২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

যুক্তরাষ্ট্রে দশ হাজার সিরীয়কে আশ্রয় দিতে ওবামার নির্দেশ

  • শরণার্থী কোটা নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নে তীব্র মতবিরোধ

সিরীয় শরণার্থীদের পুনর্বাসনে ইউরোপীয় দেশসমূহের প্রচেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্রও অংশগ্রহণ করছে এমন প্রমাণ দেখানোর জন্য ক্রমবর্ধমান চাপের সম্মুখীন হয়ে প্রেসিডেন্ট ওবামা আগামী এক বছর ধরে অন্তত ১০ হাজার বাস্তুচ্যুত সিরীয়কে গ্রহণের জন্য প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন। এদিকে হাঙ্গেরিতে আরও শরণার্থীর আগমনের মধ্য দিয়ে ইউরোপে শরণার্থী সঙ্কট প্রশ্নে বিভক্তি আরও বেড়েছে। খবর নিউইয়র্ক টাইমস ও এএফপির।

বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র জোস আর্নেস্ট তার দৈনন্দিন সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্টের ঘোষণার কথা প্রকাশ করেন। এর ঠিক একদিন আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি বলেছিলেন, শরণার্থী সমস্যায় আক্রান্ত ইউরোপের পরিস্থিতি বিবেচনায় আরও সিরীয় শরণার্থীকে আশ্রয় দেয়ার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র অঙ্গীকারাবদ্ধ। সংবাদ সম্মেলনে আর্নেস্ট জানান, ২০১৬ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্র ১০ হাজার শরণার্থী গ্রহণে সক্ষম। ফলে দেশটির শরণার্থী আশ্রয় দেয়া সংক্রান্ত বার্ষিক কোটা বাড়ানো প্রয়োজন। ২০১৩ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্র বছরে ৭০ হাজার শরণার্থীকে আশ্রয় দিতে পারবে বলে কোটা নির্দিষ্ট করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রেকর্ডসংখ্যক অভিবাসন প্রত্যাশী দলে দলে বলকান অঞ্চল দিয়ে হাঙ্গেরিতে প্রবেশ করলে ইউরোপের শরণার্থী সঙ্কট প্রশ্নে বিভক্তি আরও ঘনীভূত হয়েছে এবং অস্ট্রিয়া আন্তঃসীমান্ত ট্রেন সার্ভিস সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে। জার্মানি, যে দেশ ইউরোপের জরুরী অবস্থায় সাড়া দিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেÑ সতর্ক করে দিয়েছে যে, সদস্যরাষ্ট্রগুলোর মধ্যে ১ লাখ ৬০ হাজার নবাগতকে ভাগ করে দেয়ার একটি ইইউ পরিকল্পনা ‘সমুদ্রে এক বিন্দু পানি’ মাত্র। এই পরিকল্পনা ইতোমধ্যে পূর্বাঞ্চলীয় সদস্যরাষ্ট্রগুলোর তীব্র বিরোধিতার সম্মুখীন হয়েছে, যাদের মধ্যে মানুষের অবিরাম স্রোতের ধাক্কা সামলানো দেশগুলোও আছে, যারা বলেছে তারা ব্রাসেলসের বাধ্যতামূলক কোটা মেনে নেবে না।

জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রাংক-ওয়াল্টার স্টাইনমেইয়ার শুক্রবার প্রাগে এক বৈঠকে পূর্ব ইউরোপীয় রাষ্ট্রগুলোকে বাগে আনার চেষ্টা করবেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বৃহত্তম অভিবাসী সঙ্কটের কিভাবে মোকাবেলা করবে সে ব্যাপারে ইউরোপীয় ইউনিয়ন অপ্রীতিকরভাবে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। জোটের কোন কোন দেশ সীমান্তবর্তী যেমন কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে তেমনি পশ্চিম ইউরোপের কয়েকটি দেশ শরণার্থীদের জন্য তাদের দরজা খুলে দিয়েছে।

পুলিশ জানায়, গ্রীসের লেসবস ঘটলে আগমনকারী প্রায় ২২ হাজার ৫শ’ শরণার্থী ও অভিবাসনপ্রত্যাশীকে সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কর্মকর্তারা নিবন্ধন করেছেন। তাদের অনেকেই তুরস্ক থেকে নৌকাযোগে আগত সিরীয় শরণার্থী। বৃহস্পতিবার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হাঙ্গেরিতে ৩ হাজার ৩শ’ ২১ জন প্রবেশ করেছে। একটি নতুন কঠোর অভিবাসনবিরোধী আইন বলবৎ হওয়ার আগেই তারা তাড়াহুড়া করে সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টা করছে। দেশটিতে একটি নতুন সীমান্ত বেড়া তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া শরণার্থীদের দুর্দশা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।