্ছে। বিভাষ বাড়ৈর তথ্য অনুযায়ী একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের মধ্যে ১৭ মে তথাকথিত ৫৫ বুদ্ধিজীবী একটি বিবৃতি দিয়েছিলেন। তাতে তারা বলেছিলেন, ‘আওয়ামী লীগের চরমপন্থীরা সহজ আইনসঙ্গত দাবিকে একতরফাভাবে স্বাধীনতা ঘোষণার দাবিতে রূপান্তরিত করায় আমরা মর্মাহত হয়েছি। আমরা কখনও এটা চাইনি, ফলে যা ঘটেছে তাতে আমরা হতাশ ও দুঃখিত হয়েছি।’ ওই ৫৫ জন তথাকথিত বুদ্ধিজীবীর মধ্যে ড. আশরাফ সিদ্দিকী, ড. দীন মোহাম্মদ, আশকার ইবনে শাইখ প্রমুখ তালিকায় ছিলেন। এরাসহ ওই বিবৃতিদাতাদের অনেকের লেখা কওমি মাদ্রাসার বিভিন্ন ক্লাসের গ্রন্থে ছিল। কওমি মাদ্রাসা বোর্ড গঠিত হওয়ার পর একটি চালাকির আশ্রয় নেয়া হয়েছেÑ লেখকদের নাম গোপন করে এখনও তাদের লেখা প্রবন্ধগুলো রয়েছে পাঠ্য তালিকায়। হবেইবা না কেন? ভুলে গেলে চলবে না এই কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে কারা রয়েছে? রয়েছে হেফাজতের জঙ্গী নেতৃত্ব, যারা ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর শাপলা চত্বরে জড়ো হয়ে সরকার উৎখাতের চক্রান্ত হিসেবে ওই দিন সকাল থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত মতিঝিল, বিজয়নগর, গুলিস্তান এলাকা জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ছারখার করে দিয়েছিল। এমনকি বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের ম্যাট ও আশপাশের ইসলামী দোকানে আগুন দিয়ে পবিত্র কোরআন শরীফ ও হাদিস এ রসুল (সা.) পুড়িয়ে ছাই করেছিল। শেখ হাসিনা তাদের সেই দূরভিসন্ধিমূলক কাজ বাস্তবায়িত হতে দেননি। যে হেফাজতী শফি মওলানার নেতৃত্বে ওই ধ্বংসাত্মক কাজগুলো হয়েছে তার নেতৃত্বেই গঠিত হয়েছে কওমি মাদ্রাসা বোর্ড। যে লোকটি ইসলামের কথা বলেন, হেফাজতে ইসলামীর নেতৃত্ব দিচ্ছেন, সে লোকটির কাছে ‘নারী’ ভোগের সামগ্রী মাত্র। যিনি নারীকে তেঁতুলের সঙ্গে তুলনা করে ‘তেঁতুল হুজুর’ নাম ধারণ করেছেন। কওমি মাদ্রাসা সংস্কারের দায়িত্ব তাকে দেয়া হলে যা হওয়ার তাই হবে। আমাদের শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এতদিন কেবল পরীক্ষায় পাসের হার বৃদ্ধির গর্ব করতেন। এবার সে গর্বও গেছে, পার্সেনটেজ কমেছে এবার। যদিও বলা হচ্ছে এটাই মডারেট। এখানে যে প্রশ্নটি সামনে আসেÑ আমরা সেক্যুলার বাংলাদেশের উপযোগী শিক্ষা কার্যক্রম চালাতে পারছি কি-না। সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠ্যক্রম তবু গ্রহণযোগ্য, কওমি মাদ্রাসা এবং ইংলিশ মিডিয়াম বা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পাঠ্যক্রমের প্রতি আমাদের কতখানি নজর রয়েছে? আদৌ রয়েছে কিনাÑ এ প্রশ্নটি রয়েছে। দ্বিতীয়ত, শিক্ষা প্রশাসন, যেখানে নিয়োগ-বদলি চলে ঘুষের ওপর। বিশেষ করে মাধ্যমিক স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষক-প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাচ্ছে শিবির ক্যাডাররা। এক এমপি তার এলাকার ৪০টির মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভাপতি। কখনও তার ক্ষমতার জোরে, কখনও অর্থের বিনিময়ে জামায়াত-শিবিরকে প্রতিষ্ঠিত করছেন। দেখা গেছে এমপি তার এলাকাকে প্রশাসনসহ জামায়াত-শিবিরকরণ করে চলেছেন, দেখার কেউ নেই। হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীস্টান ঐক্য পরিষদ সাম্প্রতিককালে হিন্দুদের সম্পত্তি দখলের যে অভিযোগ উত্থাপন করেছে, জামায়াত-শিবিরকরণ অভিযোগও একইভাবে রয়েছে।

বাবা আয়লান, সবচে মজার ব্যাপার হলো, যিনি সবচে বেশি ‘দেশপ্রেমিক’, ‘জাতীয়তাবাদী’ শক্তি বলে দাবি করেন তিনি এবং তার দল ওই কওমি হেফাজতী এবং জামায়াত-শিবির নিয়ে রাজনীতি করছেন। তাদের নিয়ে জোট বেঁধেছেন। এই ‘দেশপ্রেমিক’ ও ‘জাতীয়তাবাদী’ শক্তির দাবিদার হাফ-মিলিটারি বেগম খালেদা জিয়া, যিনি ৫ মের হেফাজতের শাপলা চত্বরের জ্বালাও-পোড়াওয়ের সমর্থনে তার দলীয় কর্মীদের হেফাজতের পাশে দাঁড়াতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। এই খালেদা জিয়াই ২০১৩ সালে দেশব্যাপী বোমাবাজি, জ্বালাও-পোড়াও করে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন ঠেকাতে চেয়েছিলেন, পারেননি। একই ভাবে ওই নির্বাচনের বর্ষপূর্তিতে (২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি) গুলশান কার্যালয়ে স্বেচ্ছায় অবরোধ রচনাপূর্বক ৯২ দিন ধরে পেট্রোল বোমাবাজি করে দেড় শতাধিক নারী-শিশুসহ নিরীহ মানুষের জীবন কেড়ে নিয়েছিলেন। এসব তিনি করিয়েছিলেন বিশেষভাবে জামায়াত-শিবির-হেফাজতীদের দিয়ে। এখনও তিনি তাদের সমর্থন ও পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে চলেছেন।

বাবা আয়লান, সর্বশেষ যে খরবটি তোমাকে জানাতে চাই, যাদের কারণে তুমি আজ বিশ্ব বিবেককে নাড়া দিতে পেরেছ এবং যাদের মানুষ এখনও ঘৃণা করছে, সেই আইএস, বোকা হারামের বাংলাদেশ সংস্করণ নিষিদ্ধ ঘোষিত হিযবুত তাহরীর সম্প্রতি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সমাবেশ করেছে। দুই ঘণ্টাব্যাপী ওই সমাবেশে কিছু সাংবাদিকও অংশ নেন (বিশ্বাস থেকে না সংবাদ সংগ্রহেÑ সে তারা বলতে পারবেন)। তবে গোয়েন্দা বিভাগের ব্যাখ্যাটি খুব মজার। তারা বলেছে, কোন এ্যাকশনে যাওয়া হয়নি এজন্য যে, গোয়েন্দারা জানতে চেয়েছেন ওদের শক্তি বা সংখ্যা কত। আমাদের প্রশ্ন, জঙ্গী দমনে এই প্রযুক্তি কতখানি কার্যকর?

ঢাকা : ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৫

লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক ও সভাপতি

জাতীয় প্রেসক্লাব