১৭ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

এবার দেশজুড়ে আয়কর মেলা

জসিম উদ্দিন ॥ অপেক্ষা মাত্র দুই দিন। আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর উদযাপিত হবে জাতীয় আয়কর দিবস। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এদিন দেশজুড়ে নানা আয়োজন করবে। এরপর ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হবে সপ্তাহব্যাপী আয়কর মেলা। এ মেলা চলবে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এবার বাড়ানো হয়েছে আয়কর মেলার পরিসর। রাজধানী আর বিভাগীয় শহর ছেড়ে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

এবারের জাতীয় আয়কর দিবস ও সপ্তাহব্যাপী আয়কর মেলার প্রতিপাদ্য হলো- ‘সুখী স্বদেশ গড়তে ভাই, আয়করের বিকল্প নাই।’ এছাড়া এবারের সেøাগান হচ্ছেÑ ‘সমৃদ্ধির সোনালী দিন, আনতে হলে আয়কর দিন।’

জাতীয় আয়কর দিবস উপলক্ষে রাজস্বের গুরুত্ব তুলে ধরে বাণী দেবেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে দিনটি উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জাতীয়, বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে সর্বোচ্চ করদাতাদের সম্মাননা, ক্রেস্ট ও ট্যাক্সকার্ড প্রদান করা হবে। ‘জাতীয় ট্যাক্সকার্ড প্রদান নীতিমালা-২০১০’ অনুযায়ী গত কর বছরের (২০১৪-২০১৫) সর্বোচ্চ ২০ করদাতা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে এবারও জাতীয় আয়কর দিবসে ট্যাক্সকার্ড দেয়া হবে। এনবিআরের জ্যেষ্ঠ তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ এ মুমেন জনকণ্ঠকে জানান, অন্যবারের তুলনায় এবার বাড়ানো হয়েছে আয়কর মেলার ব্যাপ্তি। তিনি বলেন, এ বছর ৬৪টি জেলা ও ৮৬টি উপজেলাসহ স্থায়ী ও ভ্রাম্যমাণসহ সারাদেশে ১৫০ স্থানে একযোগে আয়কর মেলা পালিত হবে। এর বাইরে ভ্রাম্যমাণ মেলা করা হবে পার্বত্য জেলাগুলোতে। ঢাকা মহানগরসহ বিভাগীয় শহরে আয়কর মেলা চলবে ৭ দিন, জেলা শহরে ৪ দিন এবং উপজেলায় ২ দিন করে অনুষ্ঠিত হবে আয়কর মেলা।

এনবিআর সূত্র জানায়, আয়কর আইন অনুযায়ী ব্যক্তিশ্রেণীর করদাতার রিটার্ন জমা দেয়ার শেষ সময় হচ্ছে ৩০ সেপ্টেম্বর।

মেলা আয়োজন নিয়ে জানতে চাইলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আয়কর প্রশাসন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের সদস্য মোঃ আবদুর রাজ্জাক জনকণ্ঠকে জানান, জাতীয় আয়কর দিবস ও আয়কর সপ্তাহ পালন নাগরিকদের কর দিতে উদ্বুদ্ধ করে। নাগরিকদের মধ্যে করভীতি দূর ও আয়করদানকে সহজ করতে মেলার আয়োজন করা হয়।

মেলায় কী সেবা দেয়া হবেÑ জানতে চাইলে তিনি বলেন, একজন করদাতা আয়কর প্রদানের পদ্ধতি জানা থেকে শুরু করে, ই-টিন নিবন্ধন, ই-টিন পুনঃনিবন্ধন, রিটার্ন ফরম পূরণ, আয়কর পরিশোধে ব্যাংক বুথ এবং রিটার্ন জমা দেয়ার সব রকম সুযোগ-সুবিধাই ভোগ করতে পারবেন। তাদের এসব কাজে সাহায্য করতে থাকবে হেল্প ডেস্ক ও স্বেচ্ছাসেবক। এবারের মেলায় অনলাইন রিটার্ন ও ই-পেমেন্ট নেয়া হবে।

আবদুর রাজ্জাক বলেন, ৬ষ্ঠ বারের মতো এই মেলা আয়োজন করা হচ্ছে। বিগত বছরে দেয়া সুযোগ-সুবিধা অব্যাহত থাকার পাশাপাশি এবারের আয়কর মেলার ব্যতিক্রম হচ্ছেÑ কাস্টমস ও ভ্যাটসংক্রান্ত সেবার বিষয়ে ধারণা দেয়ার ব্যবস্থা থাকবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রথমবারের মতো আয়কর মেলায় মেলায় আগত করদাতাদের কাস্টমস ও ভ্যাটসংক্রান্ত ধারণা দিতে রাজস্ব বোর্ড এই দুটি উইং পৃথক পৃথক ডেক্স স্থাপন করবে। এছাড়া সঞ্চয় অধিদফতরও তাদের তথ্য দিতে একটি ডেক্স স্থাপন করবে বলে জানান তিনি।

ব্যক্তি পর্যায়ের সর্বোচ্চ ১০ করদাতা ॥ ঢাকা আগা নওয়াব দেউরীর হাজী মোঃ কাউছ মিয়া, ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের মোহাম্মদ ইউসুফ, রুবাইয়াৎ ফারজানা হোসেন, লায়লা হোসেন, হোসনে আরা হোসেন, খাজা তাজমহল, উত্তরার এমএ হায়দার হোসেন, নারায়ণগঞ্জের তারাবো রূপগঞ্জের গোলাম দস্তগীর গাজী, চট্টগ্রাম পাথরঘাটার মিরেন্ডা লেইনের মোঃ নাছির উদ্দিন ও ঢাকার গুলশান-১ এর আব্দুল মুক্তাদির।

ট্যাক্সকার্ডের জন্য মনোনীত সর্বোচ্চ করদাতা ১০ প্রতিষ্ঠান ॥ শেভরন বাংলাদেশ ব্লক ১২ লিমিটেড, কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড, ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি, বাংলাদেশ রফতানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা), বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন এ্যান্ড প্রডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স), তমা কনস্ট্রাকশন এ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেড, সেন্ট্রাল ডিপোজেটরি বাংলাদেশ লিমিটেড, কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলন পিএলসি, দি সিকিউরিটি প্রিন্টিং করপোরেশন (বাংলাদেশ) লিমিটেড ও উত্তরা ফাইন্যান্স এ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড।

এসব ট্যাক্সকার্ডধারীরা যে কোন জাতীয় অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পাবেন। সড়ক, রেল, নৌ ও আকাশপথে সরকারী কোটা অনুসারে আসন ও অন্যান্য অগ্রাধিকার সুবিধা পাবেন। কার্ডধারীরা ও তাদের পরিবারের সদস্যরা চিকিৎসা সুবিধা ও নাগরিক সেবার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবেন।