১৫ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

এবারও রাজা-রানী মেজবাহ-শিরিন

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ এ্যাথলেটিক্সকে বলা হয় ‘মাদার অব গেমস।’ আর সেই গেমসের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ডিসিপ্লিন হচ্ছে ১০০ মিটার স্প্রিন্ট। অনুর্ধ ১০ সেকেন্ডের রুদ্ধশ্বাস দৌড়ে কে হন বিজয়ী বা বিজয়ীনি, সেটা জানার জন্য শুক্রবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে হাজির ছিলেন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক দর্শক। ‘স্বাধীনতা পদক প্রাপ্ত ভাষা সৈনিক এ কে এম শামসুজ্জোহা স্মৃতি জাতীয় এ্যাথলেটিক প্রতিযোগিতা’য় এদিন বৃষ্টিভেজা বিকেলটা নিজের করে নিলেন প্রথমে মেজবাহউদ্দিন আহমেদ, পরে শিরিন আক্তার। দুজনেই একসময় বিকেএসপির শিক্ষার্থী ছিলেন, এখন খেলেন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর হয়ে।

এ নিয়ে টানা চতুর্থবারের মতো দ্রুততম মানব হলেন মেজবাহ। তার টাইমিং ১০.৬০ সেকেন্ড। বাংলাদেশ গেমস ২০১৩, জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ, সামার চ্যাম্পিয়নশিপ ও এবার। আর দ্রুততম মানবী শিরিনের এটা টানা তৃতীয় শিরোপা। তার টাইমিং ১২.২০ সেকেন্ড। সামার চ্যাম্পিয়নশিপে এবং জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে এ নিয়ে দুই বার। এর আগে অনুষ্ঠিত হয় মেয়েদের লং জাম্পের ইভেন্ট। এই ইভেন্টের বিজয়ীনিকে পুরস্কৃত করেন প্রধান অতিথি দৈনিক জনকণ্ঠের ক্রীড়া সম্পাদক মজিবর রহমান।

শিরিনের কথায় আসা যাক। বিজয়ী হওয়ার পর তার অনুভূতি ছিল এ রকম, ‘১০০ এবং ২০০ মিটারে এ নিয়ে টানা তিনবার জিতলাম। বিউটি আপুর ১১.৫০ সেকেন্ডের রেকর্ড ভাঙতে চাই। এবার জিতে খুব ভাল লাগছে। আত্মবিশ্বাসী ছিলাম আমিই সবার আগে দৌড় শেষ করব। যদিও অনুশীলনের বেশি সময় পাইনি। মাত্র এক মাসেরও কম। এই অল্প সময়ের অনুশীলনে সেরা হয়েছি তাই বেশি ভাল লাগছে। এসএ গেমসের আগে নিজের অবস্থানটা কিছুটা হলেও বুঝতে পারলাম। যা সেখানে ভাল করতে অনুপ্রেরণা যোগাবে।’ কোচিং প্রসঙ্গে বলেন, ‘দেশী কোচরাই ভাল। কাফি ও রফিক স্যার খুব ভাল করছেন। তারপরও দেশের বাইরে দীর্ঘমেয়াদে প্রশিক্ষণের সুযোগ পেলে আর ভাল করতে পারব বলে আশা রাখি। এ জন্য কঠোর অনুশীলনের বিকল্প নেই।’

শনিবার বিকেএসপিতে সাবেক শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান। কিন্তু ইচ্ছে থাকলেও সেখানে থাকতে পারবেন না শিরিন, ‘কালও (শনিবার) প্রতিযোগিতা থাকায় বিকেএসপির পুনর্মিলনীতে অংশ নিতে পারব না। এ জন্য খুব কষ্ট হচ্ছে।’ ১০০ মিটারে দ্বিতীয় হয়েছে নৌবাহিনীর জাকিয়া সুলতানা। তৃতীয় হন সেনাবাহিনীর শামসুনন্নাহার চুমকি। উল্লেখ্য, গত চ্যাম্পিয়নশিপে শিরিনের টাইমিং ছিল ১১.৮৪ সেকেন্ড।

‘জিতে খুব ভাল লাগছে। আশা করি আগামীতেও এ জয়ের ধারা বজায় রাখতে পারব। দেশকে চাই ভাল কিছু উপহার দিতে।’ জয়ের পর এমনটাই ছিল মেজবাহর অনুভূতি। মেজবাহের গত আসরের টাইমিং ছিল ১০.৫২ সেকেন্ড। এবার ১০.৬০ সেকেন্ড (দুটোই হ্যান্ড টাইমিং)। ইলেক্ট্রনিক্স টাইমিং ১০.৭৫ বাংলাদেশ গেমসে। এসএ গেমসে ভাল কিছু করার লক্ষ্য রয়েছে তার। উসাইন বোল্ট তার আদর্শ। এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘বোল্টকে অনুকরণ করার চেষ্টা করি। তার নিয়মকানুনগুলো অনুসরণ করি। ডিসিপ্লিনড ক্রীড়াবিদ বোল্ট। তাকে ফলো করাটাই আমার সাফল্যের মূল রহস্য। এ কারণেই আমি টানা চারবারের চ্যাম্পিয়ন।’ বোল্ট তার দৌড়ের সময় প্রথম ৬০ মিটার রিল্যাক্স থাকেন, আর শেষ ৪০ মিটারে পাওয়ার দেন। মেজবাহও চেষ্টা করেন এভাবেই দৌড় শেষ করতে। হ্যান্ড টাইমিংয়ে তো এবার নিজের মানটা যাচাই করা যায়নি। মেজবাহের ভাষ্য, ‘এখানে আমার তো কিছু করার নেই। ইলেক্ট্রনিক্স টাইমিং হলে ভাল হতো।’