২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

টাকা চুরির অপবাদ সালিশে শিশুকে নাকে খত দিয়ে থুথু চাটানোর অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল ॥ এবার দোকান থেকে টাকা চুরির অপবাদে সালিশ বৈঠকে ষষ্ঠ শ্রেণীর এক শিশুকে অমানুষিক নির্যাতনের পর নাকে খত দিয়ে থুথু চাটানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়াও নির্যাতিত শিশুর বাবার কাছ থেকে জরিমানার টাকা আদায় করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ সালিশদার সাবেক এক ইউপি সদস্যসহ চারজনকে আটক করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার রাতে আগৈলঝাড়ার গৈলা ইউনিয়নের দাসেরহাট বাসস্ট্যান্ডে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সালিশ বৈঠকে উপস্থিত

একাধিক ব্যক্তি জানান, শুক্রবার দুপুরে দাসেরহাট বাসস্ট্যান্ডের চা বিক্রেতা দক্ষিণ শিহিপাশা গ্রামের নুরুল হক সরদারের ছেলে হাবুল সরদারের দোকান থেকে তার অনুপস্থিতিতে সাড়ে তিন হাজার টাকা চুরি হয়। দোকানের সামনে ওই সময় ৪-৫ জন শিশু খেলা করছিল। পরে টাকা চুরির ঘটনায় দক্ষিণ শিহিপাশা গ্রামের গৌরাঙ্গ লাল দাসের ছেলে গৈলা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র দেবাশীষ দাসকে দায়ী করা হয়। রাতে টাকা চুরির অভিযোগে শিশু দেবাশীষকে বাড়ি থেকে হাবুলের লোকজন ধরে আনে। এসময় তার পকেটে থাকা ১৬৬ টাকা দেখে তা রেখে দিয়ে চুরির অভিযোগে সালিশ বৈঠক ডাকা হয়। রাতেই হাবুলের চায়ের দোকানের সামনে সালিশ বৈঠক বসে। ওই বৈঠকে স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য ও উপজেলা জাতীয়তাবাদী মৎস্য দলের সভাপতি সবুজ বেপারী, সাবেক সেনাসদস্য মোক্তার বেপারী, স্থানীয় মাতবর মালেক সিকদার, চৌকিদার আবুল হোসেনসহ শতাধিক লোক উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে শিশুর অভিভাবকদের উপস্থিতিতে দেবাশীষকে চোর সাব্যস্ত করে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে রাস্তার ওপর থুথু ফেলে তা মুখ দিয়ে উঠানো ও নাকে খত দেয়া হয় শিশুটিকে। এছাড়াও দেবাশীষের বাবার কাছ থেকে তাৎক্ষণিক দুই হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এসআই হাবিবুর রহমান জানান, কথিত সালিশ বৈঠকে শিশু নির্যাতনের খবর পেয়ে রাতেই অভিযান চালিয়ে সালিশদার মোকতার বেপারী, সবুজ বেপারী, মালেক শিকদার ও চা বিক্রেতা হাবুল সরদারকে আটক করা হয়।

ওসি মোঃ মনিরুল ইসলাম বলেন, আটকরা জরিমানার টাকা ফেরত দিয়েছে। এ ঘটনায় কেউ থানায় মামলা দায়ের করতে রাজি না হওয়ায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। ফলে শনিবার দুপুরে আটককৃতদের ছেড়ে দেয়া হয়।

স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, সালিশদাররা ওই এলাকার প্রভাবশালী হওয়ায় দীর্ঘদিন থেকে তাদের হাতে জিম্মি অবস্থায় রয়েছেন স্থানীয় সংখ্যালঘু পরিবারের লোকজন। ফলে শিশু নির্যাতনের ঘটনায়ও তারা মামলা দায়ের করতে সাহস পাননি। স্থানীয়দের অভিযোগ অস্বীকার করে সালিশদার সবুজ বেপারী, মোক্তার বেপারী ও মালেক সিকদার বলেন, বৈঠকে জরিমানার টাকা আদায় করা হয়েছিল, তবে নির্যাতনের কোন ঘটনা ঘটেনি।