২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বাংলাদেশ বিশ্বসভায় সব দিকে এগোচ্ছে এগিয়ে যাবেই

  • গণভবনে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণকালে প্রধানমন্ত্রী

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করে এখন বিশ্বসভায় বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে এগিয়ে যাচ্ছে। বিশ্ব সভায় বাংলাদেশ এখন সব দিক থেকে এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা বাংলাদেশকে এমনভাবে গড়ে তুলতে চাই যেন এদেশের প্রতিটি শিশু শিক্ষাদীক্ষায় উন্নত হতে পারে। আধুনিক প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন হতে পারে। আজকের যারা শিশু তারা যেন আগামীতে সুন্দর, উন্নত ও শান্তিপূর্ণ জীবন পায় সেটাই আমাদের কাম্য।

শনিবার গণভবনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণকালে প্রধানমন্ত্রী দেশের প্রতিটি শিশুকে আধুনিক শিক্ষাদীক্ষায় শিক্ষিত করে উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা রাষ্ট্র পরিচালনা করি দেশের কল্যাণ ও উন্নয়নের জন্য। মুক্তিযুদ্ধ করে আমরা বিজয় অর্জন করেছি। আমরা বিজয়ী জাতি। বিজয়ী জাতি হিসেবে বাঙালী যেন বিশ্বসভায় মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হয়, মর্যাদা নিয়ে চলতে পারে সেটাই আমরা চাই। আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ তৈরি করেছি যেটা এখন বাস্তব। দেশে কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষা আজ সর্বজনীন করে দিয়েছি। কাজেই বাংলাদেশ এখন সবদিক থেকে বিশ^সভায় এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবেই।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের উদ্যোগে ২০১২ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত এসব চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। যেখানে বিভিন্ন গ্রুপে ১৫০ শিশু-কিশোর বিজয়ী হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নিজ হাতে বিজয়ী শিশু-কিশোরদের মাঝে পুরস্কারের ক্রেস্ট ও সনদ তুলে দেন। এ সময় মেমোরিয়াল ট্রাস্টের সহ-সভাপতি ও বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ কন্যা শেখ রেহানা দর্শকসারিতে উপস্থিত ছিলেন।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি জাদুঘরের সভাপতি খ্যাতনামা চিত্রশিল্পী হাশেম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মেমোরিয়াল ট্রাস্টের সদস্য সচিব শেখ হাফিজুর রহমান। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন মেমোরিয়াল ট্রাস্টের প্রধান নির্বাহী মাসুরা হোসাইন। শুরুতে বঙ্গবন্ধু শিশু-কিশোর মেলার শিশুশিল্পীরা জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করে। অনুষ্ঠানে সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্য ছাড়াও বরেণ্য শিল্পী, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বসহ বিভিন্ন শ্রেণীপেশার ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা সংগ্রামে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব ও ভূমিকা শিশু-কিশোরদের সামনে তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা আমাদের স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন। বাঙালী হিসেবে বিশ^ দরবারে আমাদের একটি মর্যাদা রয়েছে। এই পরিচয়টুকুও আমরা পেতাম না যদি না জাতির পিতা দীর্ঘ সংগ্রাম-আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ করে এই স্বাধীনতা ও বিজয় আমাদের এনে দিতেন।

বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রেক্ষাপট তুলে ধরতে গিয়ে আবেগজড়িত কণ্ঠে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু এতটাই সাদাসিধে জীবনযাপন করতেন যে তিনি রাষ্ট্রপতি হয়েও বঙ্গভবনে না থেকে ধানম-ির ৩২ নম্বরে সাধারণ বাড়িতে থাকতেন। বাংলাদেশ হবে একটি উন্নত দেশ- এই কর্মসূচীও বঙ্গবন্ধু শুরু করলেন। দেশের মানুষ এর শুভ ফল পেতেও শুরু করল। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য, যারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল, হানাদার পাকিস্তানী বাহিনীর দোসর ও যুদ্ধাপরাধী ছিল এবং যাদের বিচার বঙ্গবন্ধু শুরুও করেছিলেন তারাই ষড়যন্ত্র করে পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট ধানম-ির ওই বাড়িতেই জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যা করে।

স্মৃতিবিজড়িত ধানম-ির বাড়িটি দেশের মানুষের জন্য উৎসর্গ করার কথা জানিয়ে বঙ্গবন্ধুর এই কন্যা বলেন, ১৫ আগস্ট হত্যাকা-ের সময় কেবল আমি ও আমার ছোট বোন শেখ রেহানা বিদেশে ছিলাম বলে বেঁচে গিয়েছিলাম। ঢাকা শহরে এই একটিমাত্র বাড়িই আমাদের ছিল। যেহেতু আমার বাবা সারাজীবন এদেশের মানুষের জন্য সংগ্রাম করেছেন, তাই আমরা দুই বোন সিদ্ধান্ত নিয়ে বাড়িটি বাংলাদেশের জনগণকে উৎসর্গ করেছি। এখানে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করেছি, বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টও করেছি।

প্রধানমন্ত্রীর সরকারী বাসভবন গণভবনকে ‘জনগণের ভবন’ অভিহিত করে শেখ হাসিনা বলেন, এই গণভবন Ñএটা তো গণভবন, জনগণের ভবন। স্বাধীনতার পর এই ভবনে জাতির পিতা অফিস করতেন। এখন সবাই যেন এখানে আসতে পারেন, সে ব্যবস্থাই নিশ্চিত করা হয়েছে। আজ যারা বিজয়ী শিশু-কিশোর এবং তাদের অভিভাবকরা এখানে এসেছেন তাদের আগমনে গণভবন ধন্য হয়েছে।

দরিদ্র শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তি প্রদান, একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা দেয়া এবং একটি দাতব্য হাসপাতাল পরিচালনাসহ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের কল্যাণধর্মী পদক্ষেপও তুলে ধরেন মেমোরিয়াল ট্রাস্টের সভাপতি শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, রোগে ভোগা মানুষের চিকিৎসায় এই ট্রাস্ট থেকে, একটি হাসপাতাল থেকে কোন লাভের অংশ নেয়া হয় না। এটি গরিব রোগীর চিকিৎসায় ব্যয় করা হয়। বিনা পয়সায় গরিব রোগীর চিকিৎসাও দেয়া হয়।

ট্রাস্টের পক্ষ থেকে প্রতিবছর বঙ্গবন্ধুর জš§বার্ষিকী উপলক্ষে শিশু-কিশোরদের মধ্যে চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। তবে গত কয়েক বছর ধরে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান নিয়মিত করা যায়নি। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিবছর সময়মতো বিজয়ী শিশুদের হাতে পুরস্কার তুলে দেয়া সম্ভব হয়নি। আসলে আমিই সময় দিতে পারিনি। আমার কারণেই এটি হয়নি। এজন্য আমি দুঃখিত। যারা পুরস্কৃত হয়েছে তাদের সবার জন্য দোয়া ও আশীর্বাদ কামনার পাশাপাশি বিজয়ী ও প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদেরও অভিবাদন জানান প্রধানমন্ত্রী।