২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ভারতে এ আর রহমানের বিরুদ্ধে ফতোয়া

সংস্কৃতি ডেস্ক ॥ ইরানী চলচ্চিত্র নির্মাতা মাজিদ মাজিদির পরিচালনায় হযরত মুহাম্মদ (স) কে নিয়ে নির্মিত ‘মুহাম্মদ : মেসেঞ্জার অফ গড’ চলচ্চিত্র নিয়ে যেন বিতর্ক থামছেই না। এই চলচ্চিত্র নিয়ে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো ভারতেও তুমুল সমালোচনা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় এই চলচ্চিত্রে সঙ্গীত পরিচালনা করায় অস্কারজয়ী সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক এ আর রহমানের বিরুদ্ধে ফতোয়া দিয়েছে ভারতীয় সুন্নি মুসলমানদের একটি সংগঠন। চলচ্চিত্রটির নির্মাতা মাজিদ মাজিদির বিরুদ্ধেও ফতোয়া দেয়া হয়েছে। ভারতীয় এক গণমাধ্যম জানিয়েছে, রাজা একাডেমি নামের ধর্মীয় সংগঠনটি ‘মুহাম্মদ : মেসেঞ্জার অফ গড’ চলচ্চিত্রে ইসলাম ধর্মকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপনের অভিযোগ করে মুসলমানদের প্রতি চলচ্চিত্রটি প্রত্যাখ্যানের আহ্বান জানিয়েছে। এতে আরও বলা হয়েছে, চলচ্চিত্রটির নাম গ্রহণযোগ্য নয়, কারণ এটির আপত্তিকর ব্যবহার করার মাধ্যমে মহানবীকে (স) অপমান করা হতে পারে। চলচ্চিত্রের অভিনয়শিল্পীদের পারিশ্রমিক গ্রহণ এবং চলচ্চিত্রে তাদের চরিত্রের প্রকৃতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে রাজা একাডেমি। এছাড়া যাদের বিরুদ্ধে ফতোয়া দেয়া হয়েছে তাদের একবার করে কলেমা পড়া এবং বিয়ের বিধিসমূহ আরও একবার পালন করতে বলা হয়েছে। বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের চলচ্চিত্রটি দেখা থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ জানিয়েছে সংগঠনটি। এই দাবি নিয়ে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্বারস্থও হয়েছেন তারা।

এর আগে ‘মুহাম্মদ : মেসেঞ্জার অফ গড’ নিষিদ্ধের দাবি তোলেন ভারতীয় মুসলমানরা। চলচ্চিত্রটি নিষিদ্ধের দাবি নিয়ে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ইরান দূতাবাসে আবেদন করে ভারতীয় সুন্নি মুসলমানদের সংগঠন রাজা একাডেমি। ভারতীয় গণমাধ্যম জানায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংকে একটি স্মারকলিপি পাঠিয়েছে মুম্বাইভিত্তিক সংগঠনটি। বিশেষ করে এ আর রহমানের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেয়ার হুমকি দিয়েছেন তারা। তাদের দাবি, এই চলচ্চিত্রে সঙ্গীত পরিচালনা করে ভারতীয় মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনেছেন তিনি। ‘মুহাম্মদ : দ্য মেসেঞ্জার অফ গড’ নির্মাণ করেছেন অস্কার মনোনয়ন পাওয়া ইরানী পরিচালক মাজিদ মাজিদি। মহানবী (স)- এর জীবনের ওপর তিনটি চলচ্চিত্র নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। প্রথম পর্বে দেখানো হয়েছে মহানবী (স)-এর শৈশবের গল্প। তবে পুরো চলচ্চিত্রে তাঁর চেহারা দেখানো থেকে বিরত থেকেছেন মাজিদি। ইসলাম ধর্মে মহানবী (স)-এর কোন ধরনের চিত্রায়ন সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ।