১৯ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আঙ্গুলের ছাপে নতুন নোট বিনিময় করবে বাংলাদেশ ব্যাংক

রহিম শেখ ॥ ঈদ-উল-ফিতর ও ঈদ-উল আযহার আগে নতুন নোটের চাহিদা বাড়ে। এই চাহিদা মেটাতে প্রতিবছর বাজারে নতুন নোট সরবরাহ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। আসন্ন কোরবানির ঈদ সামনে রেখে পর্যাপ্ত পরিমাণে নতুন টাকা সরবরাহের উদ্যোগ নিচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এবারের ঈদে বিভিন্ন মূল্যমানের ২৫ হাজার কোটি টাকা বাজারে ছাড়ার প্রস্তুতি নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আগামী বৃহস্পতিবার থেকে নতুন নোটের বিনিময়ের নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। নতুন নোট বিনিময়ের এ কার্যক্রম চলবে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। রাজধানীতে ১৯টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের ২০টি শাখায় নতুন নোট বিনিময় হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিলসহ সকল শাখায় নতুন নোট বিনিময়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এবার একজনে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৭০০ টাকার বিভিন্ন মূল্যমানের নোট বদলিয়ে নিতে পারবেন। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল অফিসে নতুন নোট বিনিময়ে ডিজিটাল ডিসপ্লে বোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। এই পদ্ধতিতে নতুন টাকা বিনিময়ের আগে মানুষকে কুপন সরবরাহ করা হবে। পরে কুপনের সিরিয়াল ধরে নতুন নোটের বিনিময় হবে। পাশাপাশি নেয়া হবে আঙ্গুলের ছাপ। দালাল রুখতেই পরীক্ষামূলকভাবে এমন পদ্ধতি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কারেন্সি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা জনকণ্ঠকে বলেন, সাধারণ মানুষের মধ্যে সুষ্ঠুভাবে নতুন নোট বিনিময়ের জন্য প্রথমবার এমন উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি নোট নিতে আসা প্রত্যেকের আঙ্গুলের ছাপ রাখা হবে। এর ফলে একজন লোক সপ্তাহে ১ দিনের বেশি নতুন টাকা নিতে পারবে না। ফলে নোট নিতে আসা সাধারণের ভোগান্তি কমবে। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক ম. মাহফুজুর রহমান জনকণ্ঠকে বলেন, আসন্ন কোরবানির ঈদে নতুন নোটের কোন সঙ্কট হবে না। এবার একজনে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৭০০ টাকার সমপরিমাণ নতুন টাকা বদলে নিতে পারবেন। এর মধ্যে ২০ টাকার ১ প্যাকেট, ১০ টাকার ১ প্যাকেট, ৫ টাকার ১ প্যাকেট ও ২ টাকার ১ প্যাকেট নেয়ার সুযোগ রাখা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, মতিঝিলে প্রধান কার্যালয়ে ১টি ভিআইপিসহ মোট তিনটি কাউন্টারে নতুন নোট বিতরণ করা হবে। এছাড়া ঢাকায় অবস্থিত বিভিন্ন ১৮টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের ২০টি শাখার মাধ্যমে নতুন নোট ও কয়েন বিতরণ করা হবে। এর মধ্যে ১২টি শাখায় ১ থেকে ৫০ টাকার নোট ও কয়েন এবং বাকি ৮টি শাখায় ১০০, ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট বিতরণ করা হবে। ঢাকার বাইরে বাংলাদেশ ব্যাংকের চট্টগ্রাম অফিসে ২টি এবং অন্যান্য অফিসে সর্বোচ্চ ২টি কাউন্টারে নতুন নোট পাওয়া যাবে। এছাড়া চট্টগ্রাম, খুলনা ও সিলেটে অবস্থিত বাণিজ্যিক ব্যাংকের ৩টি শাখা ও বগুড়া, রংপুর ও রাজশাহীতে বাণিজ্যিক ব্যাংকের ২টি শাখার মাধ্যমে নতুন নোট দেয়া হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, নতুন নোট বিনিময়কালে ক্যাশ কাউন্টারের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুদ্রা ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা ও মতিঝিল অফিসের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি গঠন করা হবে। এ টিম সার্বক্ষণিক ও সরেজমিনে নোট বিতরণসহ অন্যান্য বিষয়গুলো তদারকি করবে।

এদিকে নতুন নোট বিতরণ শুরুর আগেই বাজারে সক্রিয় হয়ে উঠেছে জাল নোট কারবারিরা। মাঝে মধ্যেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক অভিযানে ধরা পড়েছে জাল নোট প্রস্তুতকারী একাধিক চক্র। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানা গেছে, এসব ঘটনার প্রেক্ষিতে নতুন নোট বিতরণে সতর্কতার পাশাপাশি জাল নোট ঠেকাতে বিশেষ ব্যবস্থার সুপারিশ এসেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বরাবর। সম্প্রতি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জাল নোট বিষয়ক সভায় এ সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এরই প্রেক্ষিতে ব্যাংকের পক্ষ থেকে হ্যান্ডবিল বিতরণ ও টিভিতে ভিডিওচিত্র প্রচার ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারণা চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

যেসব শাখায় নতুন নোট পাওয়া যাবে ॥ রাজধানীতে যেসব শাখায় নতুন নোট পাওয়া যাবে সেগুলো হলো- জনতা ব্যাংকের নিউমার্কেট শাখা ও আব্দুল গণি রোড কর্পোরেট শাখা, ন্যাশনাল ব্যাংকের যাত্রাবাড়ী শাখা, পূবালী ব্যাংকের সদরঘাট শাখা, অগ্রণী ব্যাংকের এলিফ্যান্ট রোড শাখা, মার্কেন্টাইল ব্যাংকের বনানী শাখা, সাউথইস্ট ব্যাংকের কারওয়ান বাজার শাখা, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংকের বসুন্ধরা সিটি মার্কেট শাখা, উত্তরা ব্যাংকের চকবাজার শাখা, ওয়ান ব্যাংকের বাসাবো শাখা, আইএফআইসি ব্যাংকের গুলশান শাখা, ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের এসএমই এ্যান্ড এগ্রিকালচার ইউনিট দক্ষিণখান শাখা, ব্যাংক এশিয়ার পল্টন শাখা, ইসলামী ব্যাংকের শ্যামলী শাখা, ঢাকা ব্যাংকের উত্তরা শাখা, ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংকের মোহাম্মাদপুর শাখা, রূপালী ব্যাংকের মহাখালী শাখা, বেসিক ব্যাংকের শান্তিনগর শাখা, যমুনা ব্যাংকের ধানম-ি শাখা ও দ্যা সিটি ব্যাংকের মিরপুর শাখা। প্রসঙ্গত, জানা গেছে, গেল কোরবানির ঈদে বিভিন্ন মূল্যমানের ২৪ হাজার কোটি টাকা বাজারে ছেড়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গেলবার রাজধানীতে ২০টি এবং বিভাগীয় শহরে ২৭টি ব্যাংকের শাখায় বিশেষ ব্যবস্থায় নতুন নোট বিতরণের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।