১৫ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বাহরাইনে ৪৩ হাজার বাংলাদেশী বৈধ হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে

  • নতুন করে কর্মী নিয়োগের আলোচনাও চলছে

ফিরোজ মান্না ॥ অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ থেকে ৪৩ হাজার অবৈধ বাংলাদেশী বাহরাইনে বৈধ হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। ইতোমধ্যে ১০ হাজার অবৈধ বাংলাদেশী বৈধ হওয়ার জন্য বাহরাইন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে দেশটির কর্তৃপক্ষ এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাহরাইন লেবার মার্কেট রেগুলেটরি অথরিটি (এলএমআরএ) সাধারণ ক্ষমার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। একই সঙ্গে বন্ধ শ্রমবাজার বাহরাইনে নতুন করে কর্মী নিয়োগের জন্য আলাপ আলোচনা চলছে। দীর্ঘ চার বছর পর বিষয়টি নিষ্পত্তি হতে যাচ্ছে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে।

জানা গেছে, ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং বাহরাইনের এলএমআরএ’র সঙ্গে অবৈধ কর্মীদের বৈধ করার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে আসছিল। বিষয়টি নিয়ে কয়েক দফা বাহরাইনের প্রতিনিধিদল দেশে এসেছেন। বাংলাদেশ থেকেও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রীর নেতৃত্বে প্রতিনিধিদল কয়েক দফা দেশটি সফর করেছেন।

সূত্র জানিয়েছে, বাহরাইন কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগের বিষয়েও আগ্রহ দেখিয়েছে। তবে তারা বেশ কিছু শর্ত দিয়েছে। এই শর্ত পূরণ করার পর কর্মী নেবে বলে জানিয়েছে। প্রথমতও সাশ্রয়ীভাবে বাহরাইনে কর্মী পাঠাতে হবে। চাকরির মেয়াদের বেশি সময় থাকতে পারবে না। এমন কিছু শর্তের কথা বলা হয়েছে। জনশক্তি রফতানিকারকরা তিন থেকে পাঁচ লাখ টাকা করে নিয়ে বাহরাইনে কর্মী নিয়োগ করেছে। এতে কর্মীরা সেখানে কাজ করে তাদের খরচের টাকাই তুলতে পারেনি। এ কারণে অনেক কর্মী লুকিয়ে লুকিয়ে থেকে কাজ করেছে। যার কারণে বাংলাদেশী কর্মীরা অবৈধ পড়েছিল। দরিদ্র মানুষও প্রতারণার শিকার হবে না। এলএমআরএ‘র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ওসামা আবদুল্লা আল আবছি সম্প্রতি সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এই ঘোষণাটি আগামী অক্টোবর থেকে শুরু করে ৩১ ডিসেম্বর বৈধ হওয়ার সুযোগ থাকবে। এই সময়ের মধ্যে অবৈধ কর্মীরা বৈধ হতে না পারলে তাদের দেশে ফিরে আসতে হবে। কাজে অনুপস্থিত বা কাজ থেকে পলাতক, কাজ শেষে অতিরিক্ত সময় অবস্থান, কাজ শেষের পর পলাতক ও ভিসার মেয়াদ শেষ হবার পর রিনিউ না করে অতিরিক্ত সময় অবস্থানকারী প্রবাসী কর্মীরা সাধারণ ক্ষমার আওতায় পড়বেন।

জানা গেছে, কর্মীরা বৈধ হওয়ার পর ছয় মাসের জন্য তারা যে কোন প্রতিষ্ঠানে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে যদি কেউ দেশে ফিরতে চান তাহলে দেশেও ফিরতে পারবেন। বাহারাইন ইমিগ্রেশন তাদের কোন বাধা দেবে না। যদি সাধারণ ক্ষমার সময় পার করে কেউ দেশে ফিরতে চান তাহলে তারা কালো তালিকাভুক্ত হবেন। সেক্ষেত্রে তাদের বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন পুলিশ ব্যবস্থা নেবে। যে সব কর্মী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দেশে ফিরবেন তারা আবার সাধারণ ক্ষমা বলবত থাকা অবস্থায় তারা আবার বাহরাইনে যেতে পারবেন। এমন একটি সুযোগও দেয়া হয়েছে। অবৈধ কর্মীদের বৈধ হওয়ার জন্য এলএমআরএ’র একটি কলসেন্টার খুলবে। ওই কলসেন্টারের একটি নম্বর থাকবে।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের এই শ্রমবাজারটি বন্ধ হয়েছিল। এ কারণে সেখানে থাকা হাজার হাজার বাংলাদেশীসহ বিভিন্ন দেশের কর্মীরা অবৈধ হয়ে পড়েন। কেউ কেউ ৭ থেকে ৮ বছর ধরে দেশটিতে অবৈধভাবে বসবাস করে আসছেন। সাধারণ ক্ষমার মাধ্যমে তারা এখন বৈধ হওয়ার সুযোগ পাবেন। দীর্ঘদিনের চেষ্টার পর বাহারাইন কর্তৃপক্ষ এমন সিদ্ধান্তকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় স্বাগত জানিয়েছে। ভবিষ্যতে দেশটিতে কর্মী নিয়োগের বিষয়েও আশা প্রকাশ করেছে।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, প্রায় চার বছরের চেষ্টার ফলে বাহারাইনে অবৈধ কর্মী বৈধ হতে যাচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদল একাধিকবার দেশটির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এ বিষয় নিয়ে আলাপ আলোচনা করেছেন। এরপরই দেশটির কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি এমন একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিষয়টি দেশের জন্য একটি ভাল খবর।

বাহরাইনের শ্রম বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা লেবার মার্কেট রেগুলেটরি অথরিটির (এলএমআরএ) তথ্যানুযায়ী দেশটিতে বিভিন্ন দেশের ৬১ হাজারের মতো অবৈধ অভিবাসী আছেন। এরমধ্যে প্রায় ৪৩ হাজারই বাংলাদেশী নাগরিক। গত এক জুলাই ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এক হাজার ৩৪১ জন অবৈধ প্রবাসী আউটপাস নিয়ে বসে আছেন। যাতে তারা কোন পুলিশী হয়রানির শিকার না হন। এখন সাধারণ ক্ষমায় তারাও আবেদন করতে পারবেন। সাধারণ ক্ষমার সব প্রক্রিয়া শেষ করতে একটু সমযের প্রয়োজন রয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ থেকে বৈধতা দেয়ার কাজ শুরু হবে।

বাহরাইন কর্তৃপক্ষ বলেছে, যারা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বৈধ না হবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তখন একযোগে গোটা বাহরাইনের অভিযান চালানো হবে। যারা অবৈধ কর্মী তাদের হয় দেশে পাঠানো হবে না হয় জেলে যেতে হবে।

ইতোমধ্যে ১০ হাজার অবৈধ প্রবাসী সাধারণ ক্ষমার সুযোগ চেয়ে আবেদন করেছে। এর মধ্যে ভিসা পরিবর্তন করে বৈধভাবে বাহরাইনে কাজ করার সুযোগ চেয়েছেন ৮ হাজার প্রবাসী। ২ হাজার অবৈধ পুলিশের হাতে আটক হলেও পরে তারা কোন রকম জরিমানা ছাড়াই দেশে ফিরেছেন।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অবৈধ কর্মীদের বৈধ হতে যে সব তথ্য জানার প্রয়োজন তার জন্য একটি কল সেন্টার চালু করেছে বাহারাইন কর্তৃপক্ষ। যার নম্বর ১৭৫০৬০৫৫। এই নম্বরে ফোন করে যে কোন কর্মী বৈধ হওয়ার বিস্তারিত তথ্য জানাতে পারবেন। কোন প্রকার দালালের সহযোগিতা ছাড়াই কর্মীরা বৈধ হতে পারবেন।