২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সংগঠনের কেউ সন্ত্রাসে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন

  • স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইজিকে যুবলীগ চেয়ারম্যানের চিঠি

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ নিজের সংগঠনের কোন সদস্য আইন-শৃঙ্খলাবিরোধী কোন কাজে জড়িত থাকলে সঙ্গে সঙ্গে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পুলিশ প্রধানকে চিঠি দিয়েছেন যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী। চিঠিতে যুবলীগের কারা আইন-শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকা-ে জড়িত তাদের একটি তালিকাও চেয়েছেন তিনি। যুবলীগের একটি প্রতিনিধি দল সংগঠনের চেয়ারম্যানের চিঠিটি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পুলিশের আইজির কাছে পৌঁছে দেয়।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে যুবলীগের চেয়ারম্যান চিঠি প্রদানের কথা স্বীকার করে জনকণ্ঠকে বলেন, দায়িত্ব গ্রহণ করার পর থেকে আজ পর্যন্ত কোন অপরাধীকে আড়াল করার কোন চেষ্টা আমাদের কখনই ছিল না, আগামীতেও থাকবে না। কোন ব্যক্তি যে সংগঠনই করুক না কেন আইন-শৃঙ্খলাবিরোধী বা সন্ত্রাসী কর্মকা-ে জড়িত হলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করাই আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দায়িত্ব। তার সাংগঠনিক পরিচয় খোঁজা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাজ নয়। এটাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা।

সম্প্রতি পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শক শফিকুল ইসলামের এক বক্তব্যের প্রেক্ষাপটে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও পুলিশের মহাপরিদর্শক একেএম শহীদুল হককে এই চিঠি পাঠিয়েছেন সরকার সমর্থক যুব সংগঠনটির এই চেয়ারম্যান। গত বুধবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক অনুষ্ঠানে বক্তব্যে ডিআইজি শফিকুল ইসলাম সারাদেশে চাঁদাবাজি ও মাদক বিক্রিসহ বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে যুবলীগের কিছু নেতা ও কর্মীকে দায়ী করে বক্তব্য দেন।

পরদিন বৃহস্পতিবার আইজিপিকে পাঠানো চিঠিতে ওমর ফারুক চৌধুরী বলেছেন, আওয়ামী যুবলীগ যুব সমাজের আদর্শ সংগঠন। যে কোন সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, পেশীশক্তির বিরুদ্ধে যুবলীগ সব সময় সোচ্চার। এ ব্যাপারে আমরা জিরো টলারেন্স নীতিতে অবিচল। তাই যেহেতু একজন দায়িত্বশীল উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা মন্তব্য করেছেন যুবলীগ টেন্ডারবাজির সঙ্গে জড়িত তাই আওয়ামী যুবলীগের পক্ষ থেকে বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি যেÑ যুবলীগের কারা এসব অপরাধ কর্মকা-ে জড়িত তাদের তালিকা আমাদের কাছে প্রদান করুন। আমরা সংগঠনের নিয়ম অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করব। একই ধরনের চিঠি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকেও দেন যুবলীগের চেয়ারম্যান।

এদিকে শনিবার অনুষ্ঠিত যুবলীগের প্রেসিডিয়াম বৈঠকেও চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী এ বিষয়ে কথা বলেন। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, যুবলীগ রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার ‘অর্থনৈতিক মুক্তির’ পদযাত্রায় অগ্রণী ভূমিকা রাখতে বাংলাদেশের যুব সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু গভীর উদ্বেগ ও দুঃখের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, সম্প্রতি ঢাকা এয়ারপোর্ট, মাগুরা, চাঁদপুর, গৌরনদীসহ দেশের বিভিন্নস্থানে কয়েকটি অনাকাক্সিক্ষত ও অপ্রীতিকর ঘটনা সংঘটিত হয়, যা সভ্য সমাজে কোনভাবেই কাম্য নয়।

তিনি আরও বলেন, এই উচ্ছৃঙ্খল কর্মকা-গুলোর সঙ্গে কোথাও কোথাও যুবলীগ নেতা ও কর্মীদের অহেতুক ও অযাচিতভাবে সম্পৃক্ত করে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার হয়েছে যার দায়-দায়িত্ব কোনভাবেই যুবলীগ গ্রহণ করতে পারে না। এ সকল ঘটনা সম্পর্কে সাংগঠনিক তদন্ত করেও যুবলীগের কোন স্তরের নেতাকর্মীর সম্পৃক্ততা খুঁজে পাওয়া যায়নি। আমরা তদন্তের পর নিশ্চিতভাবে বলতে পারি যুবলীগের কোন কমিটিতে এ সকল অপরাধীর কোন অবস্থান তো নেই-ই, এমনকি এরা যুবলীগের কোন পর্যায়ের সমর্থক হিসেবেও পরিচিত নয়। বৈঠকে সাংগঠনিক কর্মকা-ে নিষ্ক্রিয় কেন্দ্রীয় নেতাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা এবং অক্টোবর মাসে জেলা পর্যায়ে সাংগঠনিক সফরের কর্মসূচী ঘোষণা করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ।

এদিকে জালিয়াতি করে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নিজের ছবি জোড়া লাগানোয় ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক মাকসুদুর রহমান মাকসুদকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

একইসঙ্গে কেন তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না, এ মর্মে ১৫ দিনের মধ্যে তাকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, দুই বছর আগে মাকসুদ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নিজের ছবি জোড়া লাগিয়ে তা ফেসবুকে দিয়েছিলেন।