১৭ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

চট্টগ্রামে দেশী ও মিয়ানমারের গরুর সরবরাহ প্রচুর

  • এবার কোরবানির টার্গেট ৫ লাখ

মোয়াজ্জেমুল হক, চট্টগ্রাম অফিস ॥ চট্টগ্রাম মহানগরী ও জেলায় আসন্ন ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে গরু বিক্রির টার্গেট এবার প্রায় ৫ লাখ। মহানগরীর বৈধ ১০টি ইজারা দেয়া হাটে এবং জেলায় ২২১ হাটে উক্ত সংখ্যক গরু বিক্রির টার্গেট নিয়েছে ইজারাদাররা। তবে জেলায় বৈধ হাটের সংখ্যা ১৪২। অবশিষ্ট ভাসমান ৭৯ অবৈধভাবে বেচাবিক্রিতে থাকবে বলে জানা গেছে।

বাজার সূত্রে জানা গেছে, গত কোরবানির ঈদে চট্টগ্রাম ও জেলায় গরু বিক্রির সংখ্যা ছিল ৪ লাখ ৮০ হাজার। প্রতিবছর কোরবানিদাতার সংখ্যা বাড়ে বিধায় বিক্রির পরিমাণও বেড়ে যায়। সে অনুযায়ী এবার বাড়তি আরও ২০ হাজার নির্ণয় করা হয়েছে। তবে এবার আগেভাগে কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করার পাঁয়তারা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যেহেতু ভারত থেকে গরু আসার অবাধ প্রক্রিয়া থমকে গেছে সেক্ষেত্রে মিয়ানমার ও দেশীয় গরুর উপরই এবার অধিকাংশ বিক্রেতা ও ক্রেতারা নির্ভর করছে। মহানগরীর ১০টি ইজারাকৃত হাটের মধ্যে সাগরিকা, বিবিরহাট, ঈশান মিস্ত্রির হাট, পতেঙ্গা, বাকলিয়ার কল্পলোক ও অন্যান্য বড় হাট অন্যতম। এছাড়া ছোটখাটো আরও অবৈধ হাটের সংখ্যা হবে অসংখ্য। তবে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কর্তৃপক্ষ আগেভাগেই জানিয়ে দিয়েছে রাস্তায় কোন গরুর হাট বসতে দেয়া হবে না। অনুরূপভাবে জেলা নিয়ন্ত্রিত উপজেলাগুলোতেও একই ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এছাড়া গরুবাহী যানবাহন থেকে পথে পথে কোন ধরনের চাঁদাবাজির কোন ঘটনা যাতে না ঘটে সে ব্যাপারেও ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। কোরবানির প্রাক্কালে এবারের পশু আমদানি ও বিক্রি এবং ক্রেতাদের মধ্যে এক ধরনের শঙ্কা বিরাজমান। কেননা, ২০১৩ সালের কোরবানির ঈদের প্রাক্কালে গরু ব্যবসায়ীদের একটি সিন্ডিকেট কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করেছিল। এ সিন্ডিকেটটি পশুবাহী যানবাহনগুলোকে অবাধে শহর অভ্যন্তরে অর্থাৎ হাটগুলোতে আসতে দেয়নি। ফলে বাজারে সঙ্কট সৃষ্টি হয়ে হাহাকার পড়ে যায়। নির্ধারিত দামের দ্বিগুণ দামেও অনেকে গরু কিনতে বাধ্য হয়েছিল। অবশ্য পরের বছর অর্থাৎ ২০১৪ সালে প্রশাসন এ ব্যাপারে আগেভাগে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করায় ২০১৩ সালের ঘটনার অবতারণা ঘটেনি।

এদিকে, চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলার বিভিন্ন স্থানে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চল এবং মিয়ানমার থেকে প্রতিদিন ট্রাকে ট্রাকে গরু বোঝাই হয়ে আসছে। চট্টগ্রাম মহানগরীতে দৈনিক গড়ে প্রায় তিন হাজার গরু বিভিন্ন হাটে ওঠানোর জন্য আসছে। এখনও পর্যন্ত আসার পথে কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। তাই গরু ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা এখনও পর্যন্ত আশাবাদী যে কোরবানির আগ পর্যন্ত গরু নিয়ে সঙ্কট সৃষ্টি হবে না। তবে গেল বছর যেভাবে গরুর দাম পড়ে যায় এবার ওই অবস্থা নাও হতে পারে।

এদিকে, মহানগরীর ইজারা দেয়া হাটগুলোকে সিসিটিভির আওতায় আনা হচ্ছে। আর জেলার ১৪২টি হাট থাকবে আইটি ক্যামেরার নিয়ন্ত্রিত। এছাড়া পুলিশের তদারকি থাকবে অতীতে যে কোন সময়ের তুলনায় বেশি। সঙ্গত কারণে, প্রশাসন আশা করছে গরু ব্যবসায়ীদের অসৎ সিন্ডিকেট সুবিধা করার কোন সুযোগ পাবে না।

এদিকে, বাজারে মিয়ানমারের গরু আসতে থাকলেও ক্রেতাদের কাছে এর চাহিদা দেশী ও ভারতীয় গরুর তুলনায় কিছুটা কম বলে ব্যবসায়ীদের সূত্রে জানা গেছে। চাহিদার মধ্যে শীর্ষে থাকে দেশীয় গরু। সে কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে চট্টগ্রামে প্রচুর পরিমাণে গরুর সরবরাহ আসে। এছাড়া দেশজুড়ে চট্টগ্রামে কোরবানি দাতাদের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি হওয়ায় গরু ব্যবসায়ীদের টার্গেটে থাকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রিক। ইতোমধ্যেই ইজারা দেয়া হাটগুলোতে গরু উঠেছে এবং তা দিন দিন বাড়ছে। এসব হাটে এখনও প্রাধান্য পাচ্ছে দেশীয় গরু। গত একসপ্তাহ ধরে এর সঙ্গে যোগ হচ্ছে মিয়ানমারের গরু। গরু ব্যবসায়ীরা এখনও দাম হাঁকছে তুলনামূলকভাবে বেশি। তবে শেষ পর্যন্ত তারা দর কমাতে বাধ্য হবে বলে বাজার সূত্রে ধারণা দেয়া হয়েছে। ভারতের তুলনায় মিয়ানমারের গরু যেহেতু প্রচুর পরিমাণে আসতে শুরু করেছে সেক্ষেত্রে বাজারে কোন ধরনের সঙ্কট থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে না। এর পাশাপাশি ভারতের সীমান্তের বিভিন্ন পথ দিয়ে ইতোমধ্যে গরু আসা শুরু হয়েছে। তবে তা অতীতের তুলনায় ব্যাপকভাবে কম। এর কারণ হিসাবে জানা গেছে, ভারত সরকার অবৈধ পথে বাংলাদেশে গরু আনার ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করায় পরিমাণ আগের তুলনায় হ্রাস পেয়েছে। আর বৈধ পথে গরু আমদানির ক্ষেত্রে নিয়ম কানুন মানতে গিয়ে দাম বেশি পড়ে। সঙ্গত কারণে এবার দেশীয় ও মিয়ানমারের গরুর উপর বাজারের নির্ভরতা বেশি থাকবে বলে ধারণা পাওয়া গেছে।

কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টির করার পাঁয়তারার বিষয়টি আগেভাগে ফাঁস হয়ে যাওয়ায় সিন্ডিকেট সদস্যরাও সতর্ক অবস্থানে চলে গেছে। ফলে পুলিশ ও বাজার সূত্রে যে ধারণা দেয়া হচ্ছে সে অনুযায়ী সঙ্কট সৃষ্টির কোন অবকাশ যেমন নেই, তেমনি অতিরিক্ত মূল্য হাঁকিয়ে গরু ধরে রেখে অতি মুনাফা লাভের আশাটিও বাস্তবায়ন হওয়ার সম্ভাবনা নেই। গেল বছরের কোরবানির ঈদে গরু বিক্রি করে অনেকেই ব্যাপকভাবে লোকসান দিয়েছ। লাভবান হয়েছে ক্রেতারা। এবার যাতে ওই অবস্থা না হয় সেদিকেও নজর রেখেছে ব্যবসায়ীরা। তবে সবকিছু নির্ভর করছে সরবরাহের উপর। চট্টগ্রাম মহানগরী ও জেলার বৈধ ও ভাসমান হাটগুলোতে গরুর যোগান সুষ্ঠুভাবে আসলে আশা করা হচ্ছে এবারের কোরবানির ঈদেও কোরবানিদাতারা সঙ্কটে পড়ার কোন অবকাশ থাকবে না।

নির্বাচিত সংবাদ