১৫ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পাড়ায় পাড়ায় বাড়ি বাড়ি বেজেছে কলের গান

বিশেষ কিছু খাব না আমি... কানা কৃষ্ণের কণ্ঠে গ্রামোফোনে এই গান ছিল বেশ জনপ্রিয়। আর আরেক কালজয়ী শিল্পী শামসাদ বেগমের কণ্ঠের ‘লেকে পেয়ার পেয়ার পেয়ার...’ এই হিন্দি গানও ছিল সকলের মুখে মুখে। ঊনিশ শতাব্দীর প্রথম দিকেই বিক্রমপুরে কলের গান বা গ্রামোফোন আসতে শুরু করে। বিক্রমপুরে রাজ পরিবার ছাড়াও অনেক সমৃদ্ধশালী পরিবারের বসতি ছিল। আর এ জন্য পাড়ায় পাড়ায় ছিল গ্রামোফোন। মুন্সীগঞ্জ শহরের শ্রীপল্লী গ্রামের প্রাচীন বাসিন্দা সুশান্ত ঘোষাল। তাঁর বয়স এখন ৭৩। ১৯৫০ সালের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, তখন এই শ্রীপল্লীর ছোট্ট মহল্লায় গ্রামোফোন ছিল দু’টি। একটি ছিল পুলিশ কর্মকর্তা আব্দুল করিম সাহেবের বাড়িতে আরেকটি ব্যবসায়ী ভুইয়া সাহেবের বাড়িতে। তখন পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র সুশান্ত ঘোষাল সে বাড়িতে যেতেন কলের গান শুনতে। তাঁর ধারণা, তখন মুন্সীগঞ্জ শহর এলাকায় অন্তত ২০টি গ্রামোফান ছিল। আর পুরো বিক্রমপুরে এই সংখ্যা ছিল অন্তত ২শ’। বাংলা বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সুশান্ত ঘোষাল বলেন, রেকর্ডকৃত গান শোনার যন্ত্র এই গ্রামোফোনের আলাদা কদর ছিল। যে বাড়িতে এই যন্ত্রটি ছিল, সেবাড়ির গুরুত্ব বা আভিজাত্য প্রকাশ পেয়েছে ভিন্ন মর্যাদায়।

সুশান্ত ঘোষাল ‘হিজ মাস্টার্স ডগ’ গ্রামোফোন কোম্পানীর কথা উল্লেখ করে বলেন, সে সময় ধাঁ ধাঁ ছিল- এই ডগ পুরুষ না, নারী? যেহেতু বলা হয়েছে ‘হিজ মাস্টার্স’ তাই যারা বুদ্ধিমান, তারা জবাব দিতেন কুকুরটি পুরুষ। গ্রামোফোনের পাশাপাশি সে সময় ঘরে ঘরে ছিল ট্রান্সজিস্টার বা রেডিও। সুশান্ত ঘোষাল ১৯৬৪ সালে হাই ফাই কোম্পানীর বড় ট্রানজিস্টার কেনেন। তিন ব্র্যান্ডের এই ট্রানজিস্টারের মূল্য ছিল আড়াইশ’ টাকা। ছয় ব্যাটারীতে চালাতে হয়েছে। তিনি শিক্ষকতা পেশায় যোগ দেয়ার পর শখ করে কিনেছিলেন ট্রানজিস্টার। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময়ও তিনি এটি নিয়ে ঘুরেছেন। যুদ্ধাবস্থায় ট্রানজেস্টারটি তার হাতছাড়া হয়ে যায়।

Ñমীর নাসিরউদ্দিন উজ্জ্বল

মুন্সীগঞ্জ থেকে