১৩ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শিল্পচর্চার পথ সুগম হোক

সৃজনশীল শিক্ষা কিংবা কাজের জন্য প্রয়োজন বিশেষ পরিবেশ ও ক্ষেত্র বিশেষে স্থান। এমনটা নিশ্চিত না হলে সে উদ্দেশ্য ব্যাহত ও বিঘিœত হয় তা বলার অপেক্ষা রাখে না। পাশাপাশি এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টরাও ভোগান্তির শিকার হন বৈকি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের বর্তমান বাস্তবতা এমনটাই প্রকাশ করছে। দেশের অন্যতম প্রধান ও সুনামের অধিকারী পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন ইনস্টিটিউটের এমন অবস্থা কারও কাম্য হতে পারে না।

চারুকলার মতো একটি সৃষ্টিশীল ও সাধনাধর্মী শিক্ষা পদ্ধতির জন্য প্রয়োজন হয় নিরিবিলি তথা কোলাহলমুক্ত পরিবেশ। কেননা এর কর্মপদ্ধতির সঙ্গে একাগ্রতা, নিমগ্নতা জড়িয়ে থাকে ওতপ্রোতভাবে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের ক্যাম্পাস নগরীর কোলাহলপূর্ণ এলাকায়। মূল ক্যাম্পাস থেকে অন্তত ২২ কিলোমিটার দূরে হওয়ায় আবাসিক বা কিছু অনাবাসিক শিক্ষার্থীকে প্রতি কর্মদিবসে শিক্ষা গ্রহণে যে অবর্ণনীয় কষ্টের সম্মুখীন হতে হয় তা বলাই বাহুল্য। অন্যদিকে কোলাহলপূর্ণ পরিবেশ হওয়ায় চারুকলার মতো শৈল্পিক, নান্দনিক, সুকুমার বৃত্তির ওপর নির্ভরশীল বিদ্যা গ্রহণে যে বিঘœ ঘটে তা সহজেই অনুমেয়। ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীর আবাসিক ব্যবস্থার যে চিত্র পাওয়া যায় তাতে শঙ্কা জাগেÑ জগন্নাথ হলের মতো একটি বিয়োগান্ত ঘটনা ঘটে কিনা। ‘শিল্পী রশিদ হোসেন চৌধুরী হোস্টেল’ নামে যে আবাসিক ব্যবস্থাপনাটি রয়েছে তা ১৯৮৫ সালের জগন্নাথ হল ট্র্র্যাজেডিরও অন্তত ৫ বছর আগেই পরিত্যক্ত ঘোষিত হয়েছে। প্রায় ৩৫ বছর ধরে একটি পরিত্যক্ত বাসস্থানে ঝুঁকির মধ্যে শিক্ষার্থীরা রয়েছে, অথচ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এটা জানে না এমনটা কেউ বিশ্বাস করবে না। এই বাস্তবতা দায়িত্ব পালনে অবহেলা বা উদাসীনতা কিনা তা খতিয়ে দেখা দরকার। একইসঙ্গে চারুকলার স্বাভাবিক বিকাশের পথে অন্তরায় হিসেবে কোন মহল বা গোষ্ঠীর নেতিবাচক মনোভাব কিংবা উন্নাসিকতা কাজ করছে কিনা সেটাও অনুসন্ধানের দাবি রাখে।

এমনিতেই চারুকলা চর্চার আগের মতো সেই পরিবেশ নেই বললেই চলে। শিশু-কিশোর ও তারুণ্যের মধ্যে এই সুকুমার শিল্পের বিকাশ ঘটছে না আশানুরূপভাবে। এটা সামাজিক দৈন্যের প্রকাশ বললে অত্যুক্তি হবে না। কেননা, যে শিল্পীসমাজ তাদের সৃষ্টিকর্মের মাধ্যমে সব ধরনের কূপম-ূকতা, পশ্চাৎমুখী মানসিকতা, প্রতিক্রিয়াশীলতার বিরুদ্ধে সব সময় প্রগতির পথ দেখিয়েছেন, তাদের উত্তরসূরিদের আশাব্যঞ্জক অঙ্কুরোদ্গমই ঘটছে না সেভাবে। এর মূলে কাজ করছে সমাজে বিরাজমান প্রতিক্রিয়াশীল ও মৌলবাদী তথা ধর্ম ব্যবসায়ীদের উত্থান। এ চিত্র সমাজ পিছিয়ে যাওয়ার। বিশ্বের সবচেয়ে উঁচুমার্গের শিল্প চারুকলার চর্চা ও সাধনার পথ যদি সুগম না হয় তবে মনে করতে হবে সমাজ সময় ও প্রগতির পথে অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে। এ অবস্থার অবসান হওয়া জরুরী। এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না, কোন দেশ বা সমাজ কতটুকু উন্নত তার অন্যতম মাপকাঠি সেখানকার শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি।

চারুকলার শিক্ষা, চর্চা তথা সাধনা এবং এর বিকাশে সবার আগে প্রয়োজন এর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিশ্চিত হওয়া। প্রত্যেক আগ্রহী শিক্ষার্থীর তা নিকটবর্তী হলেই সুফল পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে বেশি। একইসঙ্গে নিশ্চিত করা দরকার এর বিশেষ পরিবেশ। কেননা, অন্য আর দশটা শিক্ষা পদ্ধতি ও কার্যক্রমের সঙ্গে এর পার্থক্য রয়েছে।